somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার আর নন্দিনীর গল্প !!

০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নন্দিনী হলুদ ক্যাবটার দরজা খুলল খুব আস্তে করে । আমার দিকে পিছন ফিরে আছে । আমি জানি আর একবার ও ফিরে আমার দিকে তাকাবেই ।
দরজাটা আর একটু খুলে আমার দিকে ফিরে চাইল ।
ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে !
আশ্চর্য এই মেয়েটা এতো কাঁদতে পারে ! আর এর চোখে পানিও আছে মাসাল্লাহ ! আমার মনে হয় নন্দিনীর চোখের পানি দিয়ে একটা লবন ফ্যাক্টারী খুলে ফেলা যাবে ! আয়োডিন যুক্ত লবন !
নাহ ! এই মেয়েটার দিকে আর তাকিয়ে থাকা যাবে না । এর দিকে তাকিয়ে থাকলে ও ক্যাবে উঠতেই পারবেন না । একই ভাবে তাকিয়ে থাকবে আর কাঁদতে থাকবে !
আমি ঘুরে তাকালাম ।
একটু পর অনুভব করলাম নন্দিনী আমাকে জড়িয়ে ধরেছে ! কেন জানি আপনা আপনি আমিও ওকে জড়িয়ে ধরলাম । ওর কান্নার বেগ বাড়ছেই । আমি বললাম
-এভাবে কেন কাঁদছো? আমি কি হারিয়ে গেছি ?
নন্দিনী ফোঁপানো ফলায় বলল
-হারিয়েই তো গেছ ! তুমি তো আমাকে ভালবাসো না ! একটুও বাসো না ।
ইস !! কি অভিমান মাখানো কথা ! নিজেকে ওর বাহু বন্ধন থেকে ছাড়ালাম । আমি নন্দিনীর চোখ মুছে দিতে দিতে বললাম
-এরকম পাগলামো করে না ।
-আমি পাগলামো করছি, না ? হ্যা আমি তো পাগলই । আমি তোমার জন্য পাগল । আমি কিছুতেই তোমাকে ছেড়ে যাবো না । কিছুতেই না ।
আমি কিছু বলতে পারলাম না । কেবল চেয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে !!
নন্দিনী বলল
-আচ্ছা আমি যদি মুসলমান ঘরে জন্মাতাম তাহলে কি তুমি আমাকে এভাবে ফিরিয়ে দিতে ? বল, এই ভাবে অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যেতে দিতে ?
-আবার সেই একই কথা ? তুমি খুব ভাল করে জানো আমি একজন কে ভালবাসি ! তারপরেও কেন এইকথা টা বারবার বল !
নন্দিনী খুব জোর গলায় বলল
-তুমি আর কাউকে ভালবাসো না । তুমি শুধু আমাকে ভাল বাসো ! আমি খুব ভাল করে জানি !
নন্দিনী আর দাড়ালো না । কাঁদতে কাঁদতেই চলে গেল ।
আচ্ছা মেয়েটা এতো কন্ফিডেন্ট সহকারে কিভাবে বলল যে আমি ওকে ভালবাসি !
সত্যিই কি ভালবাসি ??
কে জানে ?
মানুষের মন বড় কনফিউজিং জিনিস !!
কখন যে কি চায় ?
আচ্ছা নন্দিনী যদি অন্য ধর্মের না হয়ে আমার ধর্মের হত তাহলে কি হত ?
আমি অনেক ভেবেছি এই ব্যপার টা নিয়ে । কিন্তু কোন সদউত্তর পাই নি !!
পাবো কি না জানিও না !!

আমি নন্দিনীর কাছ থেকে সব সময় দুরে থাকতে চাই কিন্তু কেন জানি পারি না । এই মেয়েটা খুব ভাল করেই জানে কিভাবে আমাকে কনভেনস করটে হয় । ঠিক ঠিক আমার সাথে দেখা করবেই ।
আজ সকালে যখন ফোন দিয়ে বলল যা আমার সাথে দেখা করবে আমি সরাসরি না বলে দিলাম । এর সাথে দেখা হওয়া মানেই ঝামেলা । কখন কি করে বসে কে জানে ?

নন্দিনীর সাথে পরিচয়টা হয় খুব সাধারন ভাবেই । একদিন মেইল চেক করতে গিয়ে দেখি একটা মেইল এসেছে ।
নন্দিনী রাই নামে ।
এই নামে কাউকে চিনি বলে মনে পড়লো না !
আর আমার মেইলে সাধারন কেউ মেইল টেইল পাঠায় না । এই মেইলটা কে পাঠাল ?
ওপেন করে দেখলাম একটা মাত্র লাইন
আমার বন্ধু হবেন ?
খানিকটা কৌতুহল হল । আমাকে এভাবে কেউ কোন আমন্ত্রন জানিয়ে বন্ধু হতে চায় নি । এই জন্য কৌতুহলটা আরো বেশি হল ।
রিপ্লেতে হ্যা জানিয়ে দিলাম ।
কারন জানতে চাইলাম যে আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাওয়ার কারনটা । নন্দিনী মেইলের জবাবে বলল যে আপনার লেখা গল্প গুলো আমার ভাল লাগে ।
খুব বেশি ভাল লাগল এটা শুনে । আমি এমনিতেই খুব হালকা টাইপের গল্প লিখি ! এই গল্প আবার কারো বাল লাগতে পারে জানা ছিল না !আমি তারপর থেকেই মেয়েটির সাথে মেইল চালাচালি শুরু হল । আমরা কত কথা বলতাম মেইলে ।
কোথায় যাই কি করি কি খাই তবুও যেন কারই মন ভরছিল না । মনে হচ্ছিল কেবল মেইল কথা বলে যেন ঠিক মত মনের কথা বলতে পারছি না ।
তাই একদিন মোবাইল নাম্বার দিয়ে দিলাম । তবে প্রথমে বললাম যে আমরা কেবল এসএমএসে কথা বলব তারপর ফোন । কত এসএমএস যে নন্দিনীকে পাঠিয়েছি ।
সকালে ঘুম ভাঙ্গা থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত প্রতিটা সময়ে আমাদের ম্যাসেজে কথা চলত । দিন গুলো হঠাত্‍ করেই কেমন করে আরো সুন্দর হয়ে উঠল ।
সব থেকে মজা লাগত একসাথে লাঞ্চ করার বিষয়টাকে । যদিও আমাদের তখনও দেখা হয় নি তবুও আমরা সবসময় একসাথে লাঞ্চ করতাম । দুপুর বেলা খাওয়ার সময় হলেই নন্দিনী আমাকে মেসেজ পাঠাত । একসাথে দুজন খাবারের প্লেট নিয়ে বসতাম ।
তারপর স্টার্ট লিখে এসএমএস আসতো নন্দিনীর কাছ থেকে । তারপর আমরা খাওয়া শুরু করতাম । হাস্যকর ছিল ব্যাপারটা কিন্তু সুইটও ছিল ।
বলা চলে এই একসাথে লাঞ্চ করার বিষয় টা থেকেই নন্দিনীর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় । দুপুর বেলা নন্দিনী কখনই আমাকে ছাড়া খেত না । আমি শতবার বলার পরেও না । আমার অবশ্য ভালই লাগত ।
কিন্তু মাঝে মাঝে অবশ্য ক্লাস থেকে বাসায় আসতে দেরি হয়ে যেত । সে সময় ওকে বারবার মেসেজ করে বলতাম খেয়ে নেওয়ার জন্য । কিন্তু নন্দিনী কিছুতেই খেত না ।
বলত তুমি আগে বাসায় আসো তারপর খাবো । একসাথে খাবো । আমি মনে মনে হাসতাম । একদিন এতোই দেরি হয়ে গেল যে বাইরে থেকেই খেয়ে নিতে হল । আর কাজে এতোই বিজি ছিলাম যে নন্দিনীর কথা ঠিক মনে ছিল না ।
ওর মেসেজের রিপ্লেও দিতে পারি নি !
পরে যখন ক্ষ্যাল হল তখন নন্দিনীর সে কি রাগ । না ঠিক রাগ না, অভিমান । আমি যত বারই বলি খেয়ে নিতে সে বলে সে খাবে না ।
এখন যতই না দেখি একজন কে, যদি জানতে পারি যে একজন মানুষ কেবল আমার জন্য না খেয়ে আছে মনের ভিতর কি আর শান্তি লাগে ?
ওকে বলি
-আচ্ছা, কি করলে তুমি খাবে ? যা বলবে তাই করবো ?
-সত্যি ?
-বল তো আগে ?
-আমার সাথে দেখা কর !
-এখন ? দেখো এখন একটু পরেই আমাকে টিউশনিতে যেতে হবে ! কিভবে আসবো বল ?
-থাক আসতে হবে না !
আমি ভেবে পেলাম না কি বলবো !
নন্দিনী আবার বলল
-আমি না থাকলে তোমার কি ?
-আচ্ছা বাবা ! এখন খাও ! কথা দিলাম কাল দেখা করবো !
ওপাশ থেকে কিছুক্ষন নিরবতা । তারপর বলল
-সত্যি তো !

আমি প্রথমে নন্দিনীর সাথে দেখা করতে চাই নি । আসলে আমি আমার ভার্চুয়াল লাইফ আর পার্সোনাল লাইফটাকে আলাদা রাখতে চেয়েছিলাম । কিন্তু তা আর হল কই !

পরদিনই নন্দিনীর সাথে দেখা হল । নন্দিনীর সাথে আমার অনেক কথা । আমার সব রকম পছন্দের কথাই নন্দিনী জানতো ! ঐদিন নন্দিনী সাদা পরে এল । আমি যেমনটা পছন্দ করি ঠিক তেমনটাই !

এই ভাবেই চলছিল । আমরা কাছে আসতে আসতে কখন যে একে ওপরের খুব কাছে এসে পরলাম তার কেউ ই টের পাই নি । যখ টের পেলাম তখন বেশ দেরি হয়ে গেছে । এমন একটা মুহুর্ত নাই যে আমরা একে ওপরের সাথে যোগাযোগ করি নি । ওর কাছ থেকে দুরে কষ্টকর হয়ে গেল ।

কিন্তু কিছু করার নাই । আমাদের ধর্ম আলাদা ! আমাদের এক সাথে থাকাটা মানায় না । এই কথাটাই আজকে নন্দিনী কে বললাম । বললাম আমার কাছ থেকে দুরে থাকতে ! আমাদের এই রকম কাছে আসাটা ঠিক হচ্ছে না মোটেও !!
নন্দিনী কাঁদতে কাঁদতেই চলে গেল । বলা চলে আমি ওকে তাড়িয়েই দিলাম । এই মেয়ের কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে !

একমাস পরের কথা !

নন্দিনী আজ নীল রংয়ের একটা সেলোয়ার কামিজ পরেছে । ওকে দেখতে সত্যি একটা নীল পরীর মতই লাগছে । আমরা দুজনে বসে আছি ইষ্টান লেকের পাড়ে । নন্দিনী আমার কাধে মাথা রেখে আপন মনে কথা বলেই চলেছে । কত রকমের কথা । আমাদের কথা, আমাদের দুজনার কথা !

আমি হাজার চেষ্টা করেও নন্দিনীর কাছ থেকে দুরে থাকতে পারি নি । ওর কাছে আমাকে আমাকে আসতেই হয়েছে । কি অজানা বাধনে মেয়েটা আমাকে বেধেছে কে জানে !!
আমরা ভবিষ্যতের কথা ভাবা ছেড়ে দিয়েছি । সামনে কি হবে কে জানে ! আমরা কেবল আজকের কথা ভাববো বলে ঠিক করেছি । আজ যে আমরা দুজন একসাথে আছি এই কথা ভাববো !!


গল্পটা কোন এক নন্দিনী রায়ের জন্য । যে হয়তো আমাকে এভাবে ভালবাসে না কিন্তু আমার লেখা গল্প গুলো কে ভালবাসে ! এটা তার জন্য !!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১৭
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×