
আপডেটঃ
৫ জুলাই য০২১ঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯৬৪ জন। এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। শুধু মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যাই নয়, রেকর্ড হয়েছে করোনা শনাক্তের হারেও। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর আগে গতকাল রোববার ২৪ ঘণ্টার হিসেবে দেশে করোনায় ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়।
গতকাল ৪ জুলাই রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে করোনায় দেশে মৃত্যুর আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ওই দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৫৩ জনের মধ্যে খুলনায় ৫১, ঢাকায় ৪৬, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ১২, বরিশালে ৩, সিলেটে ২, রংপুরে ১৫ এবং ময়মনসিংহে ৯ জন। এর আগে গত ১ জুলাই দেশে করোনায় সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়। গত ২ জুলাই ১৩২ জন্ এবং ৩ জুলাই ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মারা গেছেন ১৫ হাজার ৬৫ জন আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৭ জন। উদ্বেগের বিষয় দেশে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের দেহে ভারতীয় ধরন (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট) পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। রোববার আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বর থেকে দেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জুন মাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা যায়, করোনায় আক্রান্তদের ৭৮ শতাংশই ভারতীয় ধরনে সংক্রমিত হয়েছেন। এ বছরের এপ্রিলে ভারতীয় (ডেল্টা) ভ্যারিয়্যান্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ ধরনের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। মে মাসে ভারতীয় ধরন ৪৫ শতাংশ ও জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় শনাক্ত হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। ১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনের কঠোর এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। চলমান বিধিনিষেধে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিং মল, দোকানপাট এবং গণপরিবহন ছাড়াও যন্ত্রচালিত যানবাহন (জরুরি কাজে নিয়োজিত ছাড়া) চলাচল বন্ধ রয়েছে। সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র, জনসমাবেশ হয়—এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও বন্ধ। অতি জরুরি প্রয়োজন (ওষুধ-নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে মানা করেছে সরকার। নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লকডাউনের চতুর্থ দিনে ঘরের বাইরে বের হওয়ায় ৬১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় মোবাইল কোর্টে ১৬১ জনকে ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলমান লকডাউনে সড়কে যানবাহন নিয়ে বের হওয়ায় ডিএমপি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ ৪৯৬ গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করেছে ১২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান এই বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে করোনাসংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, চলমান এই বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




