somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

যে জাতের যা !! ভূতুম পেঁচা

১২ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১। যে জাতের যাঃ ছোট বেলায় মক্তবে আম ছিপাড়া পড়তাম। অনেকেই পড়তেন। সবার কিছু স্মৃতি থাকে সেই সময়কার মক্তবে পড়ার। আমারও কিছু স্মৃতি আছে মক্তবে আম ছিপাড়া পড়ার। তার কিছুটা মধুর কিছুটা তিক্ততা আর কিছুটা মজার! মধুর তিক্ততার কথা না হয় নাই বললাম। মজার ঘটনাটা বলিঃ
আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ে র করে পড়তাম আলিফ যবর আ, বা যবর বা তা যবর তা, -----------------------যা যবর জা,
আমাদের সহপাঠি এক দূরন্ত ছাত্র সবার সাথে সুর লাগিয়ে বলতো আলিফ যবর আ, বা যবর বা তা যবর তা, -----------জে জাতের যা !!
আজ মনে হয় সত্যি যে জাতের যা , সে জাতেরই রয়ে যাবে ! তাকে পরিবর্তণ করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। লালন ঠিকই বলেছিলেন জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা। আজ থেকে দেড়শতাধিক বছর আগের অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ হয়েও কি গভীর সত্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। দুঃখ হয়, এত কিছুর পরও মানুষ প্রজাতির সমগ্র-বোধের বিন্দুমাত্রও কি তাতে পরিবর্তন হয়েছে?

২। সহজাত প্রবৃত্তিঃ সহজাত প্রবৃত্তি হল কোন জীবের আচরণের একটি অংশ। স্নায়বিক প্রক্রিয়াসম্পন্ন প্রাণীরা সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মায়। এটি জন্মগতভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, অর্জিত নয়। বুদ্ধি এবং জ্ঞান এক বা সমার্থক নয়। বুদ্ধি হচ্ছে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আর জ্ঞান হচ্ছে বুদ্ধি দ্বারা অর্জিত গুণাবলী। মহান আল্লাহ মানুষের মন ও মগজে বুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। যাতে মানুষ বুদ্ধির সাহায্যে সঠিক শিক্ষা লাভ করতে পারে। আল্লাহর একত্ব, তার উৎস ও মৌলিকত্বকে ধারণ করে বহুমুখী জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আর সেই অর্জিত জ্ঞান দিয়ে মানুষের ইহ ও পারলৌকিক উপকার সাধন করতে পারে, কল্যাণ করতে পারে মানুষ ও মানবতার। বুদ্ধিজীবি আর জ্ঞানজীবি এক কথা নয়। যারা জ্ঞান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে তারা জ্ঞানজীবি, বুদ্ধিজীবি নয়।

৩। মুর্খদের সাথে তর্ক করা বোকামীঃ একজন সাহাবি বলেছিলেন, মূর্খের সাথে কখনো তর্ক করিও না কারন সে তোমাকে তার লেভেলে এনে তোমাকে হারিয়ে দিবে। তাই যখনই কারো সাথে যুক্তিতর্ক করার সময় দেখবেন সে বারবার কথার প্রসংগ পাল্টাচ্ছে আর আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে তখনই ধরে নিবেন মূর্খ আপনার সামনে। মুর্খদের অযোক্তিক প্রশ্নের উত্তম জবাব হল চুপ থাকা যদিও সে মনে করে আপনি তার কাছে হেরে গেছেন। এটাই তার আত্মতৃপ্তি। হযরত হাসান বসরী রাঃ বলেনঃ তুমি তাদের মতো হয়ো না, যারা আলেম ও দার্শনিকদের মতো জ্ঞান রাখে; কিন্তু মুলত আমলে মুর্খদের সমান।

৪। অগভীর জলে সফরী ফরফরায়তেঃ অর্থাৎ যার বিদ্যা বুদ্ধি কম সে নিজেকে পণ্ডিত জাহির করার জন্য বেশী বকে। সে শোনে কম বলে বেশী। একবার এক সভায় এমনই এক লোক তার বিদ্যা জাহির করার জন্য বিভিন্ন দেশের দর্শনীয় স্থান সমূহের নাম বলে সেখানে গিয়েছে বলে দাবী করতে লাগলো। তার কথা শুনে একজন বললো জিওগ্রাফি সম্পর্কেতো আপনার বেশ অভিজ্ঞতা। লোকটি বললো ও জিগ্রাফি ! ওখানেও তো আমি ১ সপ্তাহের মতো ছিলাম !!

৫। অপাত্রে উপদেশ দেওয়া বৃথাঃ হিন্দু ধর্মে কোন অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্য করতে পাঠা বলির প্রচলন আছে। ঠাকুর পাঠাকে সারা রাত মন্ত্রবনী পাঠ করে পাঠাকে পবিত্র করতে চাইলেও পাঠা এক কান ঝাড়া দিয়ে তার জবাব দেয়। প্রবাদ আছে ঠাকুরের মন্ত্রপাঠ আর পাঠার কান ঝাড়া। এমনি চোরের কাছে ধর্মের কাহিনী বলা আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো একই কথা। চোর কোন মূল্যবান দ্রব্যাদি দেখলে যেমন লোভ সামলাতে পারেনা, তেমনি মূর্খদের কাছে উপদেশ বানী কপচলেও তা আমলে নিবেনা।

৬। ভূতুম পেঁচাঃ পেঁচার কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় পড়া সুকুমার রায়ের ছড়াটি
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি,
খাসা তোর চ্যাঁচানি !
শুনে শুনে আনমন
নাচে মোর প্রাণমন !

লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা নিঃসঙ্গ নিশাচর পাখি পেঁচা। এর ইংরেজী নাম Brown Fish Owl (Bubo zeylnensis) এরা লম্বায় ৫৬ সে.মি., বড় কানওয়ালা লালচে-পাটকিলে পেঁচা। লম্বা লম্বা কালো টানে পিঠ ভর্তি, তলা সাদাটে-লালচে, তার উপর ঢেউ ছিট। ঘাড়ে ও গলায় সাদা ছোপ। চোখ উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ, চঞ্চু মলিন ধূসর। পালকহীন পা ও আঙুল ধোঁয়াটে হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। খাদ্য মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ও সরীসৃপ। সাধারণত জোড়ায় থাকে। সন্ধ্যের দিকে মুখে 'বুম বুম' ডাকে। অনেক দেশ এবং ধর্মে পেঁচাকে একটি অশুভ পাখি হিসেবে দেখা হয়। মধ্যযুগে ইউরোপে পেঁচাকে একটি অশুভ পাখি হিসেবে দেখা হতো। তাই এই পাখি দেখার সাথে সাথে পুড়িয়ে মারার প্রথা ছিল। পেঁচাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একধরনের ভয় কাজ করার অন্যতম কারণ হলো এই পাখির দেখা খুব সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে দিনের আলোতে পেঁচার দেখা পাওয়া এককথায় অসম্ভব। নিশাচর পাখি পেঁচা অনেকটা নিঃসঙ্গও বটে। খুব একটা লোকসমুক্ষে তাদের বিচরণ নেই। নির্জন পরিবেশে থাকতেই পেঁচা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। গাছের উঁচু মগডাল, ঘনপাতার আড়াল, পরিত্যক্ত বাড়ি, গাছের কোটর, অপেক্ষাকৃত অন্ধকার স্থানে পেঁচা বসবাস করে। মূলত লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেকে গুটিরে রাখার জন্যেই পেঁচার এই ব্যবস্থা।

কৈফিয়তঃ অদ্যকার এই খাপছাড়া লেখাটি কারো উদ্দেশ্য করে লেখা নয়।
তার পরেও যদি কাকতালীয়ভাবেকারো চরিত্রের সাথে মিলে যায় তা হলে তা সর্ম্পূর্ণভাবে অনভিপ্রেত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×