যেসব নরপশু স্বামী যৌতুকের জন্য স্ত্রীদের শারিরিক নির্যাতন করে, এমনকি খুনখারাবী করতে পর্যন্ত পিছপা হয় না, তাদের অনেক কুকীর্তি সংবাদপত্রের বদৌলতে আমাদের কানে আসে। তীব্র ঘৃণায় আমরাও সেই পশুকে বারবার অভিসম্পাত করতে থাকি। কিন্তু তেমন এক্সট্রিম পর্যায়ের না হলেও তাদের চেয়েও সংখ্যায় অনেক বেশি যৌতুকলোভী স্বামী আছে যারা শারিরিক না হলেও নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করে যায় তার স্ত্রীকে। এরকম যৌতুকলোভী স্বামীর কিছু মন্তব্যঃ
১) শশুড়বাড়ী থেকে কি পেয়েছে তার হিসাব
- তোমার বাবা-মা আমাকে কয় টাকার জিনিস দিয়েছে বিয়েতে?
২) অন্যের পাওয়া না পাওয়ার সাথে নিজের তুলনা
- অমুকের মেয়ের বিয়েতে দেখো সে এতো টাকার জিনিস দিয়েছে পাত্রকে। সেই তুলনায় আমি কি পেয়েছিলাম? আমাকে কতটুকু দাম দিয়েছিলে তোমরা?
- আমার শালীর বিয়েতে তো শশুড়-শাশুড়ী ঠিকই জামাইকে একটা হোন্ডা গিফট দিলো। কিন্তু আমার বেলায় কি দিয়েছিলো? (সেই গিফটও হয়তো শশুড়-শাশুড়ী বাধ্য হয়েই দিয়েছিলো আরেক নরপশু জামাইকে)।
৩) পাছে লোকে কিছু বলার দোহাই
- আত্মীয়স্বজন যখন জিজ্ঞেস করবে যে মেয়ে পক্ষ কি দিয়েছে, তখন কিভাবে মুখ দেখাব?
৪) নিজেকে খুব দামী কেউ মনে করা (যা টাকা দিয়ে কেনা যায়)
- জামাই হিসাবে আমার কি কোন দাম নেই? আমি কি ফ্রি মাল নাকি?
এধরণের মনোভাব যেসব স্বামীর, তাদের সম্পর্কে আমাদের কি ভাবা উচিত? এদের স্থান কোথায় হওয়া উচিত?
এবার দেখি একজন স্ত্রীর মন্তব্য (যে কিনা বিনা যৌতুকে বিয়ে করেছে)
১) শশুড়বাড়ী থেকে কি পেয়েছে তার হিসাব
- তোমার বাবা-মা আমাকে কয় টাকার গয়না দিয়েছে বিয়েতে? ১৫ ভরি গয়নার পুরোটাই তো তুমি নিজের টাকায় কিনেছো!
২) অন্যের পাওয়া না পাওয়ার সাথে নিজের তুলনা
- অমুকের বিয়েতে তার স্বামী তাকে কতো ভরি গয়না দিয়েছে দেখো! নিজে এসে বিউটি পার্লারে নিয়ে গেছে মেয়েকে! আর কি খরচই না করেছে বিয়ের অনুষ্ঠানে! অথচ তুমি তো তার কিছুই করতে পারলে না!
- আমার দেবরের বিয়েতে তো শশুড়-শাশুড়ী ঠিকই বউকে দুই ভরির গলার সেট কিনে দিলো। কিন্তু আমার বেলায় কি দিয়েছিলো? (এখানেও কোন প্রেক্ষিতে কোন অর্থনৈতিক অবস্থায় শশুড়-শাশুড়ী অপর ছেলের বউকে কি দিয়েছে তা অবিবেচ্য)।
৩) পাছে লোকে কিছু বলার দোহাই
- আমার আত্মীয়স্বজন যখন জিজ্ঞেস করবে শশুড়-শাশুড়ী কি অলংকার দিয়েছে, তখন তাদেরকে মুখ দেখাবো কীভাবে?
৪) নিজেকে খুব দামী কেউ মনে করা (যা টাকা দিয়ে কেনা যায়)
- আমাকে ফ্রি ফ্রি পেয়ে গেছো তো, তাই আমার এখন আর কোন দাম নেই।
এসব স্ত্রীদের এধরণের মন্তব্যের সাথে যৌতুকলোভী এক স্বামীর মন্তব্যের পার্থক্য কতটুকু? আমাদের দেশে এধরণের মনোভাবসম্পন্ন স্ত্রীদের সংখ্যা কি খুব কম মনে হয়? (আমি কিন্তু উদাহরণগুলো বানিয়ে দেইনি। আশেপাশের পরিচিত অনেকের সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্যগুলো নিয়েছি।)
আজকাল প্রেম-ভালবাসা থেকে নিয়ে সম্পর্ক, সব কিছুই হয় টাকার হিসেব দিয়ে। "অমুকে তার প্রেমিকাকে এতো টাকার এক স্বর্ণের চেইন দিয়েছে, দেখো কতো ভালবাসে তাকে! তুমি তো আমাকে ভালই বাস না, তাই এমন কিছু কখনও কিনে দিলে না!" স্বামী বা প্রেমিকের কাছে কিছু চেয়ে না পেলেই এক কথা, সে তাকে ভালবাসে না। লোকটার সামর্থ্য আছে কিনা তার কোন হিসাব নেই। আর একটা ছেলে যদি ঠিক এরকম মন্তব্য করে, তবে এটা আমিও বলবো যে সে যৌতুকলোভী। টাকা দেখে মেয়ের প্রেমে পড়েছে। অথচ একটা মেয়ের এধরণের কথা আমাদের সমাজে খুবই স্বাভাবিক। একটা ছেলে কোন কারণে তার প্রেমিকার উপর রাগ করলে তার স্পষ্ট কারণ, সে মেয়েটাকে ভালবাসে না। কিন্তু একটা মেয়ে যদি ছেলেটিকে রাগ দেখায়, তবে সে তার ভালবাসার আবেগেই এই কাজটা করেছে বলে নিশ্চিত!
আমাদের বর্তমান সমাজের নবীনেরা ছেলে-মেয়ের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি সোচ্চার। কিন্তু সত্যি সত্যি বৈষম্য দূর করতে চাইলে দুই দিক থেকেই তার প্রতিকার করতে হবে। একটা মেয়েকে বিয়ে দিতে গেলে যেমন তার বাবা মায়ের উপর অর্থনৈতিক চাপ দেয়াটা অমানবিক, তেমনই যেই ছেলেটা বিয়ে করবে তাকে সমাজের এবং মানসম্মানের দোহাই দিয়ে তার সাধ্যের বাইরে বিয়েতে খরচ করতে বাধ্য করাটাও কারও কাম্য হতে পারে না। আর বিয়ের পরে এসব নিয়ে খোঁটা দেয়াটা ছেলে বা মেয়ে দুইজনেরই ক্ষুদ্র মানসিকতার পরিচয় দেয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


