
চলতি বছর বিশ্বে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৬৫ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। এর মধ্যে ৫০ জনই পেশাদার রিপোর্টার বা প্রতিবেদক। গত ১৯ ডিসেম্বর'১৭ ইং প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন "রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সে"র (আরএসএফ) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ৬৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন সরাসরি খুন হয়েছেন। বাকিরা বিমান হামলা বা আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। এ বছর সাংবাদিক হত্যার যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তা গত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আগের চেয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও এলাকা এড়িয়ে চলেছেন বলেই মৃত্যুর এই হার কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিন শতাধিক গণমাধ্যম কর্মী কারারুদ্ধ আছে। এদের প্রায় অর্ধেকই তুরস্ক, ইরান, চীন, সিরিয়া ও ভিয়েতনামের কারাগারে বন্দী। এশিয়ার মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক (৫ জন) নিহত হয়েছেন ফিলিপিন্সে। আরএসএফের মতে, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতের্তে গত মে মাসে ‘তুমি যদি পশুর সন্তান হও, তাহলে সাংবাদিক হলেও মনে কর না খুন হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারবে’ এ বক্তব্য দেয়ার পর থেকেই এদেশটিতে সাংবাদিক খুনের হার আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে গেছে। অথচ গত বছর ফিলিপিন্সে কোন সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক খুন (৪ জন) হয়েছেন ভারতে। এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চলতি বছর বাংলাদেশেও সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক সমকালের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। আরএসএফ জানায়, সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে বিগত কয়েক বছরের মতোই এবারও ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। সেখানে এ বছর ১২ সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আর মাদক সম্রাটদের দেশ মেক্সিকোতে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ সাংবাদিক। সবচেয়ে আলোচিত ছিল মেক্সিকোতে এএফপির প্রদায়ক জাভিয়ের ভালদেজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। মাদকের অন্ধকার জগত নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য বিপুল জনপ্রিয় ভালদেজকে মে মাসে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে মেক্সিকোজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এএফপি।
সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


