somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালা। তার সমসাময়িক নার্গিস এবং মীনা কুমারীর বিপরীতে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দরী অভিনেত্রী হিসেবে অভিহিত মধুবালা বড় পর্দায় রূপের জাদু আর অভিনয়ের ঝলকে বিমোহিত করে রাখতেন দর্শকদের। পঞ্চাশের দশকে ঝড় তোলা এই নায়িকা খুব স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়ে গেছেন মনে রাখার মতো অনেক ছবি। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বাধিক সুন্দর-আকর্ষনীয় অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় ও রূপের জাদুতে বিমোহিত করে রাখেন দর্শকদের, ভাসিয়ে নিয়ে যান ফ্যান্টাসির জগতে। আবার কখনও কখনও তাদের বিষাদময় জীবনের গল্প ছাড়িয়ে যায় ট্র্যাজিক সিনেমার কাহিনীকেও। এমনই এক জীবনের গল্প মধুবালার। কথিত অছে, মধুবালা যখন খুব ছোট তখন এক দরবেশ তাকে দেখে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন যে, তিনি জীবনে অনেক খ্যাতি অর্জন করবেন কিন্তু সুখী হতে পারবেন না এবং তিনি অকালে মারা যাবেন। ছোটবেলা থেকেই হৃৎপিণ্ডের অসুখে ভুগছিলেন। তার হৃৎপিণ্ডে একটি ছিদ্র ছিল। শোনা যায় মধুবালা এ অসুখ সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু পাছে কাজের সুযোগ না পান, এ ভয়ে তার বাবা এটি প্রকাশ করতে বারণ করেন। অসুখের ফলে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। দুঃসহ যন্ত্রণায় ৯ বছর পার করে মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন মধুবালা । স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে চলে যান কোটি মানুষের স্বপ্নের রানী। এক বুক অভিমান আর ভালোবাসার জন্য বুভুক্ষু হৃদয় নিয়ে চলে যান রুপালি পর্দার ভালোবাসার প্রতিমা মধুবালা। আজ র্কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৩ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লির এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মধুবালা। পারিবারিক নাম মমতাজ জাহান দেহলভী। বাবা আতাউল্লা খান। তিনি পেশোয়ারের তামাক কোম্পানিতে চাকরি হারিয়ে ভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমান বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই)। এগারো ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম এবং পাঁচ জন মারা যায় খুব ছোটোবেলায়। ১৯৪৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাই ডকে বিস্ফোরণের ঘটনায় হারিয়ে যায় তাদের ছোট্ট ঘরটিও। এমন দুর্দশায় একমাত্র আশার আলো ছিলেন মমতাজ জাহান। সংসারে অভাবের কারনে মধুবালা অভিনয়ে যোগ দেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের ডাক পান বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। অভিনয় দেখে তার মধ্যে জাত অভিনেত্রীর ছাপ খুঁজে পান নির্মাতারা। অভিনয় জীবনে প্রবেশের কিছুদিন পর অভিনেত্রী দেবিকা রানী চৌধুরী অপরূপ রূপ ও প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তার নাম দেন মধুবালা। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে ‘নীল কমল’ (১৯৪৭) ছবির প্রধান অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। রাজকাপুরের বিপরীতে অভিনয় করা এ ছবিটিই সর্বশেষ যেখানে তিনি ‘মমতাজ’ নামে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন। এরপর বড় পর্দায় ‘মধুবালা’র আগমন গল্প শুধু এগিয়ে চলার। ১৯৪৯ সালের ‘মহল’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতিই তিনি মহাতারকা বনে যান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ অবলম্বনে এ ছবির বিপুল সাফল্যে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। একে একে মুক্তি পায় দুলারি (১৯৪৯), বেকসুর (১৯৫০), তারানা (১৯৫১), বাদলসহ (১৯৫১) অন্যান্য ছবি। তার তারকাখ্যাতি ভারত পেরিয়ে সাড়া ফেলে হলিউডেও। ১৯৫২ সালের আমেরিকান ম্যাগাজিন ‘থিয়েটার আর্টস’-এ তাকে নিয়ে নিবন্ধ ছাপা হয়। আমেরিকান পরিচালক ফ্রাঙ্ক ক্যাপরা তাকে অভিনয়ও করাতে চেয়েছিলেন হলিউডে। কিন্তু বাবা রাজি না হওয়ায় সে আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৯৬০ সালে তার অভিনীত মুঘল-ই-আজম’ মুক্তি পায়। এরপর মাত্র পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করতে পেরেছিলেন মধুবালা। কারণ ততদিনে তার শারীরিক অসুস্থতা প্রকট আকার ধারণ করেছেলো।


(মুঘল–এ–আজম ছবির দৃশ্যে মধুবালা ও দিলীপ কুমার)
ব্যক্তিগত জীবনে কয়েকবার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মধুবালা। ‘তারানা’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন দিলীপ কুমারের বিপরীতে। এ ছবির সেটেই তারা একে অপরের প্রেমে পড়েন। সে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা দিলীপ কুমারের সাথে তার প্রেম কাহিনী বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ান মধুবালার বাবা আতাউল্লা খান। তিনি প্রথমে তাদের বিয়েতে রাজি ছিলেন। কিন্তু তিনি পুরো বিষয়টিকে দেখছিলেন ‘একটি বিজনেস ডিল’ হিসেবে। পাঁচ বছর প্রেমের পর দিলীপ কুমার দুটো শর্ত দিয়েছিলেন মধুবালাকে। প্রথমত, নিজের পরিবার ছাড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাড়তে হবে অভিনয়ও। বলিউড ছাড়তে রাজি হলেও নিজের মা-বাবাকে ছাড়তে নারাজ ছিলেন মধুবালা। গভীর অভিমান বুকে চেপে তিনি সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছিলেন দিলীপ কুমারের সঙ্গে। এরপর 'চলতি কা নাম গাড়ি' ছবিতে সে সময়ের একজন বিখ্যাত গায়ক ও কমিডি কিং নামে খ্যাত কিশোর কুমারের সাথে পরিচয় হয় এবং ১৯৬০ সালে তাকেই বিয়ে করেন। মধুবালাকে নিয়ে তার বোনের লেখা জীবনীতে জানা যায়, কিশোর কুমারকে বিয়ে করলেও তিনি দিলীপ কুমারকেই ভালবাসতেন। এমনকি দিলীপ কুমারকে দেখানোর জন্যই কিশোর কুমারকে বিয়ে করেছিলেন। অনিন্দ্য সুন্দরী মধুবালার প্রেমপ্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল না। মধুবালাকে নিয়ে পরিচালক কিদার শর্মা, কমল আমরোহি, প্রেমনাথ এবং পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্রেমের গুজব ছড়িয়েছে সে সময়।


ছোটবেলা থেকেই হৃৎপিণ্ডের অসুখে ভুগছিলেন মধুবালা। ১৯৫০ সালে তার শারীরিক এ সমস্যা ধরা পড়ে যার অধুনিক নাম ভেন্ট্রিকুলার সেফটাল ডিফেক্ট (ভিএসডি)। তখন ভারতে এর চিকিৎসা ছিল না। কাজের চাপ আর বদ্ধ স্টুডিওয়ে দিনের পর দিন কাটাতে কাটাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুটিং সেটে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। ১৯৬০ সালে কিশোর কুমারকে বিয়ের পর লন্ডন যান মধুবালা। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, বড়জোর এক বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু পরে আরো নয় বছর অসুখের সাথে লড়াই করে অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ভারতের মুম্বাইয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ র্কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×