
প্রতারণার ফাঁদ পাতা ভূবনে!
কখন কে ধরা পরে কে জানে
গরব সব হায় কখন টুটে যায়,
সলিল বহে যায় নয়নে।!! কবিগুরু
দেশে প্রতারকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বদলেছে প্রতারণার ধরন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনে ওতপেতে থাকা প্রতারকরা নানা কৌশলে মানুষের অর্থকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে। নানা কায়দায় প্রতারণার ফাঁদ পাতে এ চক্রের সদস্যরা। উঠতি বয়সি কিছু বখাটে নারী বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে। কিছু অসাধু সাংবাদিক ও আ্ইনশৃৃ্ঙ্খলা বাহিননীর কিছু নষ্ট লোক এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের ইন্ধনে নারীরা ভিক্টিমের সখ্যতা গড়ে তোলে ম্যাসেঞ্জারের কথোপকথন কিংবা অডিও রেকর্ড করে তা ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়ে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। সাধারণত সহজ-সরল ও টাকাওয়ালা মানুষই তাদের লক্ষ্য। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরী ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রতারণা করছেন। এসব প্রতারণার মধ্যে কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন, ঘরে ডেকে এনে জোর করে অশ্লীল ছবি তুলে তা ভাইরাল করার মতো বিচিত্র ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করা হচ্ছে। ব্যসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিও এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অহরহ। এসব মেয়েরা টেলিফোনে অনৈতিক সুবিধা দেবার কথা বলে, বা প্রেমের ফাঁদ পেতে যুবকদের তাদের বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে চাঁদাবাজি করছে। ফোনে বা ব্যাক্তিগতভাবে এসব নারীর সঙ্গে পরিচয় হলে ওই নারীর অনুরোধে বা প্রতারণায় তার বাড়িতে গেলে তাকে আটকে রেখে তার সঙ্গে নগ্ন ছবি তোলে। এরপর তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়।এসব কাজে বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য এসব মেয়েরা অর্থও বিনিয়োগ করে। বিশ্বস্ততা অর্জনের পর তাদেরকে বাড়ি বা তাদের ফ্লাট বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সর্বাসান্ত করছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বেদড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা টাকা কড়ি হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যেসব মানুষ ভার্চুয়াল প্রতারণার শিকার হন, তাদের মধ্যে ৭০ ভাগই মামলা করতে চান না। অনেকে সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে এসব প্রতারণার ঘটনা চেপে যাচ্ছেন। সামাজিকভাবে মান ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে তারা মামলা করতে চান না। কেউ মামলা করলেও তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাতে থাকেন।

দেশের প্রতিটি শহরর এমন ঘটনা এখন অহরহ চলছে । অবস্থাটা এমন- যেন প্রতিটি গলির মোড়ে দাড়িয়ে রয়েছে একেকজন প্রতারক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে চারদিকে ওতপেতে আছে নানা প্রতারক চক্র। ভয়ংকর সব প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও নেই প্রতিকার। মামলার পর গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ চক্রের সদস্যরা। এসব প্রতারণার শিকার রাজনৈতিক নেতারাও। তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল’ করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। শুধু আইন প্রয়োগ বা অপরাধীদের গ্রেফতার করে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এদের খপ্পর থেকে দূরে থাকার একমাত্র মাধ্যম সচেতনতা।
#কবিগুরুর কবিতার প্রথম শব্দটি পরিবর্তিত হয়েছে!
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




