somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লোক সাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক কবি রওশন ইজদানীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২০ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকের অন্যতম কবি ও প্রাবন্ধিক, লোকসাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক রওশন ইজদানী। বর্তমানে আমাদের সাহিত্য পরিমন্ডলে রওশন ইজদানী এখন প্রায় বিস্মৃত একটি নাম। অথচ তিনি কেবল বহুমাত্রিক কবিই ছিলেননা, তিনি জসীম উদ্‌দীনের অনুসরনে সে সময়ে পূর্ব বাংলার লোক সংস্কৃতি অবলম্বনে নতুন শিল্প-সৃষ্ঠির স্বপ্নও দেখেছিলেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবি সাহিত্যের সকল শাখায়ই বিচরনণ করেছেন। রওশন ইজদানী সৃজনে ও মননে এদেশের লোক-সাহিত্যের সম্পদ সম্পর্কে যে প্রীতি ও মমতার পরিচয় দিয়েছেন তা অবিস্মরনীয়। বিস্মৃত প্রায় এই কবির আজ মৃত্যুদিন। ১৯৬৭ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরণ করেন এই মহান কবি । আজ কবির ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি লোক সাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক কবি রওশন ইজদানীকে।


প্রখ্যাত কবি ওশন ইজদানী ১৯১৭ ইং সাল, বাংলা ১৩২৪ সালের ১৫ ফাল্গুন ময়মনসিংহ জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বিদ্যাবল্লভ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ আলী কবির। পিতা শেখ আলী কবিরের পেশা ছিলো কবিরাজি চিকিৎসা। ১০ বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে স্থানীয় ওল্ড স্কিম মাদ্রাসায় রওশন ইজদানীর বিদ্যাশিক্ষার হাতে খড়ি। পরে আশুজিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন রওশন ইজদানী। এ স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে মাতৃ বিয়োগ হওয়ার কারণে তাঁর পড়া লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। মাতৃবিয়োগের পর উদাসীন হয়ে বাউলদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন ইজদানী এবং বাউল গান গেয়ে সময় কাটান। এর কিছুকাল পর জুবায়দা আখতার খাতুনকে বিবাহ করে সংসার ধর্মে প্রত্যবর্তন করেন। প্রথম জীবনে ১৩৪৬ সালে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন ইজদানী। এর কিছুকাল পরে ঋণ সালিসি বোর্ডের কেরানির চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সালে 'দৈনিক আজাদের' রিডিং সেকশনে যোগ দেন তিনি। এর পর ১৯৫৮ সালে ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনের প্রুফ রিডার, গ্রেড-১ পদে যোগ দান করেন। ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য ১৯৫৯ সালে প্রুফ রিডারের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।


রওশন ইজদানী মূলতঃ পল্লী কবি হিসেবে খ্যাত। লোকসাহিত্য নিয়ে তিনি অনেক লেখালেখি করেছিলেন। তার গবেষনা গ্রন্থ মোমেনশাহীর লোক সাহিত্য ও পূর্ব পাকিস্তানের লোক সাহিত্য। মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ সুলতান ‘নবীবংশ’ এবং ‘রসুল বিজয়’ নামে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক দু’টি সেরা কাব্য রচনা করেছেন। বিংশ শতাব্দীর কবি রওশন ইজদানী রসুল (সা.)-এর উপর একটি পুরো কাব্য ‘খাতামুন নবীঈন’ রচনা করেন। ফররুখ আহমদ ‘সিরাজুম মুনীরা’ নামে ৩০২ পংক্তির একটি দীর্ঘ কবিতা লেখেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ চিনু বিবি-১৯৫১ মোতামুন নাবীয়িন (১৯৬০), বজ্রবানী (১৯৪৭), রঙ্গিলা বন্ধু (১৯৫১), ইউসুফ জুলেখা প্রভৃতি। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ভাঙ্গাবীনা (১৯৪৪), বজ্রবানী (১৯৪৭), নীল দরিয়া (১৯৪৬), রাহগীর (১৯৪৯) খ্যাতমুন নাবীঈন, ইসলাম জাহানের দুই সেতারা, খোলাফা-ই-রাশেদীন (১৯৭৯), " মোমেনশাহীর লোক সাহিত্য " ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কবি রওশন ইজদানীর প্রকাশিত গ্রন্থ ২৬টি এবং অপ্রকাশিত গ্রন্থ ১৮টি। পাঠ্য পুস্তক প্রকাশনার সংখ্যা ৬টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ হলো নীল দরিয়া, মরুর কাফেলা, হৃদয় বীণা, ভাঙ্গা বীণা, বজ্রবাণী, ইউসুফ জুলায়খা, পূর্ব পাকিস্তানের লোক সাহিত্য, মোমেনশাহীর প্রাচীন পল্লী ও সমাজ জীবন ইত্যািদি।


রওশন ইজদানী ‘খাতামুন নবী ঈন’ লিখে ১৯৬০ খ্রীস্টাব্দে সাহিত্য কর্মের জন্য "আদমজী পুরস্কার" লাভ করেছিলেন। নেত্রকোণার খাঁটি আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই কাব্যগ্রন্থের জন্যই তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বিস্মৃত প্রায় এই কবি ১৯৬৭ সালের ২০ জুন ময়মনসিংহে মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি লোক সাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক কবি রওশন ইজদানীকে।
এখানে কবি রওশন ইজদানী’একটি ভাটিয়ালি গান তুলে ধরছি পাঠকদের জন্য।


পরান কান্দে- কান্দেরে নাইওয়ের লাগিয়া
-কবি রওশন ইজদানী

পরের ঘরে একদিন আমার যায় বারো বছর,
আমি দারুন যমের ঘর করিলাম-দিলনা নাইওর।

বারো বছর গায় লাগেনা-বাপের বাড়ির বাও,
হাওয়া-বাতাস ঠান্ডা জলে শীতল হয়না গাও।

পরান কান্দে- কান্দেরে নাইওয়ের লাগিয়া-

আইলো গাঙে গেলো জোয়ার-গাঙে শুকায় পানি,
মোর অভাগীর এক নাইওরে গেলো জিন্দেগানী।

হইয়ে পঙ্খি উইড়্যা যাইতাম- হাওয়া ধরতাম পর,
জন্মের নাইওর কইর‌্যা যাইতাম এ্যাই নিলউখ্যার চর।


নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌতালী রায়ের অজ্ঞতা না ধৃষ্টতা ?"

লিখেছেন আরািফন, ২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

একজন আইনজীবী হয়েও সে যেভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দেখিয়েছেন,তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে দেশের মানচিত্র খণ্ডিত করার হুমকি কোন নাগরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×