somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপা ডাক যাদের গায়ে জ্বালা ধরায়, তাদের চুবানো হোক বুড়ি গঙ্গার জলে !!

০৯ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‌‘বোন’ সম্ভবত এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশীর্বাদের নাম। ভাই বা বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জীবনে অত্যন্ত আনন্দদায়ক বলে জানাচ্ছে গবেষণা। গবেষণা বলছে, যাদের বোন আছে তারা ভাগ্যবান। বড় বোন থাকা মানে ঘরে একসাথে দুইটা মা থাকা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলে হোক বা মেয়ে, তার যদি একটি বোন থাকে তো সেই জীবনের আনন্দই আলাদা। যাদের বড় বোন নাই তারাই কেবল বুঝতে পারে আপার অভাব। আর বোনরাও কখনো আপা হতে পারেনা যদিনা তার কোন ছোট ভাই না থাকে। বড়ই হতভাগা তারা যাদের বড় বোন বা বোনদের ছো্ট ভাই নাই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্ড় আদরের ছোট ভাই ছিলো শেখ রাসেল। যিনি পাষণ্ড কয়েকজন বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে বাবার হত্যাকাণ্ডের দিন নির্মমভাবে নিহত হয়ে ছিলেন। মত্যুর পুর্বে তার ঘাতকদের কাছে তার দাবী ছিলো আমি আপার কাছে যাবো। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন আপাই হয়তে রক্ষা করতে পারবে তাকে ঘাতকদের হাত থেকে। দূঃভাগ্য সেদিন তার আপা দেশে ছিলেন না তাই তার আকুতিও আপার কাছে পৌঁছেনি। বাবা ও ভাইদের মৃত্যুর স্মৃতিচারণে আজও আমাদের প্রধানমন্ত্রী, শেখ রাসেলের আপা অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন। যাদের ছোট ভাই নাই তারা হয়তো কোন দ্নিই অনুধাবন করতে পারবেন না আপা ডাকটি কত মধুর। বড় বোনকে আপা বা আপু বলে ডাকা মনে তার প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।


ইউনিসেফের জনপ্রিয় মিনা কার্টুনে আমরা দেখি কত যতনে বড়বোন মিনা তার ছোট ভাই রাজুকে পরম মমতায় ছায়ার মতো তার পাশে থেকে মায়ের মমতা দিয়ে তাকে বড় হতে সহায়তা করেছে। মায়ের কাছে ছেলেরা যেমন বড় হয় না তেমনই বোনের কাছেও হয় না। তাদের ধারণা তাদের ভাইরা এখনো জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালতে গেলে ফ্লোর ভাসিয়ে ফেলবে। তারা মনে মনে প্রত্যাশা করে ভাইরা চিরদিনই ছোট থাকুক যাতে তারা তাদেরকে মধুর শাসন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। ছোট ভাইয়ের পড়ার টেবিল গুছিয়ে দেয়া, বিছানার চাদর টেনে টানটান করে দেয়া, এলোমেলো কাপড়চোপড় ওয়ারড্রবে তুলে দেয়ার কাজগুলো তারা নিজেদের দ্বায়িত্ববোধ থেকেই করে দেয় পরম যতনে। হুট হাট ঘুমিয়ে পড়া ভাই এর ফোনের ওয়াইফাই অফ করা, প্লাগ থেকে চার্জার খোলা, ল্যাপটপ অফ করা, লাইট নিভিয়ে দেয়া এসব সে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে। মায়েরা কোথাও দুদিনের জন্য গেলে তারা যেন একটা পুরো সংসার হয়ে উঠে। বয়স যত কমই হোক, এক হাতে ঘর সামলানোর আশ্চর্য এক ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা তাদের দিয়েছেন। সে কারণে ভাইদের কাছে আপার স্থান মায়ের মতোই। যাদের একটা বোন নেই তাদের জীবনের অর্ধেকটা বৃথা। ছেলে বা মেয়ে যেই হউক না কেন, একজন বোন বা আপা থাকলে সে কিন্তু চরম সুখী। কারণ একজন বোনই পারে মায়া মমতা দিয়ে আপনাদের জীবনকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে তুলতে। তাই অনেকেই দেখি, বড় বোনকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করতে। সংসারে বোনের মতো এতটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আপনাকে কে দেবে!


(সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লা)
তবে কিছু অহংকারী দেমাগী নারী আছেন যারা আপা নামে ডাকা ঘৃনা বা নিচুস্তরের সম্মোধন মনে করেন!! এরকম বহু ঘটনা আমরা পত্রপত্রিকার পড়েছি যে পদাধীকারে সমাজের কিছু উচ্চ পদের নারী নিম্মস্তরের বা অধনস্তদের কাছ থেকে আপা সম্মোধন শুনলে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন। তার বড়ত্ত্ব জাহির করার জন্য আপা ডাকা ভাইকে নানা ভাবে হেনস্তা কিংকা শারীরিক নির্যাতন করতেও দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লাকে স্যার না বলে আপা বলায় ইউএনও এর নির্দেশে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করেছে এমন অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর বাজার বাস স্ট্যান্ডে এমনটি ঘটে। আহত ব্যবসায়ী জয়মন্টপ এলাকার গৌর চন্দ্র দাসের ছেলে তপন দাস। তপন দাস পেশায় একজন স্বর্ণকার। জায়গীর বাজারে তার দোকান রয়েছে। খরিদ্দারের চাপের মুখে পড়ে ওই সময় দোকান খোলার অপরাধে ইউএনও তাকেসহ খরিদ্দারদের জরিমানা করেন। এ সময় তিনি স্যার না বলে আপা বলে ক্ষমা চাইলে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে কেন আপা বললি বলেই পুলিশ লাঠি দিয়ে তার শরীরে আঘাত করতে থাকে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা তা স্বীকার করেন। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল রফিক বলেন, ইউএনও লাঠি দিয়ে বারি দিতে বলছে বলেই আমি তার নির্দেশ পালন করছি এতে আমার কোনো দোষ নেই।


ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা সংস্থার ‘তথ্য আপা' প্রকল্প চালু করেছে। আপা ডাক যদি নিষিদ্ধ বা নিচু স্তরের হতো তবে সরকার আপাকে স্বীকৃতি না দিয়ে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করতো। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লাকে স্যার না বলে আপা বলে ডাকার অপরাধে তপন দাসকে লাঠিপেটা করার তিব্র নিন্দা জানাই।
সূত্রঃ দৈনিক আমােদের সময়

© নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ২:১৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×