somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংখ্যা,ঝগড়া,বাগড়া !

২৮ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধারণ জনগণকে একটা মারাত্মক সন্দেহ আর দ্বিমুখী সমস্যায় ফেলে ইসলামের বুকে পেরেক মারার সর্বশেষ দায়িত্বগুলো পালন করছে আলেম উলামারা।জানি না উনারা জ্ঞাতসারে নাকি অসচেতনভাবে এই কাজটি করছেন।
অত্যান্ত বেদনার সাথে লক্ষ্য করা যায় যে,কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কিছু ফালতু বিষয় দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দেয়া হচ্ছে যে আম তো পচে যাচ্ছে,ছালার অস্তিত্বও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
রামাদান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের মাস আর পাপীদের পাপ মোচনের মাস।তাকওয়া অর্জনের মাস রামাদান যেখানে বেশী বেশী ইবাদতের জন্য চেষ্টা আহবান আর উৎসাহের কথা বলা হবে সেখানে এখানেও এক ধরনের কাঁদা ছুড়াছুঁড়িতে বিরক্ত মানুষ বিপথে যাচ্ছে অজান্তেই।
তারাবীহ ২০ না ৮?
এটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ?কেউ যদি ২০ পড়ে তবে সমস্যা কোথায় আর কেউ ৮ পড়লে সমস্যা কোথায়?
মুল আলোচনা তো এটাই হওয়া উচিত ছিল যে,২০ পড়েন আর ৮ পড়েন আর ৪০,ব্যাপার না।তবে অবশ্যই সালাত যেভাবে আদায় করতে হয় সেভাবে করুন।অরাত্তিলিল কুরাআনা তারতিলা অর্থাৎ তারতিলের সহিত সুন্দর ভাবে তিলাওয়াত করে কিরাত পড়ে নামাজ পড়ুন।ঠুকাঠুকি তে সংখ্যা বাড়তে পারে কিন্তু তা সওয়াবের বদলে গুনাহ হবে বরং।
এই আলোচনা ছেড়ে ৮/২০ এর উলঙ্গ ঝগড়া সুযোগ সন্ধানী নামাজী বা দুর্বল ঈমানের অধিকারী মানুষের মসজিদ মুখী হতে যে বাগড়া দিচ্ছে তার দিকে খেয়াল কে করবে?
আমিন জোরে না আস্তে,হাত বুকে না পেটে না কাঁধে,তাকবীরের হাত কানে না কাঁধে উঠাবে এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত যে তর্ক আর ঝগড়া হচ্ছে তার কারণে কত মানুষ যে ইবাদতই ছেড়ে দিচ্ছে তার খবর কি এসব আলেম উলামারা জানেন?
ফরজ কাজ গুলো বাদ দিয়ে নফল মুস্তাহাব আর এখতেলাফের বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত যে সন্দেহ আর ফিতনা সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে আমি হালকা পাতলা ইসলাম জেনেও যেখানে সন্দেহে পড়ে যাই,যারা নিতান্তই অজ্ঞ বা এ ধরেনর চর্চা করে না তাদের যে কি অবস্থা তা মাঝে মাঝে দেখে শুধু আফসোস করি।
"আল ফিত্নাতু আশাদ্দু মিনাল কাতল" - ফিতনা বা গোলযোগ সৃষ্টি হত্যার চাইতেও জঘন্য।
আর এই ফিতনা উভয় পক্ষই মসজিদে করছে অত্যান্ত ইমানি দায়িত্ব মনে করে।
পাবলিক যেখানে নামাজই পড়ে না সেখানে তার ফিকির না করে ঝগড়ার জিকির করে লোকজন খেদানোর কাজ চলছে।
শীলে পাটার এই ঘষাঘষিতে ইসলাম যে কোথায় যাচ্ছে আর বিশেষ করে কোমল মন যে কিভাবে একের পর এক নাস্তিক হচ্ছে তার জবাবদিহি হাশরের ময়দানে বিজ্ঞ আলেম উলামা গন দিতে পারবেন?
ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি,তৎকালীন সরকার (১৮/১৯ বছর আগে) এর নির্দেশে বায়তুল মোকাররম মসজিদে পুলিশ জুতা পায়ে ঢুকে লাঠি পিটা করে একের পর এক রক্তাক্ত করতে থাকলে এক বাচ্চা তার বাবার উপর আক্রমণ হলে বলতে থাকে আমি জানতাম না মসজিদে আসলে মার খেতে হয়,পুলিশ ভাই আর মারবেন না আমি আর আমার বাবাকে নিয়ে কখনোই মসজিদে আসবো না।
কোমলমতি মনগুলো এভাবেই তৃষ্ণা বিতৃষ্ণার স্বাদ নেয় অবুঝের মত আর হয় নাস্তিক।যার ফল আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি অথচ মোল্লারা দিন দিন যেন প্রতিনিয়ত কামড়াকামড়িতে বেশী ব্যাস্ত হয়ে যাচ্ছেন।
(পরিবর্তনের সিস্টেম আছে,তবে বাহাস করে ইসলাম কখনো দাওয়াত দিয়েছে বলে আমার জানা নেই,আর এর মাধ্যমে সমাধান হয়েছে বলেও আমি জানি না এবং নফল আর এখতেলাফের বিষয় কে এত গুরুত্ব দেয়ার এমন ইসলামিক বিধান কোথায় আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×