somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মজারস্মৃতিঃআমাদের ভিক্ষা কর ার দিন

২৪ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক সময় ইস্কাটনের দিকে আমরা ক'বন্ধু একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম।বেশি দিন আগে নয় 6/7 বছর হবে।আজ সেই পাগলা পাগলা দিনগুলোর একটা ঘটনা মনে পড়লো।
আমাদের বাসায় এক জনম দুখি মহিলা ,বুয়ার কাজ করতেন। জনম দুখি বলছি এই কারনে যে,মায়ের পেটে থাকতে তার বাবা মারা যায়।ছোট বেলায় রাস্তার পাশে মায়ের কোল থেকে গনগনে আগুনের চুলোয় পড়ে পুরো শরীর পুড়ে গিয়েছিলো তার।এর পর 71 এ রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া একটা শেল খুজে দা দিয়ে কুপিয়ে কাটতে গিয়ে বিস্ফোরনে বাঁ হাত পুরোপুরি উড়ে যায়।এক রিক্সাওয়ালা ছোকড়া বিয়ে করলেও ফেলে রেখে যায়।কোন এক সময় তার এক মাত্র সম্বল মাও মারা যায়।তখন থেকে সে এলাকার একটা বাসায় বাঁধা বুয়ার কাজ করে।পাড়ার দোকানদার আমাদের রান্নার জন্য জুটিয়ে দেয় তাকে।তার এক হাতে রাজ্যের কাজ করা আমাদের আশ্চর্য করতো।তো এই চার কুলে কেউ না থাকা মহিলা একবার আমাদের জানালো তার মন খুব খারাপ,বেড়াতে যাবে।আমরা আশ্চর্য হই কোথায় যাবে?সে জানায় তার সাবেক স্বামীর গ্রামের বাড়িতে লোক জনের সঙ্গে দেখা করতে যাবে।
ঘটনাটা ঘটে মহিলা বেড়াতে যাওয়ার কয়েকদিন পর।গলির এক মহিলা খোজ নিতে
আসে বুয়ার ।জানায় তার স্বামী কাচাঁ তরকারির ব্যাবসা করে।আমাদের বুয়া প্রায়ই তাদের দোকান থেকে শাক,তরকারি,মরিচ ইত্যাদি চেয়ে আনতো।মহিলা আদর করে আমাদের জানান,আমাদের জন্যই সে আনতো এগুলো ।এখন তার অবর্তমানে আমাদের যদি খুব অসুবিধা হয় ,আমাদের কেউ একজন যেনো তাদের দোকানে যাই। আমরা হাসবো না মরবো ভেবে পাই না।বুঝি,আমরা কেনা কাটার জন্য টাকা দিলে চেয়ে চিন্তে যা আনা সম্ভব ছিলো বিনা টাকায় নিয়ে আসতো সে।
আজ হাসি পাওয়ার স ঙ্গে তার জন্যে একটু মায়াও হয়। সেই জনম দুখি মহিলার কোন উপকার আমরা করিনি।যে যার মতো চলে গেছি নতুন ঠিকানায়। ভাবছি একদিন যাবো বুয়ার খোঁজ খবর নিতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৩১
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×