somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যৌতুক প্রথা এবং আমাদের সামাজিক ব্যাধি

০৭ ই আগস্ট, ২০১১ ভোর ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেসব নরপশু স্বামী যৌতুকের জন্য স্ত্রীদের শারিরিক নির্যাতন করে, এমনকি খুনখারাবী করতে পর্যন্ত পিছপা হয় না, তাদের অনেক কুকীর্তি সংবাদপত্রের বদৌলতে আমাদের কানে আসে। তীব্র ঘৃণায় আমরাও সেই পশুকে বারবার অভিসম্পাত করতে থাকি। কিন্তু তেমন এক্সট্রিম পর্যায়ের না হলেও তাদের চেয়েও সংখ্যায় অনেক বেশি যৌতুকলোভী স্বামী আছে যারা শারিরিক না হলেও নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করে যায় তার স্ত্রীকে। এরকম যৌতুকলোভী স্বামীর কিছু মন্তব্যঃ

১) শশুড়বাড়ী থেকে কি পেয়েছে তার হিসাব

- তোমার বাবা-মা আমাকে কয় টাকার জিনিস দিয়েছে বিয়েতে?

২) অন্যের পাওয়া না পাওয়ার সাথে নিজের তুলনা

- অমুকের মেয়ের বিয়েতে দেখো সে এতো টাকার জিনিস দিয়েছে পাত্রকে। সেই তুলনায় আমি কি পেয়েছিলাম? আমাকে কতটুকু দাম দিয়েছিলে তোমরা?

- আমার শালীর বিয়েতে তো শশুড়-শাশুড়ী ঠিকই জামাইকে একটা হোন্ডা গিফট দিলো। কিন্তু আমার বেলায় কি দিয়েছিলো? (সেই গিফটও হয়তো শশুড়-শাশুড়ী বাধ্য হয়েই দিয়েছিলো আরেক নরপশু জামাইকে)।

৩) পাছে লোকে কিছু বলার দোহাই

- আত্মীয়স্বজন যখন জিজ্ঞেস করবে যে মেয়ে পক্ষ কি দিয়েছে, তখন কিভাবে মুখ দেখাব?

৪) নিজেকে খুব দামী কেউ মনে করা (যা টাকা দিয়ে কেনা যায়)

- জামাই হিসাবে আমার কি কোন দাম নেই? আমি কি ফ্রি মাল নাকি?


এধরণের মনোভাব যেসব স্বামীর, তাদের সম্পর্কে আমাদের কি ভাবা উচিত? এদের স্থান কোথায় হওয়া উচিত?


এবার দেখি একজন স্ত্রীর মন্তব্য (যে কিনা বিনা যৌতুকে বিয়ে করেছে)

১) শশুড়বাড়ী থেকে কি পেয়েছে তার হিসাব

- তোমার বাবা-মা আমাকে কয় টাকার গয়না দিয়েছে বিয়েতে? ১৫ ভরি গয়নার পুরোটাই তো তুমি নিজের টাকায় কিনেছো!

২) অন্যের পাওয়া না পাওয়ার সাথে নিজের তুলনা

- অমুকের বিয়েতে তার স্বামী তাকে কতো ভরি গয়না দিয়েছে দেখো! নিজে এসে বিউটি পার্লারে নিয়ে গেছে মেয়েকে! আর কি খরচই না করেছে বিয়ের অনুষ্ঠানে! অথচ তুমি তো তার কিছুই করতে পারলে না!

- আমার দেবরের বিয়েতে তো শশুড়-শাশুড়ী ঠিকই বউকে দুই ভরির গলার সেট কিনে দিলো। কিন্তু আমার বেলায় কি দিয়েছিলো? (এখানেও কোন প্রেক্ষিতে কোন অর্থনৈতিক অবস্থায় শশুড়-শাশুড়ী অপর ছেলের বউকে কি দিয়েছে তা অবিবেচ্য)।

৩) পাছে লোকে কিছু বলার দোহাই

- আমার আত্মীয়স্বজন যখন জিজ্ঞেস করবে শশুড়-শাশুড়ী কি অলংকার দিয়েছে, তখন তাদেরকে মুখ দেখাবো কীভাবে?

৪) নিজেকে খুব দামী কেউ মনে করা (যা টাকা দিয়ে কেনা যায়)

- আমাকে ফ্রি ফ্রি পেয়ে গেছো তো, তাই আমার এখন আর কোন দাম নেই।


এসব স্ত্রীদের এধরণের মন্তব্যের সাথে যৌতুকলোভী এক স্বামীর মন্তব্যের পার্থক্য কতটুকু? আমাদের দেশে এধরণের মনোভাবসম্পন্ন স্ত্রীদের সংখ্যা কি খুব কম মনে হয়? (আমি কিন্তু উদাহরণগুলো বানিয়ে দেইনি। আশেপাশের পরিচিত অনেকের সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্যগুলো নিয়েছি।)


আজকাল প্রেম-ভালবাসা থেকে নিয়ে সম্পর্ক, সব কিছুই হয় টাকার হিসেব দিয়ে। "অমুকে তার প্রেমিকাকে এতো টাকার এক স্বর্ণের চেইন দিয়েছে, দেখো কতো ভালবাসে তাকে! তুমি তো আমাকে ভালই বাস না, তাই এমন কিছু কখনও কিনে দিলে না!" স্বামী বা প্রেমিকের কাছে কিছু চেয়ে না পেলেই এক কথা, সে তাকে ভালবাসে না। লোকটার সামর্থ্য আছে কিনা তার কোন হিসাব নেই। আর একটা ছেলে যদি ঠিক এরকম মন্তব্য করে, তবে এটা আমিও বলবো যে সে যৌতুকলোভী। টাকা দেখে মেয়ের প্রেমে পড়েছে। অথচ একটা মেয়ের এধরণের কথা আমাদের সমাজে খুবই স্বাভাবিক। একটা ছেলে কোন কারণে তার প্রেমিকার উপর রাগ করলে তার স্পষ্ট কারণ, সে মেয়েটাকে ভালবাসে না। কিন্তু একটা মেয়ে যদি ছেলেটিকে রাগ দেখায়, তবে সে তার ভালবাসার আবেগেই এই কাজটা করেছে বলে নিশ্চিত!

আমাদের বর্তমান সমাজের নবীনেরা ছেলে-মেয়ের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি সোচ্চার। কিন্তু সত্যি সত্যি বৈষম্য দূর করতে চাইলে দুই দিক থেকেই তার প্রতিকার করতে হবে। একটা মেয়েকে বিয়ে দিতে গেলে যেমন তার বাবা মায়ের উপর অর্থনৈতিক চাপ দেয়াটা অমানবিক, তেমনই যেই ছেলেটা বিয়ে করবে তাকে সমাজের এবং মানসম্মানের দোহাই দিয়ে তার সাধ্যের বাইরে বিয়েতে খরচ করতে বাধ্য করাটাও কারও কাম্য হতে পারে না। আর বিয়ের পরে এসব নিয়ে খোঁটা দেয়াটা ছেলে বা মেয়ে দুইজনেরই ক্ষুদ্র মানসিকতার পরিচয় দেয়।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×