somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের জাগরণের সর্বপ্রথম শর্ত ও উপাদান।

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেনো ইসলামের পুনঃজাগরনে সর্বপ্রথম ক্ষমতার দরকার?
-------------
আমরা জানি ইসলামের স্বরনযুগের সূচনা মুলত বাদসা হারুন শুরু করলেও, প্রকৃত স্বর্ণযুগ মূলত শুরু করেছিলেন খলিফা মামুন।

খলিফা মামুন বিজ্ঞানের মনষ্ক এবং বিজ্ঞানের অসাধারণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ইসলামের বৈজ্ঞানিক স্বর্নযুগ মূলোত তারই প্রচেষ্টার ফলাফল।

তিনি নিজে বিজ্ঞানী না হয়েও বিজ্ঞানের এক অনন্য সাধারণ বিপ্লব সাধন করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতার ফলেই অদ্ভুতপূর্ব কিছু মুসলমান ট্যালেন্টরা আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।

নীরপেক্ষ ভাবে বলতে গেলে, সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই প্রতিভা থাকে। কিন্তু মুসলিম বিজ্ঞানীদের সাফল্যের একটি সিক্রেট হলো তারা কুরআনিক ভাবে চিন্তা ভাবনা করেন। আর কুরআন যেহেতু বিজ্ঞানময় সেহেতু তারা কুরআন থেকে বিভিন্ন ক্লু পান। (কেবল মাত্র বিশ্বাসীরাই নিদর্শন দেখতে পায়) আর ব্যাপক গবেষনা রত বিষয়ে সত্য উৎঘাটন করতে একটি ছোট্ট ক্লু-ই যথেষ্ঠ।

যেমন একটা উদাহরন দেই, তদারিন্তন সময়ে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিলো গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবে জোয়ার ভাটার মতো প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটতে পারলে মানুষের ভাগ্যে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব অবশ্যই থাকবে।

কিন্তু কুরয়ান পড়ে তৎকালীন মুসলিম বিজ্ঞানীরা জানতে পারে জ্যাতিষশাস্ত্র (জ্যার্তিবিজ্ঞান নয়) বা ভাগ্য গণণা একটা ভুয়া বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইবনে-সিনা, আল-বিরুনি প্রমুখ বিজ্ঞানীরা বলতেন অদৃশ্যের খবর শুধু মাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এ ভাবে তারা জানতে পারে জ্যাতিষশাস্ত্রের কোনো ভবিষ্যত নাই, তাই তারা এসব বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে অযথা সময় নষ্ট করেন নি, ফলে তাদের মুল্যবান জীবনের মূল্যবান সময় গুলো শুমাত্র মূল্যবান কাজে ব্যায়ের জন্য সাশ্রয় হয়।

তাছাড়া খলিফা মুসলিম বিজ্ঞানী ছাড়াও গ্রিক, পারস্য, ভারতীয় সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুনিষিদের মোটা অংকের পারিশ্রমিক দিতেন বিভিন্ন ভাষায় রচিত বৈজ্ঞানিক বই গুলো আরবীতে অনুবাদ করার জন্য।

আবার খলিফা মামুন যুদ্ধের গনিমত হিসেবে প্রথমে সংগ্রহ করতেন সে রাজ্যে সংরক্ষিত তাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের বই গুলোর পান্ডুলিপি।

তাছাড়া যুদ্ধবন্দীদের জন্য মুক্তিপণ ছিলো বন্দীরা তার নিজের দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা দেবে হাউজ অব উইজডমের স্কলারদের।

এখন চিন্তা করে দেখুন খলিফার এত সব পৃষ্ঠপাঠকতা না থাকলে মুসলিম স্কলাররা নিজেদের চেষ্টায় কতটুকুই বা উন্নতি করতে পারতেন।

অথবা খলিফা মামুনের বিজ্ঞান মনষ্কোমনোভাব কি বা করতে পারতো যদি তার ক্ষমতাই না থাকতো।

আর বাস্তব একটা উদাহরণ দেখুন না, বাংলাদেশের নাগরিক রা যদি কোনো ইসলামিক আইন যদি আইন সভায় পাশ করাতে চায় তাহলে কত কিছুই না করতে হবে- মানব বন্ধন, অবরোধ আর শেষে গুম হতে হবে। আর ক্ষমতায় থাকা ব্যাক্তিরা যদি সেই একই আইন পাশ করাতে চায় তবে সেটা তাদের কাছে দুধ-ভাতের মতো।

তাই কথা একটাই ইসলামের দ্বিতীয় স্বর্নযুগ রচনা করতে হলে অবশ্যই চেতনাধারী বিজ্ঞানমনষ্ক ইসলামী মনোভাবের নেতাদের শাসন ব্যাবস্থা কায়েম করতে হবে। সেটা যেভাবেই কায়েম করা হোক না কেনো, শুধু ক্ষমতায় বসাতে হবে ইসলাম ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক কোনো নেতা কে।

আমাদের মতো সাধারণ মুসলিমদের এটিই লক্ষ্য হতে হবে।

ইসলামিক বিপ্লবের জন্য সবচেয়ে জরুরি ও প্রাথমিক জিনিস হলো ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ২:১৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×