
বিদ্যা বালান একজন ভারতীয় মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ক্যারিশমাটিক অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিদ্যা বালান। ভক্তদের তিনি উপহার দিয়েছেন অনেক সুপারহিট সিনেমা। তার অভিনয়ে মুগ্ধ পুরো বলিউড। অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে কোটি ভক্তের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিদ্যা বালান। ‘ডার্টি পিকচারে’ নিজেকে ভেঙে সাজিয়েছিলেন তিনি। হালের বলিউডে বেশ সুপারহিট ছবির নায়িকা তিনি। তিনি বলিউড চলচ্চিত্রে কর্মজীবন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলা, তামিল, মালয়ালম এবং হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তরুণ বয়সেই চলচ্চিত্রের সাথে তার সম্পৃক্ততা ঘটে এবং ১৯৯৫ সালে হাম পাঁচ হিন্দি সিটকমের মাধ্যমে প্রথম অভিনয়ে আসেন। তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করার পূর্বে ভিন্ন-ভিন্ন পেশায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার পর ২০০৩ সালে তিনি ভাল থেকো স্বাধীন বাংলা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৫ সালে, প্রদীপ সরকার পরিচালিত সঙ্গীত নাট্য পরিণীতা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটান বিদ্যা এবং পরবর্তী বছর ২০০৬ সালে রম্য-নাট্যধর্মী লাগে রাহো মুন্না ভাই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন যা বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করে। সবসময়ই বেছে বেছে সিনেমা করতে অভ্যস্ত বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। সর্বশেষ ‘মিশন মঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। অভিনয় জীবনে তিনি এ যাবৎ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং পাঁচটি স্ক্রিন পুরস্কার অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালে ভারত সরকার কর্তৃক তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে। আজ অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের ৪২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহণ করেন। তরুণদের আইকন বিদ্যা বালানের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা ফুলেল শুভেচ্ছা ।

বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি ভারতের কেরালার পালক্কাদ জেলার পুথামকুরুসি, পুথুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা পি আর বালান ডিজিক্যাবল প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সহ-সভাপতি এবং মাতা স্বরসতী বালান গৃহিণী। তারা উভয়ে তামিল বংশোদ্ভুত। বিদ্যার ভাষ্যমতে তার পিতা-মাতা বাড়িতে মালয়ালম এবং তামিল ভাষা ব্যবহার করতেন। তার কনিষ্ঠ বোন প্রিয়া বালান বিজ্ঞাপন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। বিদ্যা মুম্বইয়ের চেম্বুর উপ-শহরে বেড়ে উঠেন এবং সেন্ট এন্থনি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। তরুণ বয়স থেকেই অভিনেত্রী শাবানা আজমী ও মাধুরী দিক্ষিতের দ্বারা প্রভাবিত হবার কারণে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। ষোল বছর বয়সে, তিনি একতা কাপুর পরিচালিত হাম পাঁচ সাইটকমের প্রথম মৌসুমে রাধিকা নামে এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ধারাবাহিকের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্র পেশায় মনোযোগী হতে চান বলে অনুরাগ বসু নির্দেশিত টেলিভিশন সোপ অপেরার আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। বিদ্যার পিতা-মাতা তার এ সিদ্ধান্তে সম্মত থাকলেও তারা প্রথমে পড়াশুনা শেষ করার বিষয়ে উৎসাহ যোগান দিতেন, তাই তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বর্ষে অধ্যয়ন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবনে বিদ্যা বালান বলিউড চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলা, তামিল, মালয়ালম এবং হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তরুণ বয়সেই চলচ্চিত্রের সাথে তার সম্পৃক্ততা ঘটে এবং ১৯৯৫ সালে হাম পাঞ্চ হিন্দি সাইটকমের মাধ্যমে প্রথম অভিনয়ে আসেন। অভিনয় জীবনে তিনি এ যাবৎ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং পাঁচটি স্ক্রিন পুরস্কার অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালে ভারত সরকার কর্তৃক তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করা হয়। তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করার পূর্বে ভিন্ন-ভিন্ন পেশায় ব্যর্থ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার পর ২০০৩ সালে তিনি ভালো থেকো স্বাধীন বাংলা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম ফিচার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৫ সালে, পরিণীতা চলচ্চিত্রের একটি চরিত্রে অভিনয় ছিল তার প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং পরবর্তী বছর ২০০৬ সালে লাগে রাহো মুন্না ভাই কমেডি চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন যা বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করে। এই সাফল্যের পর হেই বেবি (২০০৭) ও কিসমত কানেকশন (২০০৮) রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্রে কাজ করেন তিনি যা নেতিবাচক সমালোচনা সৃষ্টি করে। ২০০৯ সালে বিদ্যার কর্মজীবনের সর্বাধিক সাফল্যের সূচনা ঘটে পা নাট্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর ২০১০ সালের ব্ল্যাক কমেডি ইশকিয়া, ২০১১ সালের অর্ধ-জীবনীমূলক থ্র্রিলার নো ওয়ান কিলড জেসিকা, জীবনীচলচ্চিত্র দ্য ডার্টি পিকচার এবং ২০১২ সালের কাহানি থ্রিলার চলচ্চিত্রে তিনি সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। এ সকল চরিত্রসমূহ তাকে হিন্দি চলচ্চিত্র্রের নেতৃত্বস্থানীয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিণত করে। বিদ্যা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি মানবহিতৈষী কার্যকলাপে জড়িত রয়েছেন এবং নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সহায়ক হিসেবে অবদান রেখেছেন। প্রাথমিকভাবে তার ভারী শরীর এবং প্রশ্নসাপেক্ষ পোশাক নির্বাচনের কারণে তাকে বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি ভারতীয় কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য হন।

ব্য্যক্তিগত জীবনে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে বিয়ে করেন।যিনি ছিলেন ইউটিভি মোশন পিকচার্সের সিইও। ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই দম্পতি মুম্বইয়ের বান্দ্রায় একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন। আজ অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের ৪২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহণ করেন। তরুণদের আইকন বিদ্যা বালানের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা ফুলেল শুভেচ্ছা ।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



