somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের (বরিশাল স্টীমারঘাটের সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বলেছিলেন, বরিশাল হচ্ছে প্রাচ্যের ভেনিস) উজিরপুর ধানাধীন সাতলা গ্রামে। পিতা প্রাইম

চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার তারেক মাসুদের ৬২তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আবু তারেক মাসুদ। যিনি তারেক মাসুদ নামেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। বিকল্পধারার চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ নির্মাতা তারেক মাসুদ।তারেক মাসুদ একাধারে ছিলেন একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার। কিংবদন্তী মেধাবী সিনেমা নির্মাতা আলমগির কবির ছিলেন তাঁর সিনেমাগুরু। আহমদ ছফার বিশেষ ভক্ত ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে আধুনিক ভাষা ও সমকালীন বিষয়াবলী জোরালোভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বিকল্পধারার প্রবাদপুরুষ। নিজের নির্মিত ছবিকে তিনি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হেঁটে গেছেন বহুদূর। বিভিন্ন অঞ্চল, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর কৌশল তিনিই প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। আদম সুরত, মুক্তির গান, মুক্তির কথা, মাটির ময়না, অন্তর্যাত্রা ও রানওয়ের মতো ছবি দিয়ে এই নির্মাতা বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। তার চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারে স্থান পেয়েছিল। তারেক মাসুদের প্রথম কাজ ‘আদম সুরত’ (দ্য ইনার স্ট্রেংথ)। এটি মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। এসএম সুলতানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র এটি। আদম সুরতের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালে। ধারণ কাজ সম্পন্ন হয় চিত্রাপাড়ে। তারেক মাসুদ বলেছিলেন, ‘চিত্রা নদীর পারে থাকেন চিত্রশিল্পী সুলতান। আমরা যখন সুলতান ভাইয়ের ওপর ছবি বানাতে এলাম, তখন চিত্রাই হয়ে গেল সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু।’ বাংলাদেশের ২০০৫-০৬ সালে চলমান মৌলবাদ ইস্যু নিয়ে নির্মিত হয় রানওয়ে চলচ্চিত্রটি। ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদ ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্পের নারীশ্রমিক, ক্ষুদ্রঋণনির্ভর এনজিও কার্যক্রম এবং বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনার মতো বিষয় নিয়েও তার বক্তব্য তুলে ধরেন তারেক মাসুদ। ২০১০ সালে যে কথা তারেক মাসুদ বলতে চেয়েছিলেন, এ মুহূর্তে সেটাই সত্য হিসেবে দেখা দিয়েছে গুলশান হামলার বাস্তবতায়। সেদিক থেকে এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যে দূরদর্শিতার পরিচয় নির্মাতা দেখিয়েছিলেন, তা আজও অসামান্য বলেই মনে করেন অনেকে। সাত বছর আগে ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যান। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নির্মাতার আজ ৬২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৬সালের আজকের দিনে তিনি ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


তারেক মাসুদ ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ ও বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ। ভাঙ্গা ঈদগা মাদ্রাসায় প্রথম পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে মৌলানা পাস করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার মাদ্রাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধের পর তিনি সাধারণ শিক্ষার জগতে প্রবেশ করেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ছয় মাস পড়াশোনার পর বদলি হয়ে নটর ডেম কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু এসময়ে তাকে বেশিরভাগই তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজে (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) কাটাতে দেখা যেত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখক শিবির, বাম আন্দোলন এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। চলচ্চিত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচয় হয় মোরশেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেল, শামীম আখতারের সাথে। দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক অসংখ্য কর্মশালা এবং কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। দেশে তিনিই প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলনের সূচনা করেন। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’র জন্য ২০০২ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টর ফোর্টনাইটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ২০০২ সালে নির্মিত হয় ‘মাটির ময়না’। এটি নিঃসন্দেহে তারেক মাসুদের তৈরি অন্যতম সেরা কাজ। ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে এটি জিতে নেয় ‘ফিপরেস্কি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস প্রাইজ’। এ ছাড়া অস্কারে ‘সেরা বিদেশি ভাষার ছবি’ ক্যাটাগরিতে প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে ‘মাটির ময়না’-কে মনোনয়ন দেয়া হয়। ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ষাটের দশকের বাংলাদেশ, মানুষের জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের প্রভাবের সংমিশ্রণে। আনু গ্রামের এক রক্ষণশীল মুসলিম ঘরের ছেলে। তার বাবা কাজী সাহেব। কাজী সাহেব ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশে ভর্তি করে দেন মাদ্রাসায়। যুদ্ধ শুরু হয়। চলচ্চিত্রের একটি অংশে দেখা যায় বাউল গান। তার অন্য ছবিগুলোও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। তারেক মাসুদ মানুষের জন্য সিনেমা বানাতেন। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সকল ক্ষুদ্র জিনিস থেকে তিনি তাঁর অফুরন্ত ভালোবাসার উৎস খুঁজে নিতে পারতেন। দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের জীবনের স্বরূপ খুঁজে পাবে এমন এক স্বপ্ন নিয়েই সিনেমা বানিয়েছেন তারেক মাসুদ।


ব্যক্তিগত জীবনে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ একজন মার্কিন নাগরিক। ক্যাথরিন এবং তারেক মিলে ঢাকায় একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যার নাম অডিওভিশন। চলচ্চিত্র নির্মাণ ছাড়া তারেক মাসুদের আগ্রহের বিষয় ছিল লোকসঙ্গীত এবং লোকজ ধারা। এই দম্পতির 'বিংহাম পুত্রা মাসুদ নিশাদ' নামে এক ছেলে আছে। তারেক মাসুদের ভাগিনেয় ভাই নজরুলগীতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। তারেক মাসুদের চাচাত বোন তাহমিনা রাব্বানি শাম্মি ও ছোটো ভাই হচ্ছেন নাহিদ মাসুদ।বিকল্প ধারার এই চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ ২০১১ সালে ১৩ আগস্ট তার নতুন চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর দৃশ্যধারণের স্থান নির্বাচন করে মানিকগঞ্জ থেকে ফেরার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দেশীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ২০১২ সালে (মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয়। ‘মাটির ময়না’ এর স্রষ্টা খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের আজ ৬২তম জন্মদিন। তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর ২০১২ সালে বিভিন্ন সময়ে লেখা তার চলচ্চিত্র সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলোকে একত্র করে একটি বই প্রকাশিত হয় "চলচ্চিত্রযাত্রা" নামে। বইটিতে ভূমিকা লিখেছেন তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। লেখক হবার একটা টান সবসময়ই তার মাঝে ছিল। তিনি বলেছিলেন চলচ্চিত্রকার না হলে লেখক হওয়ার চেষ্টা করতাম।তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডুডল করেছে সার্চ জায়ান্ট গুগল। এই ডুডলে দেখা যাচ্ছে, ততেক মাসুদের অনবদ্য সৃষ্টি মাটির ময়নার আদলে একটি প্রতিকৃতি রূপ। প্রতিকৃতিকে ধরে আছে একটি হাত। তার চারপাশে তিনটি ফুল। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার তারেক মাসুদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
nuru.etv.news@gmail.com
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অগ্রহায়ণের অনুরণন!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০৮




ভেজা আচঁলের খুটে বেঁধে রাখা কিছু মমতা
জমিয়ে রাখি।
ফজর শেষের স্নিগ্ধতা যখন সমস্ত চরাচরে
দরদী দোয়ায় সিক্ত করে -
মুঠোভরে তুলে রাখি তার দু এক ছটাক।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুইটি আপু

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩


সুইটি আপুর তাড়া আছে
চালাও রিকশা জোরে
রিকশাওয়ালার পা চলেনা
কেমনে চাকা ঘুরে।

সুইটি আপুর ওজন ভারি
চেষ্টা চলে তবু
মাজা খিচে পা চলেনা
সহায় হও প্রভূ।

সুইটি আপু রাগলে ভারি
গালাগালি সাথী
চড় থাপ্পড়ে মন ভরেনা
মারল পাছায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতার মৃত্যু নেই *****************

লিখেছেন , ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩২

কবিতার মৃত্যু নেই
******************************


কবিতা তো নয় শুধু নিছক কল্পনার স্তুপ,সময়ের সাথে এযে হয়না বিলীন!
কবিতার হৃদপিণ্ডে আছে ভাষা কম্পনের সিম্ফোনি;সুর লহরী চিরকালীন।

কবিতার অন্তর্গত শব্দের শয়ানে সুপ্ত এক বিশাল পৃথ্বী,
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণজোয়ার কিংবা পুঁটি মাছের মত ভোট...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০১



১. আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী, সমর্থক গণ এক ধরনের ট্রমার মধ্যে আছে। তারা ভাবতেই পারেনি(এমনকি বিএনপি সমর্থকরাও না) শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি-র নেতারা ১৩ কোটি টাকা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের আলোয় - মাইলস (লিরিক্স) পথ চলার গান যখন জীবনের ভালোবাসা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৪৬



শীতের দিন, দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসে, গ্রামের বাড়ী হতে কোলাহল মুখর ঢাকা ফিরে আসছি আবার সেই কর্ম ব্যাস্ততা, রুটিন জীবন যাপন, ছাত্র বয়ষে ভাবতাম কবে পড়ালেখা শেষ হবে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×