somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু সাধারন শিষ্টাচার বা ভদ্রতা যা শিশুকে পরবর্তী জীবনে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মার্জিত ও ভদ্র আচরণই শিষ্টাচার নামে পরিচিত। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সুজনের ভাবকে আমরা ‘সৌজন্য’ বলি। অপরের সুবিধা-অসুবিধা, মতামত ও অনুভুতির প্রতি সম্মান করে চলাই শিষ্টাচার ও সৌজন্যের লক্ষ্য। রাজা সলোমানের একটি বিখ্যাত বাণী রয়েছে_ 'অহঙ্কার মানুষের পতন ঘটায়; কিন্তু বিনয় মানুষের মাথায় সম্মানের মুকুট পরায়।' শিষ্টাচার হলো এই বিনয় বা নম্রতা, বিশেষ করে আচরণে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। দেহের সৌন্দর্য অলঙ্কার; কিন্তু আত্মার সৌন্দর্য শিষ্টাচার। আর এই সব একটা জাতির মূল চাবিকািিঠি। যে জাতি যত উন্নত সে জাতি তত বেশি এই সব মানে। শিষ্টাচার ,ভদ্রতা , শ্লীলতা, ভ্রাতৃত্ব , মূল্যবোধের বড়ই অভাব বাংলাদেশে। আজ আর শিষ্টাচার ,ভদ্রতা , শ্লীলতা, ভ্রাতৃত্ব , মূল্যবোধ খুঁজে পাওয়া যায় না। শিষ্টাচার ,ভদ্রতা , শ্লীলতা, ভ্রাতৃত্ব , মূল্যবোধ কাকে বলে তা দুই একটা জার্মানি, ব্রিটিশ , মার্কিনদের সাথে থাকলে শিখতে ও উপলব্দি পারবেন। একজন মানুষের ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, শুভ ও অশুভ জ্ঞান যেমন থাকতে হয়, তেমনি সব সময় নিজের সাথে অপরেরও মঙ্গল বা কল্যাণের প্রচেষ্টাও থাকতে হবে। তার ব্যতিক্রম হলেই সমাজের নীতি-নৈতিকতা ও শিষ্টাচার ভেঙে পড়ে। এ কারনেই শিশুকাল থেকেই একজন মানুষের শিষ্টাচার শিক্ষার প্রয়োজন। শিষ্টাচার একজন মানুষের জীবনকে পরিশীলিত করে, সমৃদ্ধ করে, চেতনাকে জাগ্রত ও বোধকে শাণিত করে। তাই মানুষের সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য নৈতিকতা এবং শিষ্টাচার শিক্ষার প্রয়োজন অপরিহার্য। শিশুদের শিষ্টাচার-সম্পন্ন করো গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রতিদিনই উৎসাহ দিতে হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যাতে দরকার নিয়মানুবর্তিতা এবং অসীম ধৈর্য। আপনি শিশুদের কেতাদুরস্ত করে বড় করতে চান তাহলে কি কি করা চলবে না আর কোন কোন আচরণ আপনার বাচ্চাকে ২ বছর বয়স থাকে ৯ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত শিখে নিতেই হবে। এবার আসুন জেনে নেই ১২টি ভালো আচরণ যা ২ বছর বয়স থেকে সকল শিশুদের শেখা উচিৎ।


১। "দয়া করে" এবং "ধন্যবাদ" বলা
শিশুরা যখনই কথা বলতে শিখবে, তাদের অবশই বিনয়ী হওয়ার গুরুত্ব শিখতে হবে। কাউক্কে অনুরোধ করার সময় 'প্লীজ' (অনুগ্রহ করে) এবং 'থ্যাঙ্ক ইউ' (ধন্যবাদ) বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস এবং এগুলি বলার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উৎসাহিত করা উচিৎ।

২। কথোপকথনের মাঝখানে বাধা না দেওয়া
যখনই বাচ্চারা তাদের মনের ভাব কথা বলে প্রকাশ করতে শিখবে, মা-বাবাকে তাদের শেখাতে হবে যে অন্যের কথার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যদি না ভীষণ জরুরী কোনও কথা থাকে।

৩। 'এক্সকিউজ মি' (ক্ষমা করবেন) বলা
কারও কথার মাঝখানে কথা বলতে হলে বিনীতভাবে 'এক্সকিউজ মি' বলতে শিখতে হবে। শিষ্টাচারের এই নিয়মটি ঢেকুর তুললে বা কাশলে অথবা কারও পাশ দিয়ে পার হবার সময়ও প্রযোজ্য।

৪। কারও দেহগত আকৃতি নিয়ে মন্তব্য না করা
যদিও বাচ্চাদের সারল্য আপনার স্নেহের চোখে অনাবিল মনে হতে পারে, কিন্তু এর ফলে অন্য কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তাদের জানা উচিৎ যে কাউকে মোটা বলা ঠিক নয়, এমনকি আড়ালেও।

৫। প্রবেশ করার আগে দরজায় টোকা দেওয়া
দরজা যদি ছিটকিনি দেওয়া নাও থাকে, একটি বন্ধ দরজা খোলার আগে বাচ্চাদের টোকা দেওয়া শিখতে হবে। তাদেরকে শেখান যে ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৬। খারাপ ভাষা এড়িয়ে চলাঃ শিশুরা স্পঞ্জের মতো। তারা যে টিভিতে যা দেখছে বা বড় বড়দের কাছে যা শুনছে তা আত্মস্থ করে নেয়। অনেক সময়য় তারা জানেই না যে কথাটাখারাপ বা অশ্লীল। সুতরাং, এটি অভ্যাসে পরিণত হওয়ার আগেই তাদেরকে শোধরান এবং হালাগাল বা জঘন্য ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত করুন।

৭। অন্যদের নিয়ে মজা না করাঃ অন্যদের ক্ষ্যাপানো বা কাউকে নিয়ে মজা করা খুবই খারাপ আচরণ। খেলার মাঠে যতই বাধাহীন হোক না কেন, বাচ্চারা যেন গালাগালি না দেয় সে ব্যাপারে মা-বাবাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

৮। কাশি বা হাঁচির সময় মুখের সামনে হাত রাখাঃ অন্যের প্রতি সুবিবেচনা স্বরূপ বাচ্চাদের অবশ্যই হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকার অভ্যেস করতে হবে।

৯। সবার সামনে নাক না খোঁটাঃ নাক খোঁটা চলবে না। তাদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে শেখান, বা বাথরুমে যাবার ছুতো করতে বলুন।

১০। যখন কারও কিছু প্রয়োজন হয়, সাহায্য করতে প্রস্তাব দেওয়াঃ উদাহরণস্বরূপ, যদি তাদের কাকীমা কোনও পারিবারিক সমাগমে রান্নাঘরে নাজেহাল হচ্ছেন, তাদেরকে বলুন যেন সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়। এটা করলে বিনয় প্রকাশ করা হয়।

১১। কোনোকিছু যদি বিরক্তিকরও হয়, ঠোঁট না ওলটানোঃ অনেক সময় বাচ্চাদের ক্লাসে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বসে থাকতে হয়, যাতে তাদের একটুও মজা লাগে না। তবুও তাদের শান্ত হয়ে ধৈর্য সহকারে ভালভাবে বসে থাকতে শেখান। এটা একেবারে ছোট শিশুদের পক্ষে কঠিন হতে পারে, কিন্তু ক্রমাগত শিখিয়ে গেলে তারা যেমন যেমন বড় হবে, অবশ্যই এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হবে।

১২। কিছু দরকার থাকলে সুন্দরভাবে বলাঃ যেমন ধরুন, খাবার সময়, যদি তাদের কিছু দরকার হয়, টেবিলের ওপর থেকে তা তুলে না নিতে শেখান। তার বদলে তাদের বলুন যেন সেটি আস্তে করে চায় এবং দেওয়া হয়ে গেলে ধন্যবাদ জানায়!


একদিকে সমাজ যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভাসছে, অন্যদিকে তখন হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শিষ্টাচার নৈতিকতা, মানবতা, মনুষ্যত্ব আর সৌজন্যবোধ। সমাজে কমে যাচ্ছে ছোট-বড় পার্থক্য। কমছে সম্মান আর স্নেহ। কমছে গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি।যার ভেতরে এই শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধের অভাব থাকবে সে তো বড়দের আঘাত করবেই। আর এর দায় বড়দেরই নিতে হবে। আজকাল বড়োরাই ছোটদের এই শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও ভদ্রতা থেকে দূরে রাখছে। তারাই ছোটদের নিয়ে অন্যায়পথে হাঁটছে। তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে সচেতন হই। এর ফলে একদিন দেশ হয়ে উঠবে ভালোবাসায় ভরপুর। সমাজ হবে শান্তিময়; শিষ্টাচার ও নৈতিকতায় পূর্ণ। নিজেদের ভেতর সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ছোটদের স্নেহ আর বড়দের সম্মান দিয়ে আগে নিজেরা নিজেদের ঠিক করি। আত্মসমালোচনা করে সংশোধনের চেষ্টা করি এবং মুখে নয়, কাজে শিষ্টাচারের প্রমাণ দেই।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×