somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

বরেণ্যসঙ্গীত পরিচালক সত্য সাহার ৮৩তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার এবং সংগীত পরিচালক সত্য সাহা। এদেশের সংগীতের বিস্ময়কর প্রতিভা সংগীত পরিচালক সত্য সাহা। এক অনন্য ধ্রুবতারা হয়ে বাংলাদশেনে চলচ্চিত্রে ঝলঝল করছে তাঁর নাম। অনেক গুণী এবং সরল মনের মানুষ ছিলেন সত্য সাহা। তাইতো জমিদার পরিবারের হয়েও শুনিয়েছেন সাধারণ মানুষের জীবন কথা। রেখে গেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। বেতার, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র_সব মাধ্যমেই সমান শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তাঁর গান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম হারিয়েও আবেদন হারায়নি তার ‘নীল আকাশের নিচে আমি’, ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা’, ‘দুঃখ আমার বাসর রাতের পালঙ্ক’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, ‘আমার মন বলে তুমি আসবে’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’, ‘তুমি কি দেখেছো কভু’, ‘ঐ দূর দূরান্তে’, ‘তোমারই পরশে জীবন আমার’, ‘মাগো মা ওগো মা’- ইত্যাদি গানগুলো। বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পী-সংগীত পরিচালকেরা এই গানগুলো নিয়ে আজও কাজ করছেন, রিমেক করছেন। সত্য সাহার মেলোডির যাদুতে চলচ্চিত্রের বাইরে প্রচুর আধুনিক গানও সমানভাবে শ্রোতাদৃত। স্বভাবতই সেসব গানও আজ কালজয়ী। তার গানেরা কোনোদিন তাকে ভুলতে দেবে না। আজ এই কালজয়ী সঙ্গীত পরিচালকের ৮৩তম জন্মদিন। ইংরেজী ১৯৩৪ সালের আজকের দিনে তিনি চট্রগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বরেণ্যসঙ্গীত পরিচালক সত্য সাহার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।

সত্য সাহা ১৯৩৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাধীন নন্দীরহাট জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নন্দীহাট গ্রামের জমিদার প্রশন্ন কুমার। ছোট বেলা থেকেই গানের আবহ পেয়েছিলেন পরিবার ও চারপাশে। বাংলায় সেই সময়টা তখন সংগীতের সোনালী যুগ। সত্য সাহার সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় পিতৃব্য রবীন্দ্রপাল সাহার কাছে। ১৯৪৬-১৯৪৮ এর মাঝামাঝি সময়ে সত্য সাহা নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ স্কুল থেকে এণ্ট্রান্স পাশ করেন। এখানে অধ্যয়নকালে তিনি পন্ডিত সুপর্ণা নন্দীর কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ভজন গানেও কিছু পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ভারতের কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে সুরকার পঞ্চানন মিত্রের সহকারী হয়ে সঙ্গীত পরিমন্ডলের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা গানের ভান্ডারকে। আজও তার সুরারোপিত গানগুলো দেশীয় সংগীতাঙ্গনে উজ্জ্বল। ১৯৫৮-১৯৫৯ সালের মধ্যে সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি বারোটি ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে তিনি বেতার শিল্পীর মর্যাদায় তালিকাভুক্ত হন। এ সময় তোমার আমার ছায়াছবিতে তাঁকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা গেলেও সঙ্গীত পরিচালকরূপে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং (১৯৬৪) ছায়াছবির মাধ্যমে। এ ছবিতে তাঁর বিখ্যাত গান ছিল ‘তুমি আসবে বলে, ভালবাসবে বলে’। এ ছবির আগে সত্য সাহা তাঁর জীবনের প্রথম ছবি জানাজানির কাজ শুরু করেন, কিন্তু সুতরাং ছবির পরে জানাজানি মুক্তি পায়। সত্য সাহার স্ত্রী রমলা সাহার প্রযোজনায় আশির দশকে নির্মিত বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অশিক্ষিত ও ছুটির ঘণ্টা ছবির কাহিনী, চিত্র, সংলাপ ও সঙ্গীত তৎকালীন বাঙালি সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায়। বাংলা ভালো চলচ্চিত্রের সঙ্কটকালে এ ছবি দুটি সেসময় অসংখ্য দর্শক-মনে স্থান করে নেয়। সত্য সাহার সযত্ন সঙ্গীত পরিচালানায় এ ছবির গানগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে সত্য সাহা কোলকাতার স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংসদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। জহির রায়হানের উদ্যোগে লিবারেশন ওয়ার ফিল্মস নামে চারটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় একাত্তরে। দুটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান নিজে,‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘এস্টেট ইজ বর্ণ’। অন্য দুটি আলমগীর কবিরের পরিচালনায় ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরীর পরিচালনায় ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’। চারটি ছবিই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। চারটি ছবিরই সংগীত পরিচালনা করেন সত্য সাহা। ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে প্রায় দুশো ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনা এবং বিশটি ছায়াছবি প্রযোজনা করে সত্য সাহা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।

দীর্ঘ সংগীত জীবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মান পেয়েছেন সত্য সাহা। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সংগীত উৎসবে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয় তাকে। তাঁর সুযোগ্য দুই সন্তান সুমন সাহা ও ইমন সাহা বর্তমানে দেশের সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের যারা সংগীত পরিচালনা করছেন, তাদের তালিকায় ইমন সাহার নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে স্থান পায়। উল্লেখ্য ইমন সাহা একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন সনামধন্য সংগীত পরিচালক হিসেবে। ১৯৯৯ সালের ২৭ জানুয়ারি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন গুণী এই সংগীত পরিচালক। সংগীতের বিস্ময়কর প্রতিভা সংগীত পরিচালক সত্য সাহা আজ আমাদের মাঝে নাই তবুও এক অনন্য ধ্রুবতারা হয়ে বাংলাদশেনে চলচ্চিত্রে ঝলঝল করছে তাঁর নাম। গুণীরা কারো অপেক্ষায় থাকেন না প্রশংসিত হবেন বলে। তারা কাজ করে যান শিল্প সৃষ্টির উন্মাদনায়। সেই কাজই তাকে বাঁচিয়ে রাখে আজীবন, সকল অন্তরে। আজ এই কালজয়ী সঙ্গীত পরিচালকের ৮৩তম জন্মদিন। ইংরেজী ১৯৩৪ সালের ২৫ ডিসেম্বরতিনি চট্রগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বরেণ্যসঙ্গীত পরিচালক সত্য সাহার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×