
স্মৃতি তুমি বেদনার
শিল্পী: শ্যামল মিত্র
স্মৃতি তুমি বেদনার
আজিও কাঁদিছে হারানো স্বপন
হৃদয়ের বেদিকায়।
স্মৃতি হলো মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে সঞ্চিত কোন বিশেষ ঘটনায় ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতিগুলির সমাহার। আমাদের মস্তিস্কে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। তথ্যের উৎস পূর্ববর্তী শিখন এবং অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া যায়। পুনরুদ্রেক সাধারণত কোন উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়া হিসাবে সম্পন্ন হয়। মস্তিষ্কে তথ্য ধারণ করে রাখার প্রক্রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে ধারণকৃত তথ্যই স্মৃতি। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে তথ্য আহরণ করে মস্তিষ্কে জমা করা হয় এবং দরকার অনুযায়ী সেই তথ্য আবার ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়ে আসা হয়। স্মৃতি রোমন্থন হলো অতীতের বিশেষ কোন সময় অথবা খুশির ঘটনার ব্যাপারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া। স্মৃতি রোমন্থনের ক্ষেত্রে সাধারণত কাছের মানুষের স্মৃতিই ঘুরেফিরে চলে আসে এবং এটি সামাজিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলে। তবে স্মৃতি রোমন্থনে নেতিবাচক দিক উঠে আসে যাতে উষ্ণ আবেগগুলো স্মৃতি রোমন্থনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছেন, "যৌবনই ভোগের কাল বার্ধক্য স্মৃতিচারণের"। স্মৃতি , তা যতই মধুর হোকনা কেন তা রোমন্থনে জ্বালা বাড়ে বই কমেনা। অতীতের কোন মধুর স্মৃতি বর্তমান সময়ে রোমন্থণ করলে সেই স্থান, কাল, পাত্র ফিরিয়ে আনার কোন সাধ্য নাই বলেই তা জ্বালা বাড়ায়। কিছু কিছু স্মৃতি - এক সময় পরিনত হয় দীর্ঘশ্বাসে। আর কষ্টের কোন স্মৃতি কখনোই উপশম হবার নয়। ধিকি ধিকি আগুনের মতো তা আজীবন জ্বলতে থাকে ভুক্তভো্গীর মনে। তাই মধুর হোক কিংবা দুঃখের সব স্মৃতিই জ্বালাময়। তাইতো শিল্পীর কণ্ঠে করুন সুরে বাজে স্মৃতি তুমি বেদনার।

প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই ছোট-বড় ভুল থাকে। জীবনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি যদি মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই দুর্বিষহ মানসিক অবস্থাকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) বলে। কাজের ফাঁকে অনমনস্ক হয়ে হয়ত আপনি পুরাতন স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। ভাবছেন, কী ছিল আপনার ভুল-ত্রুটি। পুরানো সমস্যাা নিয়ে চিন্তা কখনোই আপনাকে সাহায্য করবে না। সেগুলো নিয়ে অযথা ভাবতে থাকলে আপনি কখনো সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। মানুষের মস্তিষ্ক থেকে দুঃসহ ও ভীতিকর স্মৃতিগুলো মুছে ফেলে কেবল সুখস্মৃতি সংরক্ষণের উপায় থাকলে ভালোই হতো। মার্কিন গবেষকেরা সেই উপায় খুঁজছেন বহুদিন ধরেই। স্মৃতি অপসারণ ও নতুন স্মৃতি তৈরির মতো কোনো রাসায়নিক বস্তু তৈরি করা সম্ভব হলে বেদনার স্মৃতির কবল থেকে মানুষ হয়তো মুক্তি পাবে। কি ন্তু দুঃখের বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি একটি ওষুধ (এসআর-৮৯৯৩) ইঁদুরের অপসারণ ও নতুন স্মৃতি তৈরিতে গত জুনে কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে ওষুধটির কার্যকারিতা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একদল মাদকসেবীর স্মৃতিভ্রম ও নতুন স্মৃতির প্রভাব নিয়ে জরিপ চালান। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতি পাঁচজনের একজনই নিজ নিজ অতীত স্মৃতি সম্পর্কে দুর্বলতার পরিচয় দেন। এ ছাড়া তাঁদের স্মৃতিও যথেষ্ট বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেয়নি। তাই সর্বক্ষণ নিজের পুরোনো স্মৃতি মনে করে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকার কোন মানে নেই। যা চলে গেছে কখনো ফিরে আসবে না। বরং বার বার পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন স্ট্রেস বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস কমায়। তাই স্মতি তা হোক অম্ল বা মধুর তা রোমন্থন করে দুঃখ বাড়াবার কোন মানেই হয়না। যা হারিয়ে গেছে যাকনা, মিছে তুমি তাকে আর খুঁজনা !!
সূ্ত্রঃ science Daily
© নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




