somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমলেন্দু বিশ্বাস ওরফে অমল বোস। ষাটের দশকে যাত্রামঞ্চের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তাঁর অভিষেক হয় । ১৯৬৩ সালে সম্পৃক্ত হন ঢাকা ক্লাব থিয়েটারের সঙ্গে। এ সময় বেশ কিছু মঞ্চনাটকের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দর্শকনন্দিত হয় তাঁর নির্দেশিত নূরুল মোমেনের নাটক ‘আলো ছায়া’। ঢাকা ক্লাব থিয়েটার ছাড়াও অবসর, শৈবাল, রংধনু, সপ্তরূপা প্রভৃতি নাট্যদলের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৬৪ সালে দেশের টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর পর থেকেই তিনি ছিলেন টিভি নাটকের পরিচিত মুখ। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র, মঞ্চ, টিভি ও বেতারে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সার্বজনীন দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ নাটিকায় অসুর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি 'জাতীয় মহিষাসুর' হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দীর্ঘ ৩৮ বছর ঐ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর বিশেষ নাটিকায় কংসের চরিত্রে অভিনয়েও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্ব্বী।এছাড়াও, বিশিষ্ট পরিচালক ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত পরিচালিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি'র 'নানা-নাতি' পর্বে অমল বোসের নানা ও মোহাম্মদ শওকত আলী তালুকদারের নাতি চরিত্রটি বহুল আলোচিত হয়। নানা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলমান সময়ের নানা অসঙ্গতিকে সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন। আর এভাবেই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন ‘নানা অমল বোস’। শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এর মধ্যে রাজা সন্ন্যাসী, মহুয়া, নীল আকাশের নীচে, সোনালী আকাশ, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, গুনাই বিবি, রাজলক্ষী-শ্রীকান্ত, অবিচার, হঠাৎ বৃষ্টি, আমি সেই মেয়ে, তোমাকে চাই, মন মানে না প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আজকের প্রতিবাদ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে জিতে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন তিনি। সত্তরের দশকে অমল বোস পরিচালিত ছবিটি হচ্ছে ‘কেন এমন হয়’। সর্বশেষ তিনি অনিমেষ আইচ পরিচালিত নির্মাণাধীন না-মানুষ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। আজ এই খ্যাতিমান অভিনেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের আজকের দিনে তিনি রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


অমল বোস ১৯৪৩ সালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ষাটের দশকের প্রথম থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। একাধারে মঞ্চ, টিভি, চলচ্চিত্র ও বেতার জগতে পদচারণা ছিল। সেই সুবাদে ঢাকাতেই তিনি জীবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশকে অমল বোস তার অভিনয় জীবন শুরু করেন মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি ১৯৬৩ সালে থেকে ঢাকা ক্লাব থিয়েটার-এ মঞ্চ নাটকে কাজ করেছেন। নুরুল মোমেনের নাটক আলো ছায়া তার নির্দেশনায় দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। সেই সময় তিনি অবসর, সপ্তরূপা, শৈবাল ও রংধনু নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৬৬ সালে রাজা সন্ন্যাসী ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেছিলেন। এরপর তিনি নীল আকাশের নীচে, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ-সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন অমল বোস। কেন এমন হয় নামের এই ছবিটি তিনি পরিচালনা করেন সত্তরের দশকে। ২০০৪ সালে মতিন রহমান পরিচালিত রং নাম্বার এবং মুশফিকুর রহমান গুলজারের কুসুম কুসুম প্রেম ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। অমল বোস তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নব্বইয়ের দশকে পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত "আজকের প্রতিবাদ" ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন। জনপ্রিয় এ অভিনেতা পেশাগত জীবনে জুট মিলস্‌ কর্পোরেশনের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।


২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেই দিন সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। পরেতাকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। এরপর এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে অমল বোসের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। মৃত্যুকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিল তার স্ত্রী - স্বাতী বোস, একমাত্র মেয়ে - মন্দিরা বোস ও জামাই - ইন্দ্রজিৎ সরকার। আজ এই খ্যাতিমান অভিনেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমল বোসের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×