somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুক্ষ চুলের বোকা মেয়েটিকে ভালবাসি

১০ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীলুর এই প্যাঁচ-প্যাঁচ করে কান্নার স্বভাবটা আমার একদম ভাল লাগে না । কিরে ভাই ! এভাবে কান্নার কি হল ? কোন সমস্যা হয়েছে, আমার কোন আচরনে কষ্ট? পেয়েছিস আমাকে বল !
না বললে আমি কিভাবে বুঝবো ?
তা না সামনে এসে মুখ গোমরা করে থাকবে !
প্যান-প্যান করে কাঁদবে !
আজও দেখা হবার পর থেকে তাই শুরু করেছে ! প্রথমে মুখ গোমড়া ছিল কিছুক্ষন আগে থেকে কান্না শুরু হয়েছে !
আমি জিজ্ঞেস করলাম
-কাঁদছিস কেন?
-কাঁদছি না । কাঁদবো কেন ? কার জন্য কাঁদবো ? আর আমি কাঁদলে তোর কি ?
নীলু অন্য দিকে তাকিয়ে কথা বলছিল । ওর কণ্ঠে অভিমানের একটা সুর বোঝাই যাচ্ছিল । আমি বললাম
-কি বললি ? আবার বল । আমার দিকে তাকিয়ে বল । আমি কাঁদলে তোর কি না যেন বললি ।
গলায় একটু কাঠিন্য এনেই বললাম । নীলু আমার দিকে তাকাল । কিন্তু কিছু বলল না । জানতাম ও বলতে পারবে না ।
ওর চোখের পানি চলমল করছে । আটকানোর চেষ্টা করছে । জানি না কতক্ষন আটকে রাখতে পারবে ! নীলু চোখ সরিয়ে নিল । আমি খানিকটা যত্ন নিয়ে ওর মাথায় হাত রাখলাম ।
কি রুক্ষ চুল !
একটুও যদি যত্ন নেয় নিজের প্রতি এই মেয়েটা !! আমি মাঝে মাঝে আশ্চার্য হই আবার মাঝে বিরক্তও হই । এই বয়েসের মেয়েরা নিজের প্রতি কতই না যত্নশীল হয় ।
বিশেষ করে নিজের চেহারার প্রতি । কি করলে নিজেকে আর একটু সুন্দর লাগবে এই চিন্তায় বিভোর থাকে । কিন্তু এই মেয়েটি একদমই তাদের বিপরীত ।
-আচ্ছা তোর চুল গুলো রুক্ষ থাকে কেন সবসময় ? কেমন পেত্নীর মত লাগে ! একটু যত্ন নিতে পারিস না ?
নীলু এবার আমার দিকে তাকাল । ওর চোখের দিকে তাকাতেই দেখলাম ওর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল । ওর চোখের ভাষায় আমি আমার জবাব পেয়ে গেলাম । ওর চোখ যেন বলল তুই কেন এই প্রশ্নটা করলি ? তুই খুব ভাল করেই জানিস এই প্রশ্নের জবাব ।
সত্যি তাই । আমি ভাল করেই জানি ।
আসলে খুব ছোট বেলা থেকেই নীলু বড় অনাদরে বড় হয়েছে । ওর মা মারা গিয়েছিল অনেক ছোট বেলায় । বাবার কাছেই মানুষ । নীলুর আরো বড় দুটো ভাইবোন আছে ।
কিন্তু কি এক বিচিত্র কারনে তারা কেউই নীলুকে ঠিক দেখতে পারতো না ।
এমন কি নীলুর বাবাও তাই । ওর প্রতি কেমন একটা ছাড়াছাড়া ভাব । খুব ছোট বেলা থেকেই নীলুকে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়েছে । এমন অনাদরে বেড়ে ওঠা একটা মেয়ে কিভাবে নিজের প্রতি এতো যত্নশীল হয় ?
আমি ওর চোখের জল মুছে দিলাম । বললাম
-নিজের প্রতি একটু যত্নতো নিবি তাই না ? তা না হলে ছেলেরা তো তোকে পছন্দ করবে না ।
-আমার দরকার নাই পছন্দ করার !
-আহা ! নিজে নিজের যত্ন নেবে না আবার ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদবে এই ভেবে যে আমাকে কেউ পছন্দ করে না । আমাকে কেউ ভালবাসে না ।
নীলু কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো এক ভাবে । তারপর বলল
-চেহারাটাই কি মেইন জিনিস ? ভালবাসতে হলে কি চেহারা ভাল হওয়াই লাগবে ? মন বলে কিছু নেই ।
আমি হাসলাম । বললাম
-তোর মন সুন্দর কি সুন্দর না এটা তো বাইরে থেকে দেখা যায় না । চেহারাটা দেখা যায় । আর প্রথম ক্ষেত্রে মনের থেকে চেহারার ভূমিকাটা বেশি ।
-কিন্তু যারা আমার মন কে জানে ,চেনে, তাদের ক্ষেত্রেও কি একই কথা ?
আমি কথাটার উত্তর দিলাম না । কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে । আমি জানি নীলুর শেষ কথাটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলা । কারন ওর বন্ধু বলতে কেবল আমি ।
আমার সাথে ছাড়া ও আর কারো সাথেই ঠিক ভালভাবে মিশে না । আর সত্যি বলতে কি আমার ভাল বন্ধু বলতে ও ছাড়া আর কেউ নেই ! আমি নীলুর হাত ধরে বললাম
-চল ।
-কোথায় যাবো ?
-তোকে পার্লারে নিয়ে যাই !
অন্য সময় হলে হয়তো নীলু আপত্তি করতো কিন্তু আজ করলো না । চুপচাপ আমার সাথে রিক্সায় উঠে বসল । রিক্সা চলছে নীলু আমার হাত ধরে বসে আছে চুপচাপ ।
হঠাৎ‍ নীলু বলল
-তুই অনুরুমাকে প্রপোজ করেছিস ?
অনুরুমা আমাদের ডিপার্টমেন্টে নতুন ভর্তি হয়েছে । নিউ ফাস্ট ইয়ার । সত্যি বলতে কি মেয়েটা আসলেই দেখতে সুন্দর । মোটামুটি সব সিঙ্গেল ছেলেরাই অনুরুমার পেছনে লাইন লাগিয়ে দিল । আর আমাদের ক্লাসের কিছু ছেলে রুমার ছড়াল যে আমি সেই লাইনের টিম লিডার ।
এই কথা শুনেই নীলুর যত প্যানপ্যানী শুরু ।
নিজের মনের কথাটা একবারও মুখ ফুটে বলবে না আর আমি কিছু করতে গেলেই দোষ !
-কই বললি না তো ?
-কি বলবো ? তবে মেয়েটা কিন্তু আসলেই সুন্দর ।
-ও সুন্দর আর আমি পেত্নী ?
নীলু কেমন একটা রাগী কণ্ঠে বলল কথাটা ।
-যাই হোক ও নিজের চেহারার প্রতি যত্ন তো নেয় । ওর চুল দেখেছিস কত সুন্দর ! তোর মত না !
আমি জানতাম এই কথা শুনে ও রেগে যাবে । রেগে গেলেও । বলল
-থাক তুই তোর অনুরুমাকে নিয়ে । আমি তোর সাথে যাবো না ।
এই বলে ও রিক্সা থেকে নেমে পড়তে চাইল । আমি ওকে দুহাত দিয়ে থামাতে থামাতে বললাম
-আরে আরে করিস কি ? এখান থেকে লাফ মারলে হাত পা ভেঙ্গে যাবে । দেখ লুলা ল্যাংড়া মেয়ে কিন্তু কেউই পছন্দ করে না ।
আমার কথা শুনে নীলু বেশ আহত হল । কাঁদতে লাগল ।
আসলে ও এতোক্ষন বুঝতেই পারে নি যে আমি ওর সাথে ফান করছি । নীলুর হাত দুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললাম
-তুই এতো বোকা কেন রে ? এতো দিনেও আমার চোখের ভাষা বুঝতে পারিস নি ? তুই যেদিন থেকে আমার প্রেমে পরেছিস আমি সেই দিনই টের পেয়েছি । আর তুই টের পেলি না আমার মনের কথাটা ?
নীলু একভাবেই তাকিয়ে রইল আমার দিকে । আমি বললাম
-আজ তোকে পার্লারে নিয়ে যাচ্ছি কেন জানিস ?
-কেন ?
-কারন আজ বিকালে তোকে মায়ের কাছে নিয়ে যাবো । আর আমি চাই না আমার মা তোর এই পেত্নী মার্কা চেহারা দেখে ভয় পাক ! বুঝেছিস !
নীলু কেমন যেন একটু রাগ করতে গিয়ে হেসে ফেলল । কি মায়াময় সেই হাসি !
এই এতোক্ষন পর ওর মুখে হাসি দেখে সত্যি ভাল লাগল নিজের কাছে । আমার একা নীলুটা কি চমৎকার ভাবেই না হাসে ! মার পছন্দ না যাবে কোথায়....



বিঃদঃ লেখাটা কয়দিন আগে অল্প কিছুক্ষনে জন্য পোষ্ট করেছিলাম । ১০-১৫ মিনিট ছিল । তারপর ড্রাফট করে ফেলেছি । তাই কারো কারো পড়া মনে হতে পারে ।
ফেবু লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৫২
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×