somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রাণ বাঁচাতে ওজোনঃ ওজোনস্তর সুরক্ষার ৩৫ বছর" প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে আর্ন্তজাতিক ওজোন দিবস

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ১৬ সেপ্টেম্বর আর্ন্তজাতিক ওজোন দিবস। ১৯৯০ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরসহ প্রটোকলের লন্ডন, কোপেনহেগেন, মন্ট্রিল ও বেইজিং সংশোধনীসমূহ যথাক্রমে ১৯৯৪, ২০০০, ২০০১ ও ২০১০ সালে অনুমোদন করে। ওজোনস্তর রক্ষায় ভিয়েনা কনভেনশন ও মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরকারী পক্ষসমূহের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ৩৫ বছর উদ্যাপন করা হচ্ছে। এ বছর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে Ozone for life: 35 years of ozone layer protection (প্রাণ বাঁচাতে ওজোনঃ ওজোনস্তর সুরক্ষার ৩৫ বছর) ।’। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি ধরে রাখছে। মানুষের সৃষ্ট কিছু ক্ষতিকর গ্যাস/দ্রব্য যেমন সিএফসি, হ্যালন, কার্বন টেট্টাক্লোরাইড, মিথাইল ব্রোমাইড ইত্যাদি দ্বারা ওজোনস্তর ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে অতিবেগুনী রশ্মির আপতন বৃদ্ধির ফলে মানব স্বাস্থ্যসহ প্রাণী জগৎ ও উদ্ভিদ জগৎ-এর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে - বেড়ে যাবে ক্যান্সার, হ্রাস পাবে শস্যের ফলন, ক্ষতিগ্রস্থ হবে সামুদ্রিক প্রাণীসম্পদ।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ও বিজ্ঞানীদের সময়োচিত তৎপরতায় ১৯৮৫ সালে ভিয়েনা কনভেনশন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ কানাডার মন্ট্রিলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্বলিত মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। এই প্রটোকলের আওতায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যসমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যসমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের প্রথম দিকে সিএফসি ও এইচসিএফসির পরিবেশবান্ধব বিকল্প না থাকায় হাইড্রোফ্লোরোকার্বন ব্যবহার অনুমোদন করা হয়, যা উচ্চ মাত্রায় উষ্ণায়ন ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় মন্ট্রিল প্রটোকল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।’বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ভূমন্ডলকে রক্ষা করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে কার্বন-ডাই অক্সাইড, মিথেন, কোরোফুরোকার্বন (সিএফসি), নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন টেট্রাকোরাইড, সালফার হেক্সাকোরাইড, পার ফোরোকার্বন প্রভৃতি ওজোনস্তর ধ্বংস করে। তবে সিএফসি (ক্লোরোফ্লোরোকার্বন) গ্যাস সরাসরি ওজোনস্তরকে ধ্বংস করে। ওজোনস্তর পৃথিবীকে ছাতার মতো আড়াল করে বহুকাল ধরে রেখেছে। এ ছাতার কারণে সূর্যের অতিবেগুনি ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর বুকে আসতে পারে না। ওজোনস্তর তাকে আসতে দেয় না। সে জন্যই পৃথিবীতে আমরা জীব-জগৎ টিকে আছি। সভ্যতা টিকে আছে। প্রাণবৈচিত্র্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালনের মাধ্যমে দেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওজোন ক্ষয়কারী সামগ্রী ব্যবহার থেকে সাধারণ মানুষ বিরত থাকবেন সেই প্রত্যাশা আমাদের।


সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মির ৯৯ ভাগ ওজোনস্তর শোষণ করে। মাত্র একভাগ পৃথিবীতে এসে পড়ে। সেই একভাগও বিশ্বের জীব-প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। মানুষসহ প্রাণিজগতের জন্য সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট তথা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষায় বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিবেগুনি রশ্মির ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই শোষিত হয় এ স্তরে। পৃথিবীর উপরিভাগে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে ৯০ শতাংশ ওজোন স্তর। ১৯১৩ সালে ফরাসি পদার্থবিদ চার্লস ফ্যাব্রি ও হেনরি বাইসন ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। এ স্তরের বৈশিষ্ট বের করেন ব্রিটিশ আবহবিদ জিএমবি ডবসন। তিনি নিজের তৈরি স্পেকট্রোফটোমিটার বা সরল বর্ণবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমি থেকেই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন মাপার কৌশল বের করেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত বিষুবরেখার কাছাকাছি ওজোনের পরিমাণ কম, আর মেরু এলাকায় বেশি।বসন্তকালে ওজোন স্তর বেশি পুরু, আবার শরতে কম।উত্তর আর দক্ষিণ গোলার্ধের মাঝামাঝি থেকে উচ্চতর অক্ষাংশে বেশি পরিমাণে ওজোন গ্যাস থাকে। ওজোনের এ তারতম্য আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সৌরশক্তির তীব্রতায়। কিন্তু ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণের জাল ওজোন স্তর দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।


ওজোন গাঢ় নীল রঙের একটি গ্যাসের নাম। ওজোনের এক অণু অক্সিজেনের তিন পরমাণু নিয়ে গঠিত। অক্সিজেনের অপেক্ষা ওজোন দেড় গুণ ভারী এবং অধিক কার্যকর। পানি ও বাতাস বিশুদ্ধ করতে ওজোনের ব্যবহার রয়েছে। বাতাসে ওজোনের পরিমাণ সহনীয় মাত্রার বেশি হলে জীবকুলের জন্য ক্ষতিকর। এর প্রতিক্রিয়ায় মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সত্তরের দশকে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। দেখা যায়, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রতি দশকে ৪ শতাংশ হারে ওজোন স্তরের পুরুত্ব কমে আসছে। ফলে সৃষ্টি হয় ওজোন গহ্বরের। ওজোন স্তর ক্ষীণ হওয়ার জায়গায় পাওয়া যায় সিএফসি ও ফ্রেয়ন গ্যাস। বিশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাজারজাত করা সিএফসি ও প্রেয়ন বিভিন্ন যন্ত্র ও শিল্পে অহরহ ব্যবহৃত হতো। সিএফসি উৎপাদিত হতো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সহযোগী উৎপাদক হিসেবে। সত্তরের দশকে প্রমাণ হয়, সিএফসি আবহাওয়ামণ্ডলের নিচের দিকে পৌঁছালে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ক্লোরিন ত্যাগ করে। এই ক্লোরিন ওজোন স্তরের বড় শত্রু, যা ভূপৃষ্ঠে অক্ষত থাকে শতাব্দীকাল। নাসার গবেষণায় ধরা পড়ে, বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে ওজোন স্তরের খুব দ্রুত ক্ষতি হচ্ছে। সেখানে বসন্তকাল ওজোন স্তরের জন্য মারাত্মক। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতি এ সময়েই ঘটে। এর জন্য দায়ী (ক্লোরোফ্লোরোকার্বন) সিএফসি।


টেকসই ও বাসযোগ্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ওজোন দিবসের গুরুত্ব সমধিক। ওজোনস্তর ক্ষয়রোধে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরসহ প্রটোকলের লন্ডন, কোপেনহেগেন, মন্ট্রিল ও বেইজিং সংশোধনীসমূহ যথাক্রমে ১৯৯৪, ২০০০, ২০০১ ও ২০১০ সালে অনুমোদন করে। ওজোনস্তর সুরক্ষার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেবার প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসাবে প্রতিবছরের মত এবছরও বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। দিবসটি পালনের মর্মবাণী সবার কাছে সঠিকভাবে পৌঁছলেই ওজোনস্তরের সুরক্ষা করে একটি টেকসই বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী গড়া সম্ভব। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে, যারা আজ এ ধরণীতে বসবাস করছে। এটি সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ পৃথিবী ধ্বংস হবে। ফলে জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেজন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরলস প্রয়াস চালানো অত্যাবশ্যক।দিবসটি পালনের মাধ্যমে দেশে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওজোন ক্ষয়কারী সামগ্রী ব্যবহার থেকে সাধারণ মানুষ বিরত থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রঙ বদলের খেলা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:৪৮


কাশ ফুটেছে নরম রোদের আলোয়।
ঘাসের উপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিশিরকণা।

ঝরা শিউলির অবাক চাহনি,
মিষ্টি রোদে প্রজাপতির মেলা।

মেঘের ওপারে নীলের অসীম দেয়াল।
তার ওপারে কে জানে কে থাকে?

কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রদ্ধেয় ব্লগার সাজি’পুর স্বামী শ্রদ্ধেয় মিঠু মোহাম্মদ আর নেই

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৩৮

সকালে ফেসবুক খুলতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ব্লগার জুলভার্ন ভাইয়ের পেইজে মৃত্যু সংবাদটি দেখে -

একটি শোক সংবাদ!
সামহোয়্যারইন ব্লগে সুপরিচিত কানাডা প্রবাসী ব্লগার, আমাদের দীর্ঘ দিনের সহযোগী বিশিষ্ট কবি সুলতানা শিরিন সাজিi... ...বাকিটুকু পড়ুন

এখন আমি কি করব!

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:১৯

মাত্র অল্প কিছুদিন হল আমি ফরাসি ভাষা শিক্ষা শুরু করেছিলাম।



এখন আমি ফরাসি ভাষা অল্প অল্প বুঝতে পারি। হয়তো আগামী দিনগুলিতে আরেকটু বেশি বুঝতে পারব।

ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=স্মৃতিগুলো ফিরে আসে বারবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৮



©কাজী ফাতেমা ছবি
=স্মৃতিগুলো ফিরে আসে বারবার=

উঠোনের কোণেই ছিল গন্ধরাজের গাছ আর তার পাশে রঙ্গন
তার আশেপাশে কত রকম জবা, ঝুমকো, গোলাপী আর লাল জবা,
আর এক টুকরা আলো এসে পড়তো প্রতিদিন চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহারা

লিখেছেন মা.হাসান, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৩




আমাবস্যা না । চাঁদ তারা সবই হয়তো আকাশে আছে। কিন্তু বিকেল থেকেই আকাশ ঘোর অন্ধকার। কাজেই রাত মাত্র নটার মতো হলেও নিকষ অন্ধকারে চারিদিক ডুবে আছে।

গায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×