সকালেই কয়েকটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলটির হাতে ট্রফি তুলে দেবেন আইসিসির চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন, সভাপতি মোস্তফা কামাল না। খেলার শেষ লগ্ন অবধি অপেক্ষা করছিলাম ট্রফি কে তুলে দেন তা দেখার জন্য। আইসিসির প্রথা-মতে সভাপতিরই এই ট্রফি তুলে দেবার কথা। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে ভারতের পক্ষে আম্পায়ারদের জোচ্চুরির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় কামালের কপাল পোড়ার গন্ধ আগেই পাওয়া যাচ্ছিল; কিন্তু কপালটা যে বিশ্বকাপ চলাকালেই পুড়বে, তা বুঝিনি!
আইসিসিতে চেয়ারম্যান বলে কোনো পদই ছিল না, পদটি সম্প্রতি সৃষ্টি করা হয়েছে ভারতের কাউকে ঐ পদে বসাতে। সভাপতি কিছু দিন আগে পর্যন্ত সর্বেসর্বা থাকলেও আইসিসির সভাপতি পদটি এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের মতো আলঙ্করিক, সভাপতি এখন নিছক ম্যাগনিফিসেন্ট সাইফার। ভারতের জোচ্চুরির বিরুদ্ধে কথা বলায়, আইসিসিকে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বলায় সভাপতিকে পুরস্কারবিরতরণী মঞ্চে না রাখার মতো নজিরবিহীন বেআদবি দেখাল আইসিসি। মোস্তফা কামালকে ট্রফি দিতে না দিয়ে আইসিসি আবারও প্রমাণ করল— আইসিসি আসলেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল! ফুটবল যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্প্রসারণশীল খেলা, ক্রিকেট সেখানে সবচেয়ে সংকোচনশীল খেলা। কোনো নতুন দেশ ক্রিকেটে আসতে চাইলে আইসিসি তাদেরকে উৎসাহিত না করে উলটো নিরুৎসাহিত করে। এই ভারতীয়-অস্ট্রেলীয়-ইংলিশ সাম্রাজ্যবাদের কারণেই বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ক্রিকেটে আসে না, এদের কারণেই ক্রিকেট এখনও তৃতীয় বিশ্বের খেলা।
শ্রীনিবাসন একজন দাগি দুর্নীতিবাজ। তার বিরুদ্ধে আইপিএল-কেলেঙ্কারি প্রমাণিত হওয়ায় তার দেশেরই সর্বোচ্চ আদালত তাকে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানের পদ থেকে অর্ধচন্দ্র দান করেছে। সেই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে দিয়েই আজ চ্যাম্পিয়নদেরকে ট্রফি দেয়াল আইসিসি তথা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। ইতিহাস মনে রাখবে— ২০১৫ সালের ২৯শে মার্চ অস্ট্রেলিয়া পেন্টা ট্রফি জিতেছিল; কিন্তু ইতিহাস মনে রাখবে না— আইসিসি ঐ ট্রফিটি একজন চোরের হাত দিয়ে হস্তান্তর করিয়েছিল, ইতিহাস মনে রাখবে না— ক্রিকেটবিশ্বের পরম আরাধ্য ট্রফিটি আইসিসি একজন চিহ্নিত চোরকে দিয়ে অপবিত্র করিয়েছিল!
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য এককালে অস্ত যেত না, এখন ব্রিটেনে সূর্যই খুঁজে পাওয়া যায় না। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের পদাঘাতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ক্রিকেটবাণিজ্যে লোকসান হবার পর থেকেই ভারত বাংলাদেশের ব্যাপারে সদাসতর্ক। ভারত বাংলাদেশকে আর কোনো সুযোগ দিতেই রাজি না। রুপির ঝনঝনানিতে ভারতের পা ক্রিজে পড়ছে না। বাংলাদেশই ২০০৭-এ বিশ্বকাপ থেকে অর্ধচন্দ্র দান করেছিল ভারতকে, বাংলাদেশই ২০১৫-এর বিশ্বকাপ থেকে অর্ধচন্দ্র দান করেছে ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডকে। রুপি আর টাকার মানে খুব বেশি ফারাক নেই। ক্রিকেটীয় শক্তিতে বাংলাদেশ ভারতকে অতি শীঘ্র ছাপিয়ে তো যাবেই, ছাপিয়ে যাবে ক্রিকেটে টাকা ঢালার লড়াইয়েও।
এবার ক্রিকেটে ইংলিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটল বাংলাদেশের হাতে, খুব নিকট ভবিষ্যতে ক্রিকেটে ভারতীয় দখলদারিত্বেরও পতন ঘটবে এই বাংলাদেশেরই হাতে। সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সফরে আসার জন্য বিসিসিআই বিসিবির পদলেহন করবে। সেদিন ক্রিকেটে তিন মোড়ল থাকবে না, থাকবে একটিই মোড়ল— বাংলাদেশ!
=আখতারুজ্জামান=
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






