কুত্তার বাচ্চারা দিন দিন আরো উশৃঙ্খল হয়ে উঠছে। পাড়ার সবাই অতিষ্ট। পরশু আমীর আলীর বউয়ের ডিম পাড়া মুরগিটাকে কামড়িয়েছে, কামড়িয়ে নাড়ীভুঁড়ি, থোকা থোকা অপরিণত ডিম বের করে ফেলেছে। আজ সকালে গেদু চাচার মুরগিটাকে কামড়ালো। গ্রামবাসী কিছু বলতেও পারেনা, করতেও পারেনা। তাড়াতে গেলে তেড়ে আসে মা কুকুর।
কুত্তার বাচ্চাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা দাত্রীরা না জানার ভান ধরে, কেউ অভিযোগ নিয়ে গেলে কুত্তার বাচ্চার মালিকানা অস্বীকার করে। সাধু সাধু গলায় ধীরে ধীরে বলে, “কুকুর তো কুকুরই, কুকুরের কোন পরিবার নেই, গ্রাম নেই। তার সাথে আমাদের পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই।”। তারপর যা হওয়ার তাই হয়, হয়েই চলে।
কুত্তার বাচ্চাদের দোষ দিয়ে আর লাভ কী? একদিকে ওদের ক্ষুধা নিবারণের বৈধ ব্যবস্থাকে যথা সম্ভব কঠিন করে রাখা হয়েছে, নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; আরেক দিকে ক্ষুধার ঘুমন্ত আগুনকে জাগানোর জন্য, জ্বালানোর জন্য দশ দিক থেকে ফুৎকার দেয়ার ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।
কানে কানে বলি, “এত এত কুকুর টিকিয়ে রাখার কী দরকার?” দেড় চোখা পিটপিটে দৃষ্টি নিয়ে, ধীর লয়ে মাথা নাড়েন । বলেন, “আছে আছে, দরকার আছে। ওরা আছে বলেইতো নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি”।
মুরগিগুলোর আক্কেল কবে হবে জানিনা। ঘাড়ের মুণ্ডুটার জন্য এতই যদি মায়া, পেখম মেলে হেলে দুলে যাও কেন ওই কুত্তাদের কাছে? ওই কুত্তাদের ক্ষুধাতুর চোখগুলোকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখেই তারা খুশি। ওই কুত্তাদের লোভাতুর জিহ্বা থেকে টপ টপ করে পানি ঝরতে দেখেই তারা শুখী।
আমার প্রিয় মুরগিগুলোকে আমি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে এসেছি। ওরাও বোঝে, ওদের ভালোর জন্যই করা হয়েছে এটা। ওদের যাবতীয় প্রয়োজন মিটানোর দায়িত্ব নিজের মাথায় নিয়েছি। নিজেদের খাবার নিজেদেরকেই জোগাড় করার দায়িত্ব থেকে ওদেরকে অব্যাহতি দিয়েছি। বিশ্বাস করুন, ওদের সাথে কোন দুশমনী নেই আমার।
মাঝে মাঝে কিছু কুকুর এসে আমার বেড়ার পাশে দাঁড়ায়. সাধু সাধু মুখ নিয়ে ফাঁক দিয়ে নাক গলায়, মুরগিগুলোকে বুঝায়, “তোমাদেরকে বন্দী করা হয়েছে, আমাদের সাথে মেশার আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, নিজেদের খাবার নিজেদেরকেই সংগ্রহ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।”
পাড়ার সব মোরগই যে আমার নীতি অনুসরণ করেছে, তা নয়। বেশির ভাগ মোরগ এখনো তাদের মুরগিগুলোকে আগের মতই ছেড়ে দেয়, ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমায়। আমি যখন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, তারা তখন “সবখানে ঘুরে ফিরে দানাপানি জোগাড় করে খাওয়ার স্বাধীনতা”কে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যেই ওরা গৃহস্থের “অর্থনৈতিক উন্নতি” দেখতে পাচ্ছে।
প্রিয় গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বানঃ
• উশৃঙ্খল কুকুরদের থেকে পৃষ্ঠপোশকতা উঠিয়ে নিতে হবে, দমন করতে হবে।
• ক্ষুধা নিবারণের সঠিক পন্থাকে সহজ করতে হবে।
• পশুত্ব উৎপাদনকারী ক্ষেত্রগুলোতে যত্ন করে পানি সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে,
• মনুষ্যত্বের ব্যাপক চাষাবাদ চালু করতে হবে।
• কুকুরপনা নিবারক টিকার দুষ্প্রাপ্যতা দূর করতে হবে।
• কুত্তামি নিরোধক বটিকার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
• পশুত্ব প্রতিরোধক ওষুধ পত্র থেকে লিখিত-অলিখিত, ঘোষিত-অঘোষিত, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
• কুত্তামি বিরোধী জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের পদক্ষেপগুলোর প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
• নির্দোষ নিরীহ মুরগিদের জান মানের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
• তাদেরকে খোলা ময়দানে ছেড়ে দেয়ার আগে সেখানকার শতভাগ উপযোগিতার ব্যাপারে নিশ্চত হতে হবে।
• সব ধরনের ধোঁকার ব্যাপারে মুরগিদেরকে সজাগ সাবধান হতে হবে।
আমাদের দলে যোগ দিন
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




