somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হাবিব চাচা ও তার কন্যারা

০১ লা মার্চ, ২০১৪ সকাল ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

//গভীর রাত ঘড়ির কাটা ২টার আশে-পাশে। তাহাজ্জুদ সালাতে হাবিব চাচা দাড়িয়ে আছেন। বাইরে থেকে ডাক শুনতে পেয়ে চাচী ঘুম থেকে জাগলেন। বাইরে থেকে ডাক শোনা গেল হাবিব চাচা ও হাবিব চাচা দরজাটা একটু খোলেন প্লিজ। চাচী কহিলেন বাবারা তোমরা কারা এতো রাতে? জ্বী আমি উত্তর পাড়ার গনেশ, আমার সাথে জামাল, বিল্লাল,সাত্তার আর হাতাকাটা সাইফুল আছে আর ঐ যে পুকুর থেকে ফেরার পথে আপনার মেয়েকে ভেজা কাপড়ে দেখতে পেয়ে রাস্তায় শিষ বাজানো সেই মনির আছে।

চাচী কহিলেন তা ঘটনা কী বলো ! আর বইলেননা চাচী আপনার সুন্দরী মেয়েদের দেখতে এসেছি। ঘুম আসছিলনা। বিশ্বাস করেন আমরা ওদেরকে একবার একটু দেখে চলে যাব। ইতিমধ্যে চাচার সুন্দরী কন্যারা ঘুম থেকে জেগে গেল ! আর ভাবলো কি ব্যাপার ডিজিটাল সরকার কি ফেসবুক বন্ধ করে দিল নাকি ! কাজিনের গায়ে হলুদের দিন হলদে শাড়ি পরা ছবি, বিয়ের দিন সাজু-গুজু করে কপালে টিপ পরা ছবি, এগুলো কি তাহলে দেখা যাচ্ছেনা ফেসবুকে?

ওহ বুজেছি ! ফেসবুকেতো আমার ঘুমানো অবস্থায় ছবি আপলোড করা হয়নি ! বোধ হয় আমি ঘুমালে কেমন দেখায় সেটা দেখতে এসেছে ভায়ারা ! চাচীজান দরজা খুলে দিলেন, চাচাজানের তাহাজ্জুদ শেষ হয়েছে, এখন আল্লাহর কাছে জান্নাতের দরখাস্ত করে ঘুমাবেন !

ঘরের ভিতরে ঢুকে সুন্দরী কন্যাদের চহ্মু ভরে দেখলো স্মার্ট, টগবগে ভায়ারা। পরে মন চাইলে আবার দেখবে তাই যাবার সময় বিভিন্ন এঙ্গেলে ডজন খানিক ছবি তুলে নিয়ে গেল ওরা ! গনেশ আর সাত্তারের কন্ঠে শোনা গেল ওহ! আপুরা বেশ সুন্দরতো তোমরা!

আর মনির বিড়-বিড় করে বল্লো চাচাজানের জিনিস কয়েকটা এক্কেবারে.…! এই শুনে চাচা আর চাচীজানের বুক গর্বে ভরে গেল ! ঘুমানোর আগে চাচা- চাচীকে কহিলেন ওগো দুনিয়া আর কয়দিন আমি আগামী মাসে একটা মাহফিলে যাব তিন দিন ওয়াজ শুনতে!//

উপরের এই ঘটনাটা সম্পূর্ন কাল্পনিক ! তবে বাস্তবের সাথে মিলে যায় ! কিভাবে? বলছি শুনুন !

আপনার বোনের ছবি থাকে ফেসবুকে, আপনার ভাতিজি-মেয়ের ছবি থাকে ফেসবুকে আপনি কি অন্ধ? আল্লাহ কি আপনার বোধ শক্তি দেননি? যুবকের হ্মুধার্ত চোখে আপনার মেয়েরা ধরা দেয় আপনি তবু বোবা হয়ে বসে বসে তসবীহ জপেন! মেয়েরে পাংখা লাগিয়ে রেখেছেন লজ্জা করেনা ?

দেশের আনাচে কানাচের যুবকেরা আপনার মেয়ের ফিগারের মাপ নিয়ে ফেসবুকে কয় নাইস লাগছে, হট! ছেলেরা মন চাইলে পিসি, ল্যাপ্টপে আপনার মেয়েদের ছবি দেখে, সেখানে রাত লাগেনা দিন লাগেনা!

প্লিজ ভয় করুন আল্লাহকে। ফিরে আসুন ঐ দ্বীমুখী অন্তর থেকে। পরিবারের দায়িত্ব্শীল হয়েছেন তাই পদহ্মেপ নিন। কন্যাদেরকে রোদের তাপ থেকে বাচাতে চান অথচ জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাতে উদ্যোগী হন না। যুবকের চোখে মেয়েকে বরাদ্দ রাখেন, ধিক আপনাকে হে পিতা!

হে পিতা আপনি দায়িত্ব্শীল আপনার পরিবারের প্রতি ! দেখুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কী জানিয়ে গেছেন !

“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের (তার সম্পদ ও সন্তানের); সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল, সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।।”
[বুখারী-১/৩০৪, ৪৩১, ২/৮৪৮,৯০১; মুসলিম-৩/১৪৫৯ ]

কুরানে আল্লাহ যা বলেছেনঃ বাংলায় দেয়া হলোঃ

“হে লোকজন যারা ঈমান এনেছো, তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তান-সন্তুতিকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো মানুষ এবং পাথর হবে যার জ্বালানী ৷ সেখানে রুঢ় স্বভাব ও কঠোর হৃদয় ফেরেশতারা নিয়োজিত থাকবে যারা কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তাই পালন করে ৷”
[তাহরিম, আয়াত-৬]
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ এর ভয় কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে?

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১২


আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি—
“ডিপ্রেশন ছিল”, “প্রেশার নিতে পারেনি”, “পারিবারিক সমস্যা ছিল”…


তারপর গল্পটা শেষ।

কিন্তু সত্যি কি এতটাই সহজ?

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ৭৭... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়েরা ,আপনার শিশুকে টিকা দিন

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১১


টিকা দান কর্মসূচী আবার শুরু হয়েছে,
মায়েরা আপনার শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দিন
এবং সকল টিকা প্রদানের তথ্য সংরক্ষন করুন, যা আপনার সন্তানের
ভবিষ্যৎ জীবন যাপনে কাজে লাগবে ।



(... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×