আমি ক্ষমাপ্রার্থী
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এখন রাত 11:30 । পাশের ঘরে টিভি থেকে ভেসে আসছে কোজ আপ ওয়ানের রন্টির গান "জন্ম আমার ধন্য হল মাগো" । আজকাল কেন জানি মনে হয় এসব কথাই বানোয়াট । আগামীকাল 16 ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। সেই ছোটবেলা থেকেই অনুভূতিগুলো এমন ভাবে গড়ে উঠেছে যে বিজয় দিবস এর আগে মহান কথাটা না লাগিয়ে উচ্চারণ করার কথা মনেই আসেনা। কিন্তু এই এত বছর পরে যখন চারপাশে আমার সঙ্গী সাথীদেরই কাউকে কাউকে দেখি মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করে কথা বলতে , ক্লাসে দাঁড়িয়ে কোন শিক্ষককে বলতে শুনি মুক্তিযুদ্ধে আসলে বাংলাদেশের বেশি লোক মারা যায়নি বাঙ্গালীরা অতিরঞ্জিত করে বলতে ভালবাসে 30 লক্ষ শহীদের কথা তখন কেমন জানি অদ্ভূত লাগে। নিজামী ও তার চামচাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে বড় বড় কথা শুনে যতটা না অবাক হই তার থেকেও অনে-ক অনে-ক বেশি অবাক হয়ে যাই এসব শুনে। বিশ্বাসঘাতক রাজাকাররা তো এমন মিথ্যাচার করতেই পারে কিন্তু আমারই এই আশেপাশের চেনা মানুষগুলো কেন বলবে? আমার প্রজন্মের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস ছিল। আমরা দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব। কিন্তু আজ আমি হতাশ। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছাত্রীজীবনে এমন কিছু ঘটনা চোখের সামনে আমার সাথেই ঘটছে যে সব কিছুর থেকে বিশ্বাস উঠে গিয়েছে। আমারই কিছু সহপাঠী অন্যায়ভাবে ক্লাসের সবাইকে ঠকিয়ে কিভাবে টাকা আত্মসাৎ করছে তা চোখের সামনে দেখছি। কিছু রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতার বিরূদ্ধে আওয়াজ তুলে সত্য কথা বলাতে আমার আরেক সহপাঠীকে পুরো চারটি বছর কিভাবে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তাও চোখের সামনে দেখছি।।তাদের কথা মত না চললে আমারই আরেক বন্ধুকে হল ছাড়া করার হুমকি দেয় এই এরাই। সব দিকে খালি টাকা খিভাবে মারা যায় তারই চেষ্টা। টাকা টাকা টাকা ..আর দূর্নীতি। আর আমি আমরা? সব দেখে শুনে জেনেও কিছু করতে পারিনা। কিছু করলে তাকে সারাটি জীবন কাটাতে হয় ভয়ে ভয়ে। যদি ওরা কিছু করে বসে! নিরপেক্ষ থেকে থেকে আমরা জানি কেমন হয়ে গেছি। ধিক আমাদের! আমার পক্ষ থেকে আমি কিছু কিছু কাজের প্রতিবাদ করেছি ..কিন্তু আমি জানি এই অহিংস প্রতিবাদে কোন সমাধান হয়না, ওরা হয়ত আড়ালে আমাকে নিয়ে হাসাহাসিই করে, ভাবে মেয়েটা কি বোকা!! আমি চাই এমন কিছু করতে যাতে একটা সমাধান হয়। কিন্তু সেটা কি? ওদের হাত যে অনেক বড়? আজ খালি বিষ্ময় নিয়ে ভাবি মুক্তিযোদ্ধারা কতটা সাহসী ছিলেন! নিজের প্রাণটাও তাদের কাছে ছিল তুচ্ছ। আজ এই বিজয়ে দিবসে তাই তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। তাদের কষ্টার্জিত বাংলাদেশের এমন হাল হতে দেখে, চারপাশের চেনা মানুষগুলোকে এভাবে বদলে যেতে দেখেও কিছু করতে পারিনা বলে। খালি পারি নিজের অক্ষমতার বর্ণনা এই খানে তুলে ধরতে। আমরা ক্ষমারও অযোগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে। খুলনা...
...বাকিটুকু পড়ুনআমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,...
...বাকিটুকু পড়ুনমন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন