somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস আজঃ 'হৃদয় দিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধ'

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ বিশ্ব হার্ট দিবস। বাংলাদেশসহ আজ বিশ্বের ১০০টি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করছে বাংলাদেশ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘"হৃদয় দিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধ"।’হৃদরোগ বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক ব্যাধী।বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তার শতকরা ৩১ শতাংশ হৃদরোগের কারণে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগে মৃত্যুর হার ১৫ লাখ, শ্বসনতন্ত্রের রোগজনিত মৃত্যুর হার ৪০ লাখ, ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার ৮২ লাখ। অন্যদিকে, হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার বছরে সর্বোচ্চ এক কোটি ৭০ লাখ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। বর্তমানে হৃদরোগকে বিশ্বের একনম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় পৌনে ২ কোটি মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। যা ২০৩০ সাল নাগাদ ২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ হৃদরোগের ভয়াবহতার ব্যাপারে সেইভাবে প্রচারণা নেই।


ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ ছাড়া কারো পক্ষে হৃদরোগের ব্যাপারে ঝুঁকিমুক্ত থাকা কঠিন। প্রতিবছর ১ কোটি ৭৩ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়এই রোগেএবং আশংকা করা হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখে। অথচ হৃদরোগের ভয়াবহতার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা অনুপস্থিত। নীরব ঘাতক হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে গোটা জীবনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। হার্ট সুস্থ রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বছরের বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল ফোকাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর বিশ্বে মোট রোগীর মৃত্যুর মধ্যে ২৯ ভাগ হার্টের রোগে মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অসংক্রামক রোগগুলোর ভেতর হৃদরোগকে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে শনাক্ত করে ২০২৫ সালের ভেতর এসব রোগে মৃত্যুর হার ২৫ ভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১৯৪টি দেশে কর্মসূচি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। হার্টের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এনজিওপ্লাস্টি আর বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে এ রোগের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই দেশের শতকরা ৯০ জনের পক্ষেই চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া অধিকাংশ মানুষই থাকেন গ্রামে। সর্বত্র যোগাযোগের ব্যবস্থাও উন্নত নয়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটে থাকে। তাই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেই অ্যাটাক করুন হার্ট অ্যাটাককেই। অর্থাৎ হার্টকে রাখুন সুস্থ ও সবল।


মানব দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হার্ট (হৃৎপিণ্ড) । আপনি কীভাবে জীবন যাপন করছেন তার ওপর নির্ভর করে হৃদরোগের ঝুঁকির ব্যাপারটি। অতিরিক্ত ধূমপান, শুয়ে-বসে সময় কাটানো, শরীরচর্চাহীন জীবন, চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণেই চর্বি জমা হয়ে ধমনিগুলো সরু হতে থাকে। আর ধমনির ভেতর রক্ত প্রবেশের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেই ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো অঘটন। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ ছাড়া একজন ব্যক্তির পক্ষে হূদরোগের ব্যাপারে ঝুঁকিমুক্ত থাকা কঠিন। তাই সকলে মিলেই সুস্থ হার্টবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যেখানেই বসবাস করি না কেন, আমাদের কর্মক্ষেত্র এবং খেলা বা বিনোদনের স্থান যেখানেই হোক না কেন, তা যেন কোনোভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি না বাড়ায়। সুস্থ হার্টবান্ধব পরিবেশ যেন সর্বক্ষেত্রে বজায় থাকে। তাই সবাই মিলেই সুস্থ হার্টবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই অধিকতর হূদরোগের ঝুঁকির ভেতরে অবস্থান করছে। আর সে কারণেই বারবার শিশু ও নারীর ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার কথা বলা হয়।


সুস্থ হার্টবান্ধব এবং স্ট্রোকমুক্ত কমিউনিটি নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকায় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হ্যান্ডবুক প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিস্তারিত করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে বিরাজমান হেলথ প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলে সমাজে মৌলিক পরিবর্তন আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্যালরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আর নিয়মিত শরীর চর্চাই পারে মানুষকে হার্টের রোগ থেকে মুক্তি দিতে। তাছাড়া হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকে সচেতন থাকলেই এর থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। হৃদরোগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সচেতনভাবেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি, মেডিটেশন ও শরীর চর্চাই হৃদরোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশ্ব হার্ট দিবসে আমরা অবশ্যই হৃদয়ের কথা শুনব। ফিরে তাকাব আমাদের হার্টের সুস্থতার দিকে। 'সুস্থ হার্ট সর্বত্র, সবার পছন্দ' তাই হার্ট সুস্থ রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা করতেই সচেষ্ট হবো। "হৃদয় দিয়ে হোক হৃদরোগ প্রতিরোধ" বিশ্ব হার্ট দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×