somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে দলে আশরাফুলের মত গাধা,রুবেলের মত ছাগল খেলে সেই দলের কাছে আমরা কেন আশা করি???

০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসেন আয়ারল্যান্ডের দিকে তাকাই।ওইখানে কারা খেলে জানেন?? একজন আছে ইলেক্ট্রিশিয়ান,কয়েকজন আছে কৃ্ষক,ডাকপিয়্নও শুনেছি আছে।কিন্তু কেন তারা বারবার জিতে যায় জানেন?কারণ তাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে,তারা জিততে চায়।মনে পড়ে আপনার ,যখন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ওদের সাথে খেলেছিলো,তখন ওরা কি করে কষ্ট করে রান সংগ্রহ করেছিলো??আমাদের রফিক সাহেব একবার ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথে খেলায় গেইলের এক ওভারে(যা কিনা ম্যাচের শেষ ওভারও ছিলো) মাত্র একটি রান নেয়।কেন?তার আশা ছিলো একটা না একটা বলে আমি তো ছক্কা মারবোই।রানের সুযোগ পেয়েও সে তাই রান নেয়নি....আমরা সেই ম্যাচে মাত্র এক উইকেটে হেরে যাই,শেষ ওভারে যতদূর মনে পড়ে।আর ৩টি বা ৪টি রান হলেই হয়তো জিতে যেতাম।

কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার সাথে আমরা যখন ফাইনালে হারি তখন মনে পড়ে কি হয়েছিলো?মুরালী আমাদের রুবেলকে মেরে ছাতু বানায় দেয় এক ওভারে,তারপরো ওকে আবার বল করতে দেয়া হয় এবং ওই ছাগল ১১ রান বা ১২ রান দেয়।অথচ সে নাকি দেশের পেস প্রতিভা ক্যাম্প থেকে ডাক পাওয়া অসাধারণ এক আবিষ্কার।আজকেও কি চমৎকার খেলাই না দেখালো!
আসেন আশারাফুলের কথায়।আমি বুঝিনা কোন সে কারণ যে জন্য তাকে বারবার খেলানো হয়,তাও আবার অধিনায়ক করে।কি খেলে সে?যার ওয়ানডে গড় ১৮র মত,টি২০ এর থেকেও খারাপ কেন তাকে বারবার খেলানো হয়?ওই বিখ্যাত ছাগলা আজকে একবার যে শট খেলে আউট হওয়া থেকে বেচে যায় আবার ওই শট খেলে কি করে বুঝিনা!

রকিবুলের মত ব্যাটসম্যান যার স্ট্রোক খেলার ক্ষমতা নাই কি সুন্দর তাকে প্রতি ম্যাচে খেলানো হচ্ছে।মুশফিকের মত প্লেয়ার যে একটা বল ঠিকমত কিপিং করতে পারেনা তাকে কেন নেয়া হয় দলে বারবার?? হায় আমি লজ্জিত যখন শুনি অলক কাপালীর মত ক্রিকেটার বলে,আকরাম ভোটকা ঘরোয়া খেলায় ১০০ করে শুনেও তাকে বলে তার পারফর্ম্যান্স নাকি ভালো না,আরো খেলো।চিন্তা করুন এমন কথা শুনে তাও আবার বাংলাদেশের কলঙ্কিত এক খেলোয়াড়ের মুখে কেমন লাগতে পারে কাপালীর! আমি লজ্জা পাই যখন দেখি সিডন্স,আমাদের কোচ বলেন,"ওকে না করছি বল করতে,কিন্তু ও তো কথা শুনেনা।ও বল করা দলের জন্য মোটেও ভালো নয়।"ও টা হলো আমাদের আশারাফুল।সে আবার এই কথা শুনে রাগ করে,তাই কোচকে যেয়ে মন ভাঙ্গাতে হয় তার।হায়! আমার দেশ!হায়! আমার ক্রিকেটার।

আরো লজ্জা পাই যখন শুনি আমাদের দেশের এই বলদ্গুলাকে আবার লাখ টাকা বেতন দেয়া হয় মাসে।আমাদের দেশের অর্ধেক মানুষ দুবেলা খেতে পায়না,তাও তারা হাসিখুশী থেকে দেশকে সুখী দেশের তালিকায় রেখে দিছে।আর এই ছাগলগুলা শপিং করে,২০ বছরে বিবাহ করে আনন্দ ফুর্তি করে বেড়ায় আর সারা বিশ্বের সামনে আমাদের নাক কেটে দেয়।এরাই আমার দেশের ক্রিকেটার!

মাশরাফীকে নিয়ে অনেক গর্ব করেন সবাই।ভালো প্লেয়ার আপনারা বলেন।কিন্তু আমি বুঝিনা সে কিভাবে অধিনায়ককে অনুরোধ করে তাকে যেনো শেষের দিকের ওভার না দেয়া হয়।সে আবার বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক।মজার কথা বলি এখন।আমি যেখানে থাকি সেখানে প্রায়দিন আমি দেখি মাশরাফীকে।ভুড়ি বার করে বসে বসে মুড়ি খাচ্ছে।মাঝে মাঝে লুডুও খেলে।পল্লবীর ওই এলাকায় একদিন তাকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।কারণ তার পরের দিন বাংলাদেশের একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিলো।অস্ট্রেলিয়ান প্লেয়াররা শুনেছি দিনে ১৬ ঘন্টা নাকি অনুশীলন আর ক্রিকেট খেলে কাটায়।আর ম্যাচের আগে তো বলতেই হয়না।অথচ আমাদের আলু পত্রিকার শুভ্র ভাই উনাকে এবং আরো ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে স্তুতি দিয়ে ভরে দেয়,কিন্তু একটা এমন প্রতিবেদন লিখেনা সে,"ম্যাচের আগের দিন প্লেয়ার বিশ্রাম নিয়ে লুডু খেলছে"!

অনেক আগে শুনেছি লিখা হয়েছে যে বাংলাদেশের প্লেয়ারদের মনোভাব হলো ম্যাচে খেলতে পারার জন্য যতটুকু দরকার অতটুকু করেই নাকি তারা সুখী।তাদের দরকার আসলে টাকা।একটা ফিক্সড ইনকামের রাস্তা।এই খেলোয়াড়দের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক বলেছিলেন,"ওরা তো দুষ্টুমি করে খেলে,সিরিয়াস না"।খেলাটা একটা টেস্ট ছিলো।

আমি এই সব লিখে নিজেই এখন লজ্জা পাচ্ছি।এই সব ক্রিকেটাররা নাকি আমাদের গর্ব।আমরা সব বাদ দিয়ে টিভির সামনে বসে থাকি এদের খেলা দেখতে।বুঝতে পারছিনা আমরাই কি এজন্য নির্লজ্জ নই যে এদের মত মানুষকে নিয়ে বারবার আশা করি।১৫ কোটি মানুষের দেশের মান ইজ্জত ডুবায় দিয়ে যখন এরা আয়ারল্যান্ডের মত দলের সাথে হেরে যায় তখন ঘিন্না লাগে ওদের নিয়ে আশা করেছি বলে।আমি আজকে ভীষণ রকম লজ্জিত!লজ্জা যে পাচ্ছি ওদের জন্য,সেই জন্যও লজ্জিত।

কথা হলো কেন এইসব প্লেয়ারদেরকে এত অর্থ দিয়ে খেলানো হয় যখন এরা পরাজিত দেশের তালিকায় আমাদের নাম বারবার তুলে দেয়??
এই লিখাটা লিখলাম তাও লজ্জিত।আসলে কি মুখ দিয়ে গালি আসছে,তাও কিভাবে যেন ভালো ভাষায়,ভদ্র ভাষায় এমন একটা লিখা লিখে ফেললাম।

শেষ প্রশ্ন আমরা কি ওদের জন্য দেশের বারবার এমন লজ্জা পাওয়া দেখেও কিছুই করতে পারবোনা?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
৪৪টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×