somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'কৃষ্ণকান্তের উইল' বনাম 'বৈকুণ্ঠের উইল'

০১ লা জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কৃষ্ণকান্তের উইল'
এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বৈকুণ্ঠের উইল';
লেখক এবং লেখনী উভয় নামেই মিল থাকায় একটানে পড়ে ফেললাম উপন্যাস দুইটি।

উল্লেখ্য 'কৃষ্ণকান্তের উইল' ১৮৭৮ সালে রচিত। এই উপন্যাসে প্রধান চরিত্রগুলো হল গোবিন্দলাল, ভ্রমর এবং রোহিণী।
পক্ষান্তরে 'বৈকুণ্ঠের উইল' রচিত হয় ১৯১৫ সালে। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হল গোকুল ও বিনোদ।

'কৃষ্ণকান্তের উইল' এ আমরা দেখতে পাই একটি ত্রিভুজ প্রেমের সমীকরণ। গুণবতী স্ত্রী ভ্রমরের অপরিসীম প্রেম সত্ত্বেও গোবিন্দলাল প্রেমে পড়ে বিধবা রোহীণীর রূপের। ঘটনার নানা পালাবদলে গোবিন্দলাল বুঝতে পারে সংসারে সুখের জন্য গুণই আবশ্যক, রূপ সে ক্ষণিকের মোহ। দুই নায়িকার অকালমৃত্যু এবং নায়কের সন্ন্যাসজীবন প্রেমের এই উপন্যাসকে ট্র্যাজেডী সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়।
'বৈকুণ্ঠের উইল' এ আমরা দেখতে পাব দুই ভাইয়ের মান অভিমান আর সম্পর্কের টানাপোড়নের এক বাস্তবতা। পুরোদস্তুর সামাজিক এ উপন্যাসে আছে ছোট ভাইয়ের প্রতি দাদা গোকুলের অপরিসীম স্নেহের গল্প। ছোট ভাইয়ের অর্জনে গর্ববোধ করা ছাড়াও মা-বাবার প্রতি একান্ত নিষ্ঠার পরিচয়ের নাম গোকুল। কিন্তু স্ত্রী মনোরমা আর শ্বশুর নিমাই রায়ের ষড়যন্ত্রে পড়ে বার বার মা, ভাইকে ভুল বোঝে গোকুল। অপত্য স্নেহের এই উপন্যাসে মাতৃভক্তির প্রবল উদাহরণ আমরা দেখি। অবশেষে ছোট ভাই বিনোদ যখন ভালো মানুষ দাদার পায়ে পড়ে ক্ষমাভিক্ষা করে একটা সুখী ইঙ্গিত দিয়ে শেষ হয় উপন্যাস।

'কৃষ্ণকান্তের উইল' পড়লে পাঠক নামকরণের সার্থকতা খুঁজতে গিয়ে একটু সমস্যায় পড়বে। নিঁখাদ প্রেম ছাড়া উইলসংক্রান্ত কোন বিষয় খালি চোখে দেখা যাবে না। কিন্তু পুরো উপন্যাস অনুসরণ করলে দেখা যাবে কৃষ্ণকান্ত তার উইলে বখে যাওয়া আপন ছেলে রেখে ভাতিজা গোবিন্দলালকে সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। বলা চলে এই উইলই নেপথ্যে থেকে কাহিনী টেনে নিয়ে যায়।
'বৈকুণ্ঠের উইল' এর নামকারণের সার্থকতা সহজবোধ্য হবে সকলের জন্য। বৈকুণ্ঠ তার দুই ছেলের মধ্যে অশিক্ষিত বড় ছেলে গোকুলকে সব সম্পত্তি দিয়ে যান উচ্চশিক্ষিত ছোট ছেলে বিনোদকে বঞ্চিত করে। মূলত এই সম্পত্তি নিয়েই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় আর সেই দূরত্বকে আরো বড় করে তোলে সমাজের নিন্দুকেরা। দুই ভাইয়ের বৈপরীত্বকে ভাঙিয়েও খায় কেউ কেউ। প্রত্যক্ষভাবেই এই উইলই পুরো কাহিনীজুড়ে বিদ্যমান থাকে

সুখপাঠ্য দুই উপন্যাসেই ঔপন্যাসিকদ্বয়ের স্বমহিমার স্বাক্ষর বিদ্যমান। সবাইকে পাঠের আহবান করা হল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×