somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীতে ফ্রী কিছু পাওয়া যায়না একমাত্র মায়ের ভালোবাসা ছাড়া

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লোভনীয় ফ্রীর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও পৃথিবীতে কোন কিছুই ফ্রী পাওয়া যায়না। সৃষ্টির শুরুতেও কোন কিছু ফ্রী ছিলনা। যার ফলে বিনিময় প্রথা চালু হয়েছিলো এবং সেটাই বর্তমান চলমান রয়েছে। আমরা পৃথিবীতে আসি কিছু শর্ত নিয়ে। যেমন একজন মুসলিম এর ক্ষেত্রে, তাকে সময় মত নামাজ পড়তে হবে, রোজা রাখতে হবে, জাকাত দিতে হবে আরও বেশ কিছু কাজ আল্লাহ্‌তালা আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছেন। যদি আমরা তার কথা মেনে চলি তাহলে আমরা আখিরাতে জান্নাত পাব আর যদি না মানি জাহান্নাম পাব। অর্থাৎ জান্নাত ফ্রী পাচ্ছিনা এমনকি জাহান্নামটাও ফ্রী না। যেখানে মহান রাব্বুল আলামিন সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা জান্নাত ফ্রী দিবে না সেখানে আমরা তার তৈরী মানুষ কেন ফ্রী খুজতে যাই। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম মা। মা (ইংরেজি: Mother, Mum, Mom) হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন - তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম ও মা হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। প্রকৃতিগতভাবে একজন নারী বা মহিলাই সন্তানকে জন্ম দেয়ার অধিকারীনি। গর্ভধারণের ন্যায় জটিল এবং মায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবস্থানে থেকে এ সংজ্ঞাটি বিশ্বজনীন গৃহীত হয়েছে। আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন. " যার মা আছে সে কখনোই গরীব নয়"। এই মা্'ই হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক যেখানে আমরা আমাদের সকল দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি! বিনিময়ে নেই বিনাসুদে অকৃএিম ভালোবাসা। পৃথিবীতে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে, সেই ভালোবাসার মাঝে যে কোনো প্রয়োজন লুকিয়ে থাকে। কিন্তু সবার জীবনে একজন আছেন যিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই তোমাকে ভালোবাসবে সে হলো মা। মা মানে আদর, মা মানে শান্তি, মা মানে ছায়া। মা এর ভালোবাসা এর মধ্যে কোনো ভেজাল নেই, নেই কোনো মলিনতা। যেকোনো পরিস্থিতি হোক না কেন মায়েরা সবসময় তাদের সবকিছু বিলিয়ে দেয়। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা একমাত্র মা ব্যতীত এই দুনিয়ায় পাওয়া যায় না। স্বার্থের শেষ চূড়ায় থাকে গভীর ভালোবাসা। কিন্তু মায়ের বেলায় থাকে সীমাহীন নিঃস্বার্থতা। দুনিয়ার সব কিছুই বদলাতেপারে,কিন্তু মায়ের ভালবাসা কখনো বদলাবার নয়।


মা, এমনই এক মানুষ যাকে ছাড়া একদম চলে না। জীবনের শুরু থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তার পাশে থাকা চাই। জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা চিরদিনের। সন্তান ও মায়ের বন্ধন আমৃত্যু, শ্বাশত। আল্লাহ তাঁর পবিত্র কুরআনে বলেছেন "আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।" (আল কুরআন, সুরা লোকমান, আয়াতঃ১৪)। মা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন । মা এর চেয়ে আপনজন এই পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। পৃথিবীতে তোমার হাজার হাজার বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী থাকবে, কিন্তু সবশেষে তুমি একজন মানুষকেই খুজে পাবে, যাকে তুমি শত আঘাত দেওয়ার পরেও সে শুধু তোমার ভবিষ্যত নিয়েই ভাবে, আর তিনি হলেন মা। সর্বপরি মা হচ্ছে সন্তানের আদর্শ বিদ্যা নিকেতন। মায়ের আদর অতুলনীয়। মা হতে গিয়ে যে মারা যায় ইসলামে তাকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছে। (বুখারি শরিফ) তাই আমাদের সকলের উচিৎ মাকে নিয়ে ভাবা। মায়ের ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে কিছু করা । মা থাকতেও তাকে দূরে সরিয়ে রাখা অনেকটা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝার মতো। যার মা পৃথিবীতে নেই, সে যে কতটা অসহায় তার বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। তাই কৃত্রিমতা নয় মা'কে ভালবাসতে হবে হৃদয়ের একান্ত গহীন থেকে। ভালবাসতে হবে একদিনে জন্য নয়: বরং প্রতিদিন ও সার্বক্ষণিক ভাবে। যেভাবে মা ভালোবেসে আমাদের বড় করে তুলেছেন ঠিক সেভাবেই তাকে ভালোবাসতে হবে সারা জীবন। আর যাদের মা নেই তাদের কর্তব্য হলো মা'য়ের জন্য দোয়া করা "রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা" সুরা আল ইসরাঃ আয়াতঃ২৪ “... My Lord! Have mercy on them both (parents) as they did care for me when I was little.” (Sura: Al-Isra, Ayat: 24) অর্থঃ হে আল্লাহ্‌ শিশুকালে আমার মা বাবা যেমন স্নেহ মায়া মমতা ভালোবাসা দিয়ে লালন করেছিলেন, তুমিও তাঁদের সে ভাবেই লালন কর। এটা আরবী না, এটা বাংলা না, এটা ইংরেজী না। এটা পৃথিবীর তাবৎ পিতা মাতার জন্যে সন্তানদের পক্ষ থেকে এক শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা। এটা সন্তানদের অন্তরের কথা। হৃদয়ের কথা। এটা প্রকাশ করার জন্যে কোন নির্দিষ্ট ভাষা জানার প্রয়োজন নেই। এটা কোরানের কথা হোক, এটা গীতার কথা হোক, এটা বাইবেলের কথা হোক- এটা সকলের অন্তরের কথা। মহান আল্লাহ আমাদের সবার পিতামাতাকে ক্ষমা করে তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমিন

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২৫
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×