somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অচেনা হৃদি
স্বপ্ন দেখি সভ্য পৃথিবীর, যেখানে মানুষের মাঝে সত্যিই শুধু মানুষ পাবো, যেখানে মানুষের বেশে কোন অমানুষ থাকবে না ।

প্রিয় সামু, আমি তোমাকে ভালোবাসি

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি যেদিন সামুতে প্রথম লগইন করি সেদিন শুধু ডিএক্টিভেশন বাটন খোঁজ করছিলাম। কারণ ভার্চুয়াল জগতে আমার ইতিহাস বেশি সুবিধার ছিল না। ফেসবুকে ঝামেলা বাঁধিয়ে দিয়েছিলাম। সেই ঝামেলার ঝাপটা হালকা করে আমার পরিবারের উপর দিয়েও গিয়েছিল। কাজেই ফেসবুক ডিএক্টিভ করি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি সামুতে ঢুকে প্রথমেই ডিএক্টিভ বাটন কোথায় আছে তা বের করতে চাইলাম। এখানেও যদি ঝামেলা বেঁধে যায় তাহলে পালাবো- এমন পরিকল্পনা করছিলাম।
কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কত অজগর পেয়ে গেলাম, পেলাম না কেঁচোটিকে।

আমি প্রথম দিকে দিকভ্রান্তের মত কত কাজ করলাম সামুতে। ফেসবুকের সেই প্রো পিক সামুতেও প্রো পিক হিসেবে দিয়েছিলাম। তারপর কেউ কেউ বলল, একটা ভালো প্রো পিক দাও, ভালো প্রো পিক দিলে তাড়াতাড়ি সেফ হওয়া যায়। আমি ভাবলাম আমি যেহেতু মেয়ে তাই এনোনিমাস একটা মেয়ের ছবিকেই প্রো পিক দেবো। নেট থেকে খুঁজে একটা মেয়ের ছবি বের করলাম, সমস্যা হল সেই মেয়ে হিজাব পরা। হিজাবের ছবি দেবার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু সেই ছবিটা আমার এতো পছন্দ হয়েছিল, যে কারণে সেটাকেই ব্যবহার করলাম। দুসপ্তাহের মাথায় হঠাত সেফ হয়ে গেলাম, আমার সেফ হবার পেছনে ছবিটার আসলেই কোন ভূমিকা ছিল কি না তা জানি না। সেফ হবার পরেই সেই ছবি ফেলে আবার আমার প্রিয় পিকটাকে প্রো পিক বানাই।

প্রথম প্রথম সামুতে আরও পাগলামি ছিল, যেমন কেউ আমার পোস্টে অপ্রিয় কোন মন্তব্য করলে পুরো পোস্টটাই মুছে ফেলতাম।

আমি সেফ হলাম, আমার লেখা প্রথম পাতায় গেল, তারপর নির্বাচিত পাতায় গেলো, তারপর সামুর ফেসবুক পাতায় গেলো, এককথায়, ব্লগার হিসেবে আমি সামুতে সফল হলাম।
তারপরেও কোথায় যেন ঘাটতি ছিল। সামুতে লেখার আগ্রহটা হঠাত মরে যেতে লাগলো।

এমন দিনেই আমি ব্লগারদের কিশোরী ভাবনা নিয়ে পোস্ট দিই। সেখানে আমার ব্লগিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলো। ব্লগারদের নিয়ে ট্রল করাকে বিরূপ দৃষ্টিতে দেখা হল। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কিরে বাবা! অন্যায় করে ফেললাম না তো? আমি কি তবে ব্লগারদের অংশ হতে পারিনি?
আবার মাথায় ডিএক্টিভেশন বাটনের চিন্তা ঘুরছিল। এমন সময় স্বয়ং সামুর মোডারেটর ভাইয়া আমার পোস্টে মন্তব্য করে আমাকে লেখালেখি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করলেন।
আমার আর কি চাই? এই স্বীকৃতির উপর আর কি বলার আছে?
এখন আমি ইস্পাতের মত দৃঢ় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি সামুর একটি অংশ, আমি এই সামুতেই থাকবো আজীবন।
মাত্র কয়েকদিন আগেও আমার সবচেয়ে প্রিয় ওয়েবসাইট ছিল উইকিপিডিয়া। আর এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাইট একমাত্র সামু। গুগলে অচেনা হৃদি লিখে সার্চ দিলেই আমার সামু পেজ চলে আসে। ওল্ডম্যান এন্ড দ্যা সি উপন্যাসের বুক রিভিউ সার্চ দিলেই দেখি আমার লেখাটি চলে আসে। এমন তৃপ্তি আমি কোথায় পাই? এসব তো সামুর অবদান।

ব্লগার সনেট কবির সনেট নিয়ে কারো কারো কোন আগ্রহ নেই, কিন্তু সনেট কবি “ব্লগার অচেনা হৃদি” নামে এক সনেট লিখে কামনা করেছিলেন যেন আমার হাতে এই ব্লগের সম্ভ্রম বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ সনেট কবির প্রার্থনা কবুল করুক। আমি এখন বিশ্বসেরা ব্লগারদের নিয়ে স্টাডি করছি। যদি পারি এই ব্লগকে আমি ব্লগিং জগতের সবচেয়ে সেরা অবস্থানে নিয়ে যাবো ইনশাল্লাহ।

সবাই আমার সাথে থাকুন প্লিজ, যদি সাথে থাকার ইচ্ছে না হয় তবে দূরে থাকুন, দোহাই লাগে, অযথা আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করে সময় নষ্ট করবেন না। এতে আপনার যেমন লাভ হবে না, আমার নিজের কোন ক্ষতিও হবে না।

[উৎসর্গঃ লায়নহার্টকে। এই লোক আমার পক্ষে কথা বলার কারণে একজন মনে করেছিল লায়নহার্ট স্বয়ং আমার মাল্টিনিক। আমি লায়নহার্টকে একদম চিনি না। মনে হয় পরিচিত কোন ব্লগারের মাল্টি হবে। এনিওয়ে, লায়নহার্টকে অনুরোধ করব চোরাগোপ্তা কমেন্ট বন্ধ করে তিনি যেন ভালো কিছু লিখে তাড়াতাড়ি সেফ হন।]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:২২
৩৬টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×