somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

ভারতীয় বাঙ্গালী মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিপাশা বসুর ৪০তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী বিপাশা বসু। দিল্লি নিবাসী বাঙালি পরিবার থেকে বিপাশা বসু মুম্বাইয়ে আসেন মডেলিং করতে। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৭ বছরের কিশোরী। প্রথম মডেলিং হিট হওয়ার পর তিনি ডাক পান বলিউডে। অক্ষয় কুমারের বিপরীতে আব্বাস মাস্তানের ‘আজনবি’ সিনেমায় সুযোগ পেলেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়ে এখন তিনি বলিউড ডিভা। ছোটবেলায় তিনি দেখতে মোটেও সুন্দরী ছিলেন না। সেসময় অনেক অপমান সহ্য করা বিপাশা কলকাতার এক রেস্টুরেন্টে জীবনের প্রথম মডেলিংয়ের কাজ পান। বলিউডে বিপাশার উত্থান পতন চলছেই। তারপরেও তিনি বিশ্বের সেরা আবেদনময়ীদের একজন। বিপাশা বসুকে বলিউডের 'সেক্স সিম্বল' তারকা বলা হয়। ছবিতে তার আবেদনময় উপস্থিতি দর্শককে মোহিত করে। ক্যারিরয়ারের প্রায় দেড় যুগ পেরিয়েও তার আবেদন কমেনি। ২০০৫ এবং ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন ইস্টার্ন আই বিপাশাকে এশিয়ার সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী মহিলা হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়াও বিপাশা বসুকে বলিউডে হরর কুইন বলা হয়। এযাবৎ হিন্দি সিনেমায় তিনিই সবচেয়ে বেশি ভৌতিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে তাঁর অভিনীত পছন্দের ছবি ‘কর্পোরেট’। একজন প্রাক্তন মডেল তারকা হিসেবে ১৯৯৬ সালে ফোর্ড'স গোদ্‌রেজ সিন্থল সুপারমডেল প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হন বিপাশা বসু। আজ এই অভিনেত্রীর ৪০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনে নয়াদিল্লিতে তার জন্ম। ভারতীয় বাঙ্গালী মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিপাশা বসুর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


বিপাশা বসু ১৯৭৯ সালের ৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দুই বোন আছে - বিদিশা ও বিজয়েতা। তন্মধ্যে বিদিশার পরেই বিপাশার অবস্থান। নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীকালে তিনি তার বাবা-মায়ের সাথে কলকাতায় ফিরে আসেন। ভবন'স গঙ্গাবাক্স কানোরিয়া বিদ্যামন্দিরে বিপাশা বিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ভবানীপুর গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটি কলেজে বাণিজ্য বিভাগে অধ্যয়ন করেন। বিপাশা চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও মডেলিং এবং অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন একান্তই আকস্মিকভাবে। কলকাতা থাকাকালে তিনি সাময়িক পেশা হিসেবে মডেলিং এবং র‌্যাম্প শো-তে অংশ নেন।১৯৯৬ সালে কলকাতায় বিখ্যাত মডেল মেহের জেসিয়া'র সাথে পরিচিত হন। জেসিয়া বিপাশাকে গোদ্‌রেজ সিন্থল সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন। এতে বিপাশা বসু অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। মডেলিং জগতে প্রবেশের কারণে অনেক আক্ষেপ করেন এই অভিনেত্রী। কারন তিনি অনেক আগেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় চলে এসেছেন। তাঁর আরেকটু পড়াশোনা করা উচিত ছিল বলেই মনে করেন বিপাশা।


ফোর্ড গোদ্‌রেজ সিন্থল প্রতিযোগিতায় জয়লাভের পর বিপাশা বসু ফোর্ড কোম্পানীর আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে যান। সেখানে তিনি ১৭ বছর বয়সে সফলভাবে মডেলিংয়ের উপর প্রশিক্ষণ নেন ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে প্রচার মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে আসেন। বিপাশা চলচ্চিত্রে তার ১ম ছবি হিসেবে আব্বাস মুসতানের পরিচালনায় ২০০১ সালের আজনবি ছবিতে অভিনয় করেন। অক্ষয় কুমার, ববি দেউল ও কারিনা কাপুরের মতো নামি-দামী তারকারা এ ছবিতে ছিলেন। ছবিতে তিনি একজন বিবাহিতা মহিলার চরিত্রে অভিনয় করেন যিনি তার স্বামীর বিবাহিত বন্ধুর সাথেও প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাক্রমে ছবিটিতে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে কারণে ফিল্মফেয়ারের সেরা নবীণ মহিলা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে বিপাশা তেলেগু ভাষায় নির্মিত ছবি টক্করী দোঙ্গা এবং বিক্রম ভাটের পরিচালনায় আদি-ভৌতিক রাজ ছবিতে অভিনয় করেন। ঐ বছরে সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবির মর্যাদা পায় রাজ। ছবিতে অসামান্য অভিনয়শৈলীর জন্য তিনি প্রথমবারের মতো ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। দ্য ট্রাইবুন তাদের মন্তব্যে বলে যে, "এটিই বিপাশা বসু যে তার চমৎকার অভিনয়শৈলী দিয়ে সকলের মন চুরি করে নিয়েছে"। তিনি ২০০৩ সালে আরেক ব্যবসা সফল জিস্‌ম ছবিতে সোনিয়া খান্না হিসেবে জন আব্রাহামের সাথে অভিনয় করেন। এ ছবির মাধ্যমে তিনি ফিল্মফেয়ারের সেরা খল অভিনেত্রীর জন্য মনোনয়ন পান। অভিনয়ের পাশাপাশি বিপাশা বসু ১৯৯৮ সালে সোনু নিগমের তু ভিডিও গানে কিসমত এলবামে অভিনয় করেন। এছাড়াও, তিনি জে সিনের মিউজিক ভিডিও স্টোলেন এলবামে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে বিপাশা দ্বিতীয়বারের মতো আব্বাস-মুসতানের রেস ছবিতে অভিনয় করেন। এতে আরো অভিনয় করেছিলেন সাইফ আলী খান, অক্ষয় খান্না, অনীল কাপুর এবং ক্যাটরিনা কাইফ। ছবিটি বক্স অফিস হিট করেছিল এবং বিপাশা'র অভিনয়শৈলী সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়ে। ইন্ডিয়াএফএমের তরন আদর্শ তার অভিনয়শৈলী সম্পর্কে বলেন যে, তিনি এ পর্যন্ত তার সেরা অভিনয় করেছেন। তিনি সকলের সেরা।বচনা এ হাসিনো ছবিতে রণবীর কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করেও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন বিপাশা। তিনি রব নে বানা দি যদি ছবিতে ফির মিলেঙ্গে চলতে চলতে গানের মাধ্যমে বছরটির পূর্ণতা আনেন। ইরজ এর প্রযোজনায় ২০০৫ সালে বিপাশা-জন আব্রাহাম শারীরিক সচেতনতা শীর্ষক ভিডিও তৈরী করেন। ছবিতে অসামান্য অভিনয়শৈলীর জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, স্টারডাস্ট পুরস্কার, স্টার স্ক্রিণ এ্যাওয়ার্ড, জি সিনে এ্যাওয়ার্ডস্‌, গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম এ্যাওয়ার্ডস্‌, জিআইএফএ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার, বলিউড মুভি এ্যাওয়ার্ডস্‌ সহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।


(‘অ্যালোন’ ছবির সহশিল্পী করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে বধু বেশে বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু)
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০২ সাল থেকে ভারতীয় অভিনেতা জন আব্রাহামের সাথে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিপাশা বসু। অভিনেতা জন আব্রাহামের সঙ্গে অনেকদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বিপাশার। তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হারমান বাওয়েজার সঙ্গে নাম জুড়েছিল তাঁর। তবে সে সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। পরে ‘অ্যালোন’ ছবির অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল অভিনেত্রী বিপাশা বসু এবং অভিনেতা করন সিংহ গ্রোভার সম্পূর্ণ বাঙালি মতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী এক সাক্ষাতকারে জানান তিনি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন করণের স্ত্রী হিসাবে। বিপাশা বসুর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা প্যারিস। নিজের ফিটনেস নিয়ে অনেক সচেতন বিপাশা। ব্যায়ামের ডিভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে তিনি মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও নাকি মনে প্রাণে বাঙালি। তাঁর অন্যতম পছন্দের খাবার বিরিয়ানি।ভারতের সাবেক সুপার মডেল ও অভিনেত্রী বিপাশা বসুর আজ ৪০তম জন্মবার্ষিকী। ভারতীয় বাঙ্গালী মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিপাশা বসুর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×