somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু বৃষ্টিতে ভিজবে বলে একসাথে !!

০১ লা অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাড়িটা যখন জঙ্গলের মধ্য ঢুকে পড়ল নিশির একটু যেন ভয় মত লাগল । মনে হল গাড়িটা জঙ্গলের মধ্যে যাচ্ছে কেন ?
কোন সমস্যা হবে না তো !
তাহলে কি ভূলই করল !
কোন ছেলের সাথে আর সব থেকে বড় কথা এখন বৃষ্টি আসবে কোথা থেকে ! জঙ্গলে ঢোকার আগে তো আকাশটা একদম পরিস্কার দেখা যাচ্ছিল । এখনও অবশ্য গাছগাছালীর ফাঁক দিয়ে আকাশটা দেখা যাচ্ছে । কিন্তু গাড়িটা যতই এগিয়ে যাচ্ছে আলোর পরিমানটা আরো কমে আসছে । এই ভরদুপুর বেলাও কেমন আলোটা মিইয়ে এসেছে গাছগুলোর জন্য ।
সত্যি একটু ভয় ভয় করতে লাগল ওর । নিশির চেহারা দেখে মনে হয় আবীদ কিছুটা আঁচ করতে পারল । নিশির দিকে তাকিয়ে বলল
-ভয় পাচ্ছ তুমি ? ভয় পেও না । আমার দ্বারা তোমার কোন ক্ষতি হবে না কখনও ।
আবীদ একটু হাসল । আবীদের ঐ হাসির মধ্যে কি ছিল কে জানে নিশির সব ভয় উড়ে গেল নিমিশেই । আবীদের কথাটা সত্যি ওর বিশ্বাস হল । ওর অমন নিষ্পাপ চোখ দিয়ে যখন নিশির দিকে তাকিয়ে ছিল নিশির সত্যি সত্যিই মনে হল যে আবীদ কোন দিন ওর কোন ক্ষতি করতে পারবে না ।
নিশি বলল
-তুমি এই জঙ্গলের মধ্যে থাকো ?
-হুম ।
-কুড়ে ঘরে নাকি ট্রি হাউজে ?
-আবীদ খুব হাসল নিশির কথা শুনে ।
-বল চল আর একটু গেলেই দেখতে পাবে ।
-আর একটা কথা জিজ্ঞেস করবো ?
-কর ।
-এখন তো আকাশ তো একদম পরিস্কার । বৃষ্টি কোন ভাবেই আসবে না । তাহলে ?
আবীদ আবার হাসল । তবে এবার কার হাসিটা কেমন জানি একটু রহস্যময় মনে হল নিশির কাছে । নিশি আর কথা বলল না ।

আবীদ আর নিশি এক সাথেই পড়াশুনা । আবীদ সব সময় কেমন জানি একটু চুপচাপ । কথা বার্তা বেশি বলত না । নিশিদের বন্ধুবান্ধব দের মধ্যে ওকে নিয়ে খানিকটা কৌতুহল ছিল সব সময় । কিন্তু সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের নয় ।
দিন গুলো ভাল ভাবেই চলে যাচ্ছিল তারপর একদিন সব গড়বড় হয়ে গেল । নিশি ভার্সিটিতে আসছিল ঠিক এমন সময় ওর সামনে একটা কালো ফারারী গাড়ী ব্রেক করল । প্রথমে একটু ভয় পেলেও সামলে নিল । কারন গাড়িটা ওর পরিচিত । আবীদ এই গাড়িটাতে চড়ে ভার্সিটিতে আসে । আর ফারারী গাড়ি খুব একটা চোখেও পড়ে না ।
গাড়ির কাঁচ নামিয়ে আবীদ বলল
-ক্লাসে যাচ্ছ ?
-হুম ।
-আমি এগিয়ে দিলে সমস্যা ?
এটা নিশির কাছে নতুন । আবীদ ওকে সেধে লিফট দিতে চাইছে , এর মানে কি ? কিন্তু নিশি খানিকটা ইতস্তত করলো । বলল
-দেখো তোমার গাড়িতে উঠলে মানুষ জন নানা কথা বলবে । আর আমার বাসায় জানলে সমস্যা হবে । তুমি প্লিজ কিছু মনে কর না । আমি তোমার গাড়িতে উঠব না ।
আবীর মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল । জোর করে হাসি ফুটিয়ে বলল
-আচ্ছা সমস্যা নাই ।
কাঁচ উঠিয় যখন কালো ফারারী চলে গেল নিশির মনে হল গাড়িটাতে চড়লেই হত ! কিছুই তো হত না । বরং একটু ভাব নেওয়া যেত বন্ধুদের কাছে । এই টুকু অন্তত বলতে পারতো দেখ ঐ ছেলে কাউকে পাত্তা না দিলেও আমাকে পাত্তা দায় ।
আবীর আসলেই ক্লাসের কারো সাথেই বিশেষ কথা বার্তা বলে না । নিজের মন থাকে । ক্লাসে পিছনের দিককার একটা বেঞ্চে বসে থাকে ।

ঐ দিন নিশি বারান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে বৃষ্টি দিকে তাকিয়ে ছিল ।
-বাসায় যাবে না ?
-হ্যা ! বৃষ্টি হচ্ছে তো ।
নিশির কাছে ব্যাপারটা কেমন যেন লাগছে । যে ছেলেটা কোন দিন কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলে না আর আজ ওর সাথে পরপর দুবার কথা বলল ।
আবীর ওকে বাসায় পৌছে দিতে চাইল ।
-আবীর আসলে ..
-না ঠিক আছে আমি বুঝতে পারছি তোমার সমস্যা হবে ।
এই বলে আবীদ কিছুক্ষন চুপ করে রইল । তারপর বলল
-আসলে নিশি আমি অনেক দিন ধরেই তোমাকে বলব বলব ভাবছিলাম । আজকে সুযোগ এসেছে ।
-কি ?
নিশির মনে হল হয়তো আবীদ ওকে প্রোপজ করতে যাচ্ছে ।
-আমি বৃষ্টি অনেক ভালবাসি । অনেক বেশি । আমার অনেক দিনের ইচ্ছা আমি তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো । মাত্র একটা বার । অল্প কিছুক্ষনের জন্য । সম্ভব ?
নিশি প্রথমে কিছু বুঝতে পারলো না যে ছেলেটা আসলে কি বলতে চাইছে । নিশি বলল
-আমার সাথে ? কেন ?
-আই ডোন্ট নো । প্রতিদিন যথন ঘুম থেকে উঠি মনে হয় আজ তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভেজা হবে ? কিন্তু কোন দিন বলাই হয় নি । আজ বলেই ফেললাম ।
-আবীদ দেখো, তোমাকে আমি আগেই বলেছি যে আমার ফ্যামিলি একটু স্ট্রিক এই সব ব্যাপারে । প্লিজ তুমি কিছু মনে কর না । আমার পক্ষ্যে সম্ভব না ।
আবীদের মুখটা আবার মলিন হয়ে গেল । আবীদ কিছুক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বৃষ্টির ভিতরে নেমে গেল । কিছুদুর গিয়ে ফিরে চাইলো নিশির দিকে । নিশির কেন জানি বুকের ভিতরটা হুহু করে উঠল আবীদ কে দেখে ।
বারবার মনে হয়ে লাগল একবার বৃষ্টিতে ভিজলে এমন কিই বা হত । ছেলে নিশ্চই কত খুশি হত । পর দিন আবীদ ক্লাসে এল না । কেউ হয়তো লক্ষ্যও করলো না কিন্তু নিশি কিছুতেই নিজের মনে শান্তি পাচ্ছিল না । বারবার কেবল একটা কথাই মনে হচ্ছিল যে একবার ভিজলে কি এমন হত । ছেলেটা কত আশা নিয়ে এসেছিল ।

আবীদের বাসাটা আসলেই নিশির খুব পছন্দ হল । বনের ভিতর এমন সুন্দর বাড়ি যে ঠাকতে পারে এটা নিশির ধারনাই ছিল না । বাড়ির সীমানার ঠিক পেছন থেকেই একটা নদী প্রবাহিত হয়েছে । আর দুইপাশে জঙ্গল ! বেশ ঘন জঙ্গল ! কি চমৎকার একটা পরিবেশ !
-চল !
নিশি বলল
-কোথায় ?
-বৃষ্টিতে ভিজবে না ?
-কিন্তু বৃষ্টি কোথা্য় ? আকাশ তো একদম পরিষ্কার ! বৃষ্টি আসবে কেমন করে ?
-আরে আসো তো !
আবীদ হাসলো ।
নিশি কিছু বুঝলো না । আবীদ নিশিকে একটা প্যাকেট দিয়ে বলল
-এটার ভিতর একটা পোষাক আসে । দেখ তোমার পছন্দ হয় নাকি ।
নিশি কিছু বলল না । ছেলেটা যা বলছে কেন জানিকরটে ইচ্ছা করছে । ঘরের ভিতর গিয়ে প্যাকেট টা খুলে দেখলো একটা কালো রংয়ের চুড়িদার ! এটা নিশির কাছে ভাল লাগলো । আর একপাতা কালো টিপ ।
চেঞ্জ করে যখন বাইরে এল দেখলো আবীদও কালো রংয়ের পাঞ্জাবী পরেছে ।
কালোতে ছেলেটাকে ভালই লাগছে !
আবীদ কিছুক্ষন তাকিয়েই রইলো ননিশির দিকে ! বলা চলে মুগ্ধ চোখে !
আবীদ বলল
-জানো, আজ আমার জীবনে রসব থেকে বড় ইচ্ছেটা পুরন হবে ।
-কিন্তু !! বৃষ্টি কোথায় ?
-আরে আসো তো !
আবীদ ওকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এল । নিশি আবার উপরের দিকে তাকালো । চারিদিকে কেবল গাছগাছালিতে ভরা !
নিশি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে যদিও জানে বৃষ্টি আসবে না । আবীদ ওর দিকে একভাবেই তাকিয়ে আছে ।
হঠাৎ একফোটা পানি যেন নিশির গালে স্পর্শ করলো ।
তারপর আরও এক ফোটা !
-আশ্চর্য ! পানির ফোটা আসছে কোথা থেকে ?
নিশি কেবল অবাক হয়ে তাকালো আবীদের দিকে ! আবার তাকালো আকাশের দিকে !
আকাশ এখনও পরিষ্কার !
নিশি আবীদের দিকে তাকিয়ে দেখলো আবীষ হাসছে মিটি মিটি !!
দেখতে দেখতে তুলুল বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল !!
নিশি আবার বলল
-বৃষ্টি আসলো কোথা থেকে ?
-আগে বৃষ্টিতে ভিজো ! তারপর বলছি ।
নিশির আসলেই কেমন যেন অদ্ভুদ লাগছে ।
এই আবীদটা আবার মানুষ তো ? যদি কোন জ্বীন ভুত না তো ?
হা হা হা হা !!
নিজের মনেরই হাসলো ! কি ভাবছে !
আবীদ বলল
-এই একটা মুহুর্তের জন্য আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি !! কত প্রস্তুতি নিয়েছি । বৃষ্টি জন্য যেন আমাকে অপেক্ষা করে থাকতে না হয় সেই ব্যবস্থা নিয়েছি !
-কি রকম?
-এটা কিন্তু আসল বৃষ্টি না ।
-মানে?
-মানে হল পুরো এলাকাতে যত গাছ আছে সেগুলোট ডালে ডালে ঝর্ণা সেট করা । সুইট টিপ দিলেই সেখান থেকে পানি পড়া শুরু করে ।
নিশি সত্যি অবাক না হয়ে পারলো না ।
-তুমি এসব করেছ কেবল আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবে বলে ?
আবীদ হাসলো ! এটা একটা কারন । তাছাড়া আরো একটা কারন আছে ।
নিশি আসলেই কিছুক্ষন কোন কথা বলতে পারলো ন । ও ভাবতেই পারছে না একটয়া ছেলে কেবল ওর জন্য বৃষ্টিতে ভেজার জন্য এতো আয়োজন করতে পারে ।
-আর কি কারন?
আবীদ নিশির সামনে হাটু গেড়ে বসলো !
-আর একটা কারন হল, আমি এই বৃষ্টির ভিতর তোমাকে প্রোপজ করটে চাই !
তারপর পকেট থেকে একটা আংটি বের করে বলল
-নিশি ! ম্যারি মি !
নিশি কেবল অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো । আর ক্ষ্যাল করলো যে ওর হাট তা আবীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ! ও নিজেকে কিছুতেই আটকে রাখতে পারলো না । কেবল মনে হতে লাগলো এই আংটি না পড়লে ও দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে !
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৪২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×