somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের (বরিশাল স্টীমারঘাটের সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বলেছিলেন, বরিশাল হচ্ছে প্রাচ্যের ভেনিস) উজিরপুর ধানাধীন সাতলা গ্রামে। পিতা প্রাইম

ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তারকেশ্বর দস্তিদার ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। বিপ্লবী দলের সদস্য হিসেবে ১৮ এপ্রিল, ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণের কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রধান নেতা সূর্য সেন ধরা পড়লে তিনি ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির নেতৃত্ব নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে বিপ্লব পরিচালনা করেন। ১৯ মে ১৯৩৩ তারিখে গহিড়ায় পূর্ণ তালুকদারের বাড়িতে পুলিসের সংগে সংঘর্ষের সময় গ্রেপ্তার হন। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি, মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। বাঙালি জাতির জীবনে ১২ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গৌরবের দিন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি বিপ্ল­বী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্ল­বী নেতা তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ শাসকরা নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে ফাঁসি দেয়ার আগে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে প্রায় অর্ধমৃত করে ফেলে। পরে রাত ১২ ঘটিকার সময় একই দিনে একই সময়ে ও একই মঞ্চে চট্টগ্রাম কারাগারে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশ শাসক। তাদের মৃতদেহ দুটি আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সিক্ষদের কাছে ফেরত না দিয়ে ভোর হওয়ার পূর্বে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে একটা জাহাজে করে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পাথর বেঁধে ডুবিয়ে দেয়। শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের আজ ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের জন্ম ১৯০৯ সালে। বাবার নাম চন্দ্রমোহন দস্তিদার। মায়ের নাম প্রমিলা। বাড়ি সরোয়াতলী গ্রাম। থানা বোয়ালখালী। জেলা চট্টগ্রাম। তার ডাক নাম ছিল ফুটু। সরোয়াতলী স্কুলে পড়ার সময় তিনি বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হন। সরোয়াতলী গ্রামে বীণাপাণি লাইব্রেরী ও একটি ব্যায়ামাগার স্থাপন করেন। গ্রামের স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশান পরীক্ষায় পাশ করে চট্টগ্রাম শহরের গভর্নমেন্ট কলেজে আই এস সি পড়ার জন্য ভর্তি হলে তার বিপ্লবী কাজের পরিধি আরো বেড়ে যায়। মাস্টারদা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারকেশ্বর চট্টগ্রাম বিপ্লবী সংগঠনের সম্পূর্ণ দ্বায়িত্বে ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলের গহিরা গ্রামের যুদ্ধতে তারকেশ্বর, কল্পনা দত্ত ও সুধীন দাশ বন্দী হন। বিপ্লবী মনোরঞ্জন দাশগুপ্ত ও আশ্রয়দাতা পূর্ণ তালুকদার এই যুদ্ধে নিহত হন। বিচারে মাস্টারদা ও তারকেশ্বরের ফাঁসীর আদেশ হয়। হাইকোর্টের আপিলেও তারা দুজনের ফাঁসীর রায় বহাল থাকে। দিনটি ছিল ১২ জানুয়ারি, ১৯৩৪ সাল। চট্টগ্রাম জেলে মাস্টারদার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু সেদিন মাস্টারদার সাথে আরও একজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তিনি ছিলেন তারকেশ্বর দস্তিদার।


চট্টগ্রাম জেল থেকে ফাঁসীর আগে তারকেশ্বর তার বৌদিকে যে চিঠিটা লিখেছিলেন-
" বৌদি, তোমাদের স্নেহ ভালবাসা থেকে চিরদিনের মত চলে যাচ্ছি। মাকে বলো, আমার যে টাইফয়েড হয়েছিল, তখনও তো মারা যেতে পারতাম। কত লোক যে প্রতিদিন নানাভাবে মারা যাচ্ছে! আমার মৃত্যূ তা থেকে অনেক শ্রেয়। মনকে প্রবোধ দিও।"
সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম ভাবে হাতুড়ী পেটা করল প্রথমে । হাতুড়ীঘাতে মুখমণ্ডল থেঁতলে গেল তাদের , ভেঙ্গে গেল সবকটা দাঁত। হাতের নখ উপড়ে তুলে ফেলা হল একের পর এক। হাঁটু থেকে শুরু করে সমগ্র শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে চলল নির্বিচারে আঘাতের পর আঘাত । শরীরের সকল হাড় ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। এক পর্যায়ে তারা নিস্তেজ হয়ে জ্ঞান হারালেন। তারপর মৃতপ্রায় শরীর দুটিকে টানতে টানতে , তাদের গলায় বেঁধে দেয়া হয় হল ফাঁসীর দড়ি । মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফাঁসীর মঞ্চে ঝুলে পড়লেন সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদার। লাশ দুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টিমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হল। তারপর তাদেরকে ব্রিটিশ ক্রুজার “The Renown” এ তুলে, তাদের বুকে বেঁধে দেয়া হল লোহার বড় বড় টুকরো। জাহাজ চলে আসল বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর সংলগ্ন কোন এক গভীর অভ্যন্তরে। অতল গভীর জলে নেমে গেলেন, সূর্যসেন ও তারেকশ্বর দস্তিদার।
গৌরবগাঁথা দুই মহান বিপ্ল­বীর ঐতিহাসিক ফাঁসির দিনটিকে স্মৃতিবহ করে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বিপ্লবীদের ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিপ্ল­বী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী নেতা তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির মঞ্চটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে শ্রদ্ধার সহিত সাজিয়ে রেখেছেন। আজ শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
nuru.etv.news@gmail.com
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন মায়াবতী

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:২০




আষাঢ় মাসের অতি মনোমুগ্ধকর এক সন্ধ্যা।
রাত প্রায় নয়টা। আমি বলাকা সিনেমা হল থেকে বের হয়ে একটা হোটেলে ভাত খেতে ঢুকেছি। হোটেলের নাম- তাজমহল রেস্টুরেন্ট। তাজমহল হোটেলের পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জয় চেরনোবগ"

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:৫৯


ইউরোপের অনেক রেস্টুরেন্টের বারে ফানবোর্ডে লেখা থাকে "ড্রিংক বিয়ার সেভ ওয়াটার"। এই লেখাটা প্রথমবার দেখে বেশ হাসি আসলেও বারটেন্ডার যখন বললো আফ্রিকার অনেক দেশে বিশুদ্ধ পানির দাম বীয়ারের চেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভৌতিক কাহিনী - জ্বীন সাধনা [প্রথম পর্ব]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৩



ভর দুপুরবেলা। রিক্সা থেকে নেমেই তাড়াহুড়া করে কুরিয়ার সাভির্সের একটা দোকানে ঢুকল রুমি। ছোট কাগজে লেখা একটা গোপন নাম্বার দেখাতেই দোকানদার ওর হাতে একটা মাঝারি সাইজের প্যাকেট তুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

বিভিন্ন সময়ে তোলা ক্যানন ক্যামেরার ছবি। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের ।



হীম পড়েছে তো হয়েছেটা কী-টক খেতে কী মানা
পকেট থেকে বের করো তো পয়সা দু'আনা,
কিপটে মানুষ ফাঁকি বাজি-কত কিছু জানো
যেমন করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরল কাঁটার বাতাস

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০


আমার গাড়িতে একটা লাশ। আমি গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমিই বহন করে নিয়ে যাচ্ছি লাশটাকে। লাশটা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না। একজন মানুষ যখন মারা যায়, তার রক্ত, বীর্য, ঘাম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×