somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

দু'বার দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের ৮৭তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের প্রখ্যাত আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি এবং দু'বার দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যুগান্তকারী রায় প্রদান এবং রাজনীতিবিদ না হয়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক আলোচিত নাম বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথমে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর হতে ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকা-কালীন ১৯৯৬ সালের ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়নের পর কোনো প্রতিদন্দ্বিতা ছাড়াই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্বটুকু শতভাগ পালন করেছেন। কোনো ভয়ের কাছে মাথানত করেননি। যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খুবই সীমিত, এই সীমিত ক্ষমাতার মধ্যে থেকেই তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার সততা এবং প্রজ্ঞা দ্বারা বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান জয় করেন। দুই দফায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং দীর্ঘ সময় প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতেন। সাহসিকতার সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি এখনো সবার কাছে নিরপেক্ষতা, সততা ও আস্থার প্রতীক। আজ বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী। জন্মদিনে বিচারপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমদকে জানাই ফুলেল শুভেচ্ছা।


বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তালুকদার রিসাত আহমেদ। তিনি একজন সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ও ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথমে লাহোরে ও পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে গোপালগঞ্জ ও নাটোরের মহকুমা কর্মকর্তা, সহকারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগে বদলি করার পর ঢাকা ও বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭২ সালে হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তখন বাংলাদেশের সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী সম্পর্কিত মামলায় তার দেয়া রায় এক যুগান্তকারী রায় বলে বিচারাঙ্গনের সবার কাছে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে। এতে বাংলাদেশের সংবিধানের পরিশোধনের পথ উন্মুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদের রাজনীতিতে আসাটা কিছুটা নাটকীয়। ৫ ডিসেম্বর ১৯৯০, মওদুদ আহমেদ উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলে তিনি উপ-রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্টিত হন। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হবার পর, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শূন্য রাষ্ট্রপতির পদে এবং নির্বাচন হবার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানরূপে কে আসীন হবেন তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছিল না। এক দল অন্য দলের প্রার্থীর প্রতি অনাস্থা পোষণ করছিল। অবশেষে যখন বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নাম এলো তখন দুটি দলই এক মত পোষণ করল যে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন-ই একটি সুষ্ঠ ও সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারেন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯১ সালে তার অধীনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী তিনি আবার তার মূল পদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকা-কালীন ১৯৯৬ সালের ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়নের পর কোনো প্রতিদন্দ্বিতা ছাড়াই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রপতির পদ হতে অবসর গ্রহণ করেন।


৮৭ বয়সী সাবেক এই রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা এখন মোটেই ভালো নেই। জীবন সঙ্গিনী আনোয়ারা বেগম প্রায় তিন বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে নিঃসঙ্গতা আরো বেড়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সব সময়ই প্রচারবিমুখ মানুষ। মিডিয়ার মুখোমুখি হতে চাইতেন না। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষে তিনি একেবারেই নীরবে-নিভৃতে থাকতেন। এখনো তেমনই আছেন। এ ব্যাপারে একটুও বদলাননি। মিডিয়ার মুখোমুখি হননি। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র আসে। কিন্তু তিনি কোথাও যান না। এক সময় একান্ত পারিবারিক কিছু অনুষ্ঠানে যেতেন। তবে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর নেয়ার পর আর কোনো ধরনের অনুষ্ঠানেই যাননি।গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ‘গ্রান্ড প্রেসিডেন্ট কনকর্ড’ নামের ভবনের ফ্ল্যাটে ছোট ছেলে সোহেল আহমদ, পুত্রবধূ ও নাতির সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি বসবাস করছেন। তারাই রাষ্ট্রপতির দেখাশোনা করেন। ছেলে ও পুত্রবধূ সব সময় বাসায় থাকেন না। এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতিকে দেখাশোনার জন্য কেয়ারটেকার রয়েছে। অন্য ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি আক্রান্ত। মূলত, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়েই তার শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থতার কারণে তেমন কথা বলতে পারেন না। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন। আগে দুজন পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সকালে হাঁটতে বের হতেন। বাসার পাশের সড়কে হেঁটে আধা ঘণ্টার মধ্যেই আবার চলে আসতেন। কিন্তু অনেক দিন আর বাইরে হাঁটতে বের হন না। বাসার নিচেও নামেননি বেশ কয়েক মাস হয়েছে। এখন পুলিশ সদস্যরাও এখানে আসেন না। প্রচারবিমুখ সাদা মনের প্রসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন আহমদের আজ জন্মবার্ষিকী। জন্মদিন বিচারপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমদকে জানাই ফুলেল শুভেচ্ছা।

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×