somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর হাসি ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশেরঃ কিছু টুকরো কথা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপ-মন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন। এখানে ২৪ পূর্ণ মন্ত্রীর ৯ জনই নতুন মুখ। এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন তিনজনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন। উপমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজনই প্রথমবার স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। এদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নবীনরাই স্থান পেয়েছেন এবারের মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভার এই সদস্যরা সোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় উল্লেখিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বঙ্গভবনে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের নামের তালিকা ও দফতর ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন সদস্যদের নামের প্রজ্ঞাপন হবে সোমবারের মধ্যেই। উল্লেখ্য বিগত মন্ত্রিসভার ২৫ মন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শরিক দলেরও কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। আশা করি নতুন বছরের নতুন সরকারের নতুন মন্ত্রীসভা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।


২। যুক্তির কারণে হুমকিতে পড়তে পারে চিকিৎসক, আইনজীবী, স্থপতি, হিসাবরক্ষক, যুদ্ধবিমানের পাইলট, পুলিশ ও গোয়েন্দা এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। এদের কর্মক্ষেত্রে দখল নেবে রোবট। চাহিদা থাকবে কেবল সৃষ্টিশীল কাজের। আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহূত হচ্ছে রোবট প্রযুক্তি। মানুষের জীবনকে সাবলীল করে তুলতেই প্রযুক্তির আবিষ্কার রোবট। অন্যভাবে বললে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আজ মানুষের জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে। রোবট এমনই এক ‘করিত্কর্মা’ যে কিনা একাই একসঙ্গে শত মানুষের কাজ করে দিতে সক্ষম। কিন্তু প্রযুক্তির এই উৎকর্ষই মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। গবেষক জন পুগলিয়ানো বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে অন্তত সাতটি পেশা হুমকিতে পড়বে। তার মতে, এটি একই সঙ্গে পৃথিবীর সব জায়গায় না ঘটলেও অন্তত উন্নত দেশগুলোতে এই আশঙ্কা সত্যি হতে পারে। যদিও এ মুহূর্তে এসব পেশাকে নিরাপদই মনে করা হচ্ছে।


৩। আজ থেকে সৌদি আরবে নতুন বিয়ে বিচ্ছেদ আইন চালু যা নারীদের স্বার্থরক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। দেশটিতে অনেক সময় স্ত্রীদের না জানিয়েই বিচ্ছেদ করেন স্বামীরা। তাতে অসম্মতি জানানো তো দূরে থাক, অনেক সময়ে খোরপোশের আবেদনটুকু জানানোর সুযোগ পান না স্ত্রীরা। সেই সব মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সৌদি আরবের সরকার। এবার থেকে আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করার আগে অন্তত মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে স্ত্রীকে সে কথা জানাতে হবে। নতুন নিয়ম চালু হলে মেয়েরা বিচ্ছেদ পরবর্তী সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ সবই সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের অংশ। দেশের সাধারণ মানুষদের যে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেগুলো সফল করতেই মেয়েদের আইনগুলোকে সহজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি জনসমক্ষে মহিলাদের গাড়ি চালানোর অধিকার দিয়েছেন। এছাড়া স্টেডিয়ামে পুরুষদের পাশে বসে ফুটবল ম্যাচ দেখার অনুমতি দিয়ে এই ধরনের দৃষ্টান্ত সরকার আগেই রেখেছে। বিয়ে বিচ্ছেদের এই আইন সেই তালিকায় নবতর সংযোজন।


৪। ভারতের নাগরিকত্ব চান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জয়া আহসান। এপার এবং ওপার বাংলায় বেশ জনপ্রিয় জয়া আহসান। দু’জায়গায় সমান ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জয়া বলেন, বাংলাদেশে যেমন দর্শক তার কাজ পছন্দ করেন তেমনি ওপার বাংলা থেকেও অনেক ভালবাসা পেয়েছেন তিনি। তাছাড়া ওপার বাংলায় কাজ করে অনেক কিছু শিখেছেন বলে দাবী তার। তিনি জানান, অনেকের সঙ্গে কাজ করতে চান আগামী দিনে। আর কাজের ব্যাপারে খুবই দুঃসাহসী তিনি। তার বক্তব্য, ওপার বাংলায় সহজেই সবাইকে ‘তুই’, ‘তুমি’ বলা যায়, বাংলাদেশে এমন হয় না। তবে এই ডাকে যে ভালবাসা রয়েছে তা তিনি খুবই উপভোগ করেন। তাই ভারত সরকারের অনুমতি পেলে তিনি সেদেশের নাগরিকত্ব নিতে চান।


৫। স্মার্ট ফোনের কারণে যৌন আসক্তি হারাচ্ছে দম্পতিরা। মনের সঙ্গে শরীর। এই দুই এর ঠিক মিলমিশই বিশ্বের যে কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক বিবাহিত সম্পর্কের বুনিয়াদ বলে মনে করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ যৌনতা কেবল সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে এমনই নয়, মানসিক অবসাদ দূর করা, জীবনীশক্তি বাড়ানো ইত্যাদি নানা ইতিবাচক দিক রয়েছে এর। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, যৌন জীবনে নিরাসক্তি ও বিছানায় অনীহা বিশ্বের প্রায় সব দেশের দম্পতিদের মধ্যেই দেখা দিচ্ছে। আর তার মূলে রয়েছে স্মার্টফোন! সম্প্রতি এক যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার গবেষণায় উঠে এল এমনই চমকপ্রদ তথ্য! লিভ টুগেদার হোক বা বিবাহিত সম্পর্ক— সব ক্ষেত্রেই যৌন জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বেডরুমেও স্মার্টফোনের হাতছানি। আর সোশ্যাল মিডিয়ার এই মোহপাশ কেটে সঙ্গীর দিকে মন দেওয়ার সময়ই থাকছে না কারও! এমনকি, সদ্য বিবাহিতরাও বাদ নন এই তালিকা থেকে। ফলে ‘কোয়ালিটি টাইম’-এর হাহাকার বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে নানা সামাজিক ও সাংসারিক জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার দম্পতির উপর চালানো সমীক্ষা থেকে জানা যায়, তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই একান্ত নিজস্ব সময়ও রতিক্রীড়ার চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন মোবাইল ফোনে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৫৫ শতাংশের মত, কেবল যৌন জীবনই নয়, অত্যধিক ফোন ব্যবহারের কারণেই নিজেদের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কও ব্যাহত হচ্ছে। ৩৫ শতাংশ জানাচ্ছে, মোবাইল আসক্তির কারণে তাদের মধ্যে বিশেষ কোনও শারীরিক সম্পর্ক নেই বহু দিন ধরেই।


৬। প্রতিদিনের সংবাদ পত্রের পাতা খুন, ধর্ষণ, রাহাজানী, গুম-ছিনতাইসহ বিভিন্ন দুর্নীতির খবর পড়ে উদ্বিঘ্ন হই। সমাজের কিছু নষ্ট মানুষ নামের অমানুষ আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। ঘুষ-দূর্নিতির মূল উৎপাটনে ব্যর্থ হয়ে মাননীয় মন্ত্রীবর'রা বলতে বাধ্য হন ঘুষ খাবেন সহনীয় মাত্রায়!! এমন নষ্ট সময়ে কি করে আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ জীবন অতিবাহিত করবে? যেখানে বাতাসে বিষ, মাছে ফরমালিন, শিশুখাদ্যসহ জীবন রক্ষাকারী ঔষধে ভেজাল। ভেজাল আমাদের কথায়ও কাজে। একবারও কি আমরা ভে্বে দেখি কিসের জন্য এই দূর্নীতি? কাদের জন্য এই অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের পাহাড়? নিজের পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে লক্ষ পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসি ছিনিয়ে নিবার অধিকার কি আপনার আছে? নিজের বিবেক কে জাগ্রত করুণ, দুর্নীতি ও গর্হিত কাজ পরিহার করে সমাজ ও মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে আত্মশুদ্ধি লাভ করুন। আর কল্পনা করুন আপনার সন্তান, মা' ভাই বোন কিংবা নিকট আত্মীয়ের হাসি মাখা একটি মুখ। প্রতিটি মানুষের হাসি হোক এই অবুঝ বালিকার সরল নিস্পাপ হাসির ন্যায় এই প্রত্যাশায় শুরু হোক নতুন বছরে আমাদের প্রতিটি ভোর।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৩১
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×