somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় সাংবাদিক ও রম্যলেখক খুশবন্ত সিং এর ১০৫তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভারতের বিখ্যাত রম্যলেখক ও সাংবাদিকদের অন্যতম খুশবন্ত সিং। বলা হয়ে থাকে খুশবন্ত সিং ভারতীয়দের ইংরেজী ভাষায় সাহিত্য রচনার ধারাটাই বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর গল্প – উপন্যাস হোক, নিয়মিত কলাম হোক বা সংবাদপত্র সম্পাদনার কাজেই হোক, নিকষ রাজনৈতিক লেখাতেও বুদ্ধিদীপ্ত মজা যে অনায়াসেই মিশিয়ে দেওয়া যায় সেটা দেখিয়েছেন মি. সিং। তিনি সংবাদপত্র যোজনা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও ভারতের ‘দ্য ন্যাশনাল হেরাল্ড’ ও ‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’ও সম্পাদনা করেছেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের লোকসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর লেখা জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে অন্যতম ট্রেন টু পাকিস্তান, আই শ্যাল নট হিয়ার দ্য নাইটিঙ্গেল এবং দিল্লি। খুশবন্ত ৯৫ বছর বয়সে ‘দ্য সানসেট ক্লাব’ উপন্যাস লেখেন। এছাড়াও তার ননফিকশন দুইখণ্ডের রচনা, ‘অ্যা হিস্টরি অব দ্য শিখস’ ছাড়াও অনুবাদ, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে লেখা, উর্দু কবিতা সব মিলিয়ে তার লেখার পরিমাণ অনেক। ২০০২ সালে পেঙ্গুইন থেকে তার আত্মজীবনী ‘ট্রুথ, লাভ অ্যান্ড এ লিটল ম্যালিস’ প্রকাশিত হয়। আজ ভারতীয় এই সাংবাদিকের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১৫ সালের আজকের দিনে তিনি অবিভক্ত ভারতের পাঞ্চাবের হাদালিতে জন্ম গ্রহণ করেন। ভারতীয় সাংবাদিক ও রম্যলেখক খুশবন্ত সিং এরতম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


খুশবন্ত সিং ১৯১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পাঞ্চাবের হাদালিতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর অঞ্চলটি পাকিস্তানের অধীনে চলে যায়। তাঁর বাবা স্যার সোভা সিং ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসাবে যখন দিল্লিকে গড়ে তোলা হচ্ছে সেই কর্মযজ্ঞের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার – নামকরা নির্মান ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। প্রথমে দিল্লিতে, তারপরে লাহোর আর তারও পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকে তথ্য বিভাগে কাজে যোগ দেন খুশবন্ত সিং। ১৯৭০ আর আশির দশকে অনেকগুলি দৈনিক ও সাময়িক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। কয়েক দশক ধরে লিখেছেন কলাম। ১৯৪৭ এ ভারত ভাগের সময়কার রক্তাক্ত সময় নিয়ে লেখা তাঁর উপন্যাস আ ট্রেন টু পাকিস্তান ছাড়াও প্রায় আশিটি বই লিখেছেন। আবার একই পটুতায় লিখেছেন দেশভাগ আর তার পরের কয়েক বছরের রক্তাক্ত ইতিহাস নিয়ে উপন্যাস – ট্রেন টু পাকিস্তান অথবা গবেষণা ভিত্তিক শিখ ধর্মের ইতিহাস। কবিতাও যেমন লিখেছেন, তেমনই লিখে গেছেন নিয়মিত কলাম উইথ ম্যালিস টুওয়ার্ডস ওয়ান এন্ড অল – যেটা ভারতের অনেক সংবাদপত্রে একযোগে ছাপা হয়ে এসেছে বহু দশক ধরে। তখনকার দিনে নামী ইংরেজী কাগজগুলোতে শুধু সম্পাদক নন, সহযোগী সম্পাদকও হওয়ার স্বপ্নই কেউ দেখতে পারতেন না। অথচ খুশবন্ত সিং অনায়াসেই টি-শার্ট পরেই একের পর এক কাগজে সম্পাদকের কাজ করেছেন –টি-শার্ট ছাড়া তিনি অন্য জামা বোধহয় পড়তেনই না। তিনি হার্ড পলিটিকাল জার্নালিজম করেন নি, সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাংবাদিকতা করেছেন। কিন্তু তার পরও রাজনীতি সম্বন্ধে অনেক সরস মন্তব্য করতেন তিনি অনায়াসেই।“


আমৃত্যু লেখালেখি করেছেন তিনি – ভোর সাড়ে চারটের সময়ে উঠে – নিজের হাতে লিখতে বসে যেতেন তিনি। পেন দিয়েই লিখতেন বলেই হয়তো প্রচুর কলম চুরি করতেন খুশবন্ত সিং – নিজের মুখেই সেটা স্বীকার করেছিলেন বিবিসি কে কয়েক বছর আগে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে।“বলপেন চুরি করাটা ছিলো তার একটা অভ্যাস – নেশার মতো। কোনও বড় বৈঠকে সবার আগে পৌঁছে যেতেন তিনি। বৈঠকে নোট নেওয়ার জন্য যে প্যাড আর পেন দেওয়া হয়, সেগুলো চুরি করে পকেটে রাখার জন্য হাত নিশপিশ করতো তার। পেন অনেক আছে, তা স্বত্ত্বেও পেন চুরি না করে থাকতে পারতেন না,” হাসতে হাসতে নিজের সততা নিয়ে বলেছিলেন খুশবন্ত সিং। নিজে ধর্মকর্ম না মানলেও দুই খন্ডে শিখদের ইতিহাস লিখেছিলেন তিনি – যেটাকে প্রামাণ্য ইতিহাস বলে মনে করা হয়ে থাকে। আবার সেই তিনিই শিখ উগ্রপন্থীদের বিরোধিতা যেমন করেছেন, তেমনই শিখদের প্রধান তীর্থস্থান অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের নির্দেশে সেনা অভিযানের বিরোধিতা করে ১৯৮৪ সালে ভারত সরকারের দেওয়া পদ্মভূষণ উপাধি ফেরত দিয়েছেন। যদিও পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্ম বিভূষণ উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী কাওয়াল মালিক ২০০১ সালে মারা গেছেন। যখন গুনমুগ্ধরা তাঁর শতবর্ষ পালন করার কথা ভাবছিলেন, তখনই তিনিও বিদায় নিলেন। ২০১৪ সালের ২০ মার্চ ৯৯ বছর বয়সে ভারতের নিউ দিল্লীতে মারা যান খুশবন্ত সিং। আজ ভারতীয় এই সাংবাদিকের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী। ভারতীয় সাংবাদিক ও রম্যলেখক খুশবন্ত সিং এরতম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×