'এই প্রকার ঘটনা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব নহে, অতএব উহা ঘটিয়াছে'- এইরূপ কথা বলা আর ন্যায়-দর্শনের হত্যাসাধন করা একই কথা। আমরা 5ম নিয়মে বলিয়াছি, কোনো একটি ব্যাপার অলৌকিক বলিয়া ধারণা করা হইলে, কেবল এই ধারণামাত্রের উপর নির্ভর করিয়া সেই ঘটনার সমস্ত সাক্ষীকে ভ্রান্ত বা মিথ্যেবাদী বলিয়া নির্ধারণ করা অন্যায়। এজন্য ঐ বিবরণের সাক্ষ্য-প্রমাণ দলিল-দস্তাবেজ যাহা কিছু আছে, সে সব খুব সূক্ষভাবে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে হইবে।
প্রথমে সাক্ষীগনের বিশ্বাস্য হওয়া সম্পর্কে এবং তাহার পর ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী ব্যক্তি পর্যন্ত অবিচিছন্ন সাক্ষী পরম্পরার প্রমাণ সম্পর্কে আলোচনায় প্রবৃত্ত হইতে হইবে। এই বিচার আলোচনার পর আভ্যন্তরিক সাক্ষ্যপ্রমাণাদি অবলম্বনে সূক্ষ পরীক্ষা। এই প্রকার পরীক্ষার পর যে সকল ঘটনা সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া নিঃসন্দেহরূপে জানা যাইবে, তাহাতে নিশ্চয়ই বিশ্বাস করিব- বৈজ্ঞানিক ইহাকে অত্যদ্ভুত বলিয়া নির্ধারণ করিলেও করিব।
পূর্বেই বলিয়াছি, সাক্ষী প্রমাণের পরীক্ষা যথেষ্টরূপে করিতে হইবে। সাক্ষীর নিজের সংস্কার ও বিশ্বাসের প্রভাব কতদূর, তাহার দৃষ্টিবিভ্রম, শ্রুতি বিভ্রম, জ্ঞান বিভ্রম ইত্যাদি ঘটিবার কোনো সম্ভাবনা আছে কীনা- সাধারণভাবে সাক্ষীদিগের বিশ্বস্ততা পরীক্ষার পর এই সকল বিষয়ও উত্তম রুপে পরীক্ষা করিতে হইবে। আমাদের অধিকাংশ লেখকের যুক্তির ধারা এই যে, তাহারা প্রথমে অতিভাবপূর্ণ ভাষায় আল্লাহতায়ালার সর্বশক্তিমানত্ব প্রতিপাদন করিতে চেষ্টা করেন। তারপর এই সর্বশক্তিমানত্বের ওপর ভিত্তি স্থাপন করিয়া প্রত্যেক ঘটনার সম্ভবপরতা প্রতিপন্ন করেন। যথা- 'যে আল্লাহ এত বড় চাঁদ সূর্যকে সৃষ্টি করিতে পারিয়াছেন, তিনি কী চাঁদকে দু-টুকরা করিতে পারেন না? যাহার একথ া বলে, তাহারা নাস্তিক, কারণ তাহারা আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলিয়া মানে না, সুতরাং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে মানে না।'
আমরা এই শ্রেনীর বন্ধুদের সহিত গম্ভীরভাবে 'তর্কযুদ্ধে' প্রবৃত্ত হইতে প্রস্তুত নহি। আমরা তাহাদের সমস্ত যুক্তি স্বীকার করিয়া নিবেদন করিব, আল্লাহ করিতে পারেন সব- তোমাকে আমাকে তিনি এখনই পাগল বানাইয়া দিতে পারেন। তাই বলিয়া কি তুমি আমাকে বা আমি তোমাকে পাগল বলিয়া গন্য করিব? তোমার বাড়িতে আমার নিমন্ত্রন হওয়া এবং তোমার পক্ষে কাবাব কোপ্তা কালিয়া কোর্মা প্রভৃতি ক'কারাদির দ্বারা আমার তাপ-তেজাদির বৈজ্ঞানিক গহবরটাকে আকণ্ঠ পরিপূর্ণ করিয়া দেওয়া খুব সম্ভব, কেবল সম্ভবই নহে, ইহার অনরূপ দূর্ঘটনা আমাদের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। তাই বলিয়া পাঠকের বাড়ি আজ আমি হরদম দাওৎ খাইয়াছি মনে করিয়া তৃপ্তিলাভ করিতে পারিব কী? 'ইহা সম্ভব কী অসম্ভব' তাহা লইয়া তোমাদের সহিত আলোচনা করিতে চাহি না। ইহাযে 'ঘটিয়াছে'- ঐতিহাসিকভাবে তাহার প্রমাণ দাও- ইহা আমাদের প্রার্থনা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই খানেই- অন্তত এছলাম সম্বন্ধে- সমস্ত গোলযোগের শেষ হইয়া যাইবে। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



