
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৪তম আসরের পর্দা উঠছে গত মঙ্গলবার। মহামারি শুরুর পর এটাই প্রথম কোনো বড় চলচ্চিত্র উৎসব যা প্রায় স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। করোনা মহামারির কারণে পুরো বিশ্বের সিনেমা হল এবং চলচ্চিত্র উৎসবগুলো ছিলো তারকাহীন, অন্ধকারে নিমজ্জিত। এর মধ্যে কান চলচ্চিত্র উৎসব যেনো আলোকচ্ছটা নিয়ে হাজির হয়েছে। এটা এই বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে, ‘সিনেমা মরে যায়নি’৷ এই বার্তা ঘোষণা করেছিলেন উৎসবের প্রধান কর্তাব্যক্তি থিয়েরি ফ্রেমো। হলিউডের এক ঝাঁক তারকার দেখা মিলবে এই উৎসবে। ২৪ জন বিচারক থাকছেন এবারের উৎসবে৷ নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন পরিচালক স্পাইক লি। প্রথমবারের মতো এই উৎসবে একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান বিচারক হিসেবে থাকছেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরও আছেন ‘দ্য সার্পেন্ট’ তারকা তাহার রহিম এবং অভিনেত্রী ম্যাগি গিলেনহাল। এবারের উৎসবে মাত্র চারজন নারী পরিচালকের মুভি প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে। নিকোল কিডম্যান, জুডি ফস্টার, ম্যাট ডেমোনের মতো তারকারা হাজির থাকবেন কানে। উৎসব চলবে ১৭ই জুলাই পর্যন্ত। গতকাল বুধবার ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিট) কানের ডেবুসি থিয়েটারের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার দেখানো হয়েছে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কানের অফিসিয়াল বিভাগ ‘আঁ সার্তেইন রিগার্দ'-এ স্থান পাওয়া চলচ্চিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর'৷কান চলচ্চিত্র উৎসবের 'আঁ সার্তে রিগা' ক্যাটাগরির প্রথম ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। সিনেমাটি প্রদর্শীত হওয়ার পর ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ পেয়েছে। রেহানা মরিয়ম নূর ছবিটি এবার কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ইতিহাস গড়েছে।কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনয়ন পাওয়া এটিই প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের লেখা ও পরিচালিত এবং প্রটোকল ও মেট্রোর ব্যানারে প্রযোজনা করেছেন জেরেমি চুয়া এছাড়াও সহ-প্রযোজনা করেছে সেন্সমেকারস প্রোডাকশন। ছবিটি ৩৭ বছর বয়সী একজন সহকারী অধ্যাপকের জীবন সংগ্রামের গল্প নির্মিত করা হয়েছে। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে আছেন সাবেরী আলম, আফিয়া জাহিন জায়মা, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ, কাজী সামি হাসান, ইয়াছির আল হক, জোপারি লুই, ফারজানা বীথি, জাহেদ চৌধুরী মিঠু, খুশিয়ারা খুশবু অনি, অভ্রদিত চৌধুরী।ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন।

একজন মানুষকে জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।কোনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সত্যিই কঠিন। কোনো সিদ্ধান্তের জন্য যদি তাকে কঠিন মূল্য দিতে হয় এবং তা জেনেও কেউ তার অবস্থানে অবিচল থাকলে তাকে দৃঢ় চরিত্রের বলতেই হয়। তেমনই এক চরিত্র রেহানা মরিয়ম নূর। রেহানা যেন পাশের বাড়ির এক মেয়ে৷ ঢাকার মধ্যবিত্ত সমাজেরই চেনা একজন৷ কিন্তু এই সাধারণের মাঝেই অসাধারণ ক্ষমতা আছে- সাদের সেলুলয়েডে এই বার্তা পেলেন কানের দর্শকেরা। যার নামে ছবিটি, সেই রেহানা মরিয়ম নূর একজন সিঙ্গেল মাদার। ৬ বছর বয়সী এক ফুটফুটে কন্যার মা। মেয়েকে একা বড় করা, বাবা, মা ও ভাইয়ের দেখাশোনা, খরচ জোগাড়- সবই করতে হয় তাকে। এমন মানুষকে দৃঢ়তো হতেই হয়। একদিকে আশেপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে নিজে কিছু করতে না পারার যাতনা, অন্যদিকে শিক্ষক-চিকিৎসক-মা-মেয়ে-বোন এমন নানা চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে নারীদের প্রতিনিয়ত যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, বাঁধন এখানে বাস্তবের রেহানা হয়ে ফুটে উঠেছেন। গল্পের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গিয়ে এসব দেখান পরিচালক। আসল বিপত্তি আসে যখন একজন ছাত্রী আরেক শিক্ষকের কাছে যৌন নিপীড়িত হবার সময় ঘটনাটির একটি অংশ দেখে ফেলেন রেহানা। এরপর প্রতিকার চাইতে বারবার বললেও সেই ছাত্রী রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর রেহানা নিজেই নিজেকে বানান ভিক্টিম। মূলত এই ঘটনাকে আবর্তিত করেই ছবিটি৷ অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়া আর নিজের জেদ, দুই মিলে রেহানাকে দাঁড় করায় এক ভীষণ কঠিন পরিস্থিতিতে। মূল চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। অন্য যারা অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে আলাদা করে বললে বাঁধনের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করা আফিয়া জাহিন জাইমার কথা। বাকি অভিনেতা অভিনেত্রীরাও ভালো করেছেন। প্রায় পৌণে দুই ঘন্টার ছবিটিতে অতিরিক্ত কোনো চরিত্র বা অতিরিক্ত কোনো বিষয় নেই। পুরো ফিল্মটি শুট হয়েছে ইনডোরে। এছাড়া গল্পটি বলা হয়েছে চরিত্রগুলোর কাছ থেকে৷ বড় সেট তেমন একটা দেখা যায়নি৷ শুধু একটা হলরুমে পরীক্ষা হচ্ছে, এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সেট। ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের সময় কানের ডেবুসি হলের দর্শকরা নীরবে দেখেছেন এবং ছবি শেষে দাঁড়িয়ে মুহুর্মুহ হাততালি দিয়েছেন। তাই এই ছবি নিয়ে আরো আশাবাদী পরিচালক সাদ।
সূত্রঃ একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




