somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজিব দুনিয়া (রিমেক)

১০ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দরজাটা একটু খোলাই ছিল । ভেতরে উকি দিয়ে দেখি প্রিয় বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে ।
এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারা গেল না । বেড়াতে এসে এভাবে কেউ রুমের ভিতর শুয়ে থাকে । তাও আবার এই বিকেল বেলা । এই মেয়েটাকে একটা কঠিন ধমক দেওয়া গেলে ভাল লাগত ।
কিন্তু সেইটা এখন সম্ভব না ।
আমি দরজায় টোকা দিলাম । প্রিয়া কেমন একটু অপ্রস্তুত আমার দিকে ফিরে তাকাল ।
এই ফাজিল মেয়েটা আবার কাঁদছিল !
একে আসলেই একটা ধমক দেওয়া উচিত্‍। কিন্তু চাইলেই তো সব কিছু করা যায় না ।
আমি ওর পাশে বসলাম । প্রিয়া ওর ওড়না দিয়ে চোখ মুছতে ব্যস্ত । আমি ওর হাত ধরে বললাম
-এতো গুলো মানুষ আমরা তোমার জন্য আছি , তবুও তুমি ঐ মানুষটার কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছ । চোখের পানি ফেলছ ?
প্রিয়া চুপ করেই রইল । আমি বললাম
-এটা কি আমাদের ভালবাসাকে ইগনোর করা না ?
প্রিয়ার চোখ দিয়ে আবারও পানি গড়িয়ে পড়ল ।
-না, আরিফ বিশ্বাস কর আমি তোমাদের ভালবাসা ... তোমার ভালবাসাকে ইগনোর করছি না । ঐ মানুষটার কথাও আমি মনে করছি না । কিন্তু আমার ...
প্রিয়া হু হু করে কেঁদে উঠল ।
আমি জানি প্রিয়া কিসের কথা বলছে । যতবার আমি চাই এসব ব্যাপার থেকে দুরে রাখতে কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই একই কথা চলে আসে !
অবশ্য ওকে দোষ দিবো কিভাবে ? প্রিয়াকে বুকের ভিতর জড়িয়ে নিয়ে বললাম সব ঠিক হয়ে যাবে ।
আমি সব ঠিক করে দিবো ।
যদিও জানি প্রিয়া যা হারিয়েছে তা আমার পক্ষে ঠিক করা সম্ভব না । কারো পক্ষেই সম্ভব না ।

আমি যখন প্রথম প্রিয়ার গর্ভপাতের কথা শুনলাম খানিকটা অবাকই হয়েছিলাম । বাবুর সাথে ওর সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না জানতাম তাই বলে এতোটা খারাপ জানতাম না । বাবু নাকি ওকে মেরে এই অনস্থা করেছে ।
ওর উপর প্রচন্ড অভিমান থাকা সত্তেও প্রিয়ার এই অবস্থায় ওর উপর রাগ করে থাকতে পারি নি ।
সোজা ওর কাছে গিয়ে হাজির হয়েছে । প্রথমে তো প্রিয়া আমার সাথে দেখা করতেই চায় নি । হাসপাতালের বেডে মাথা ঘুরিয়ে শুয়ে ছিল । আমি পাশে গিয়ে বসতেই প্রিয়া বলল
-তুমি কেন এসেছ আরিফ ?
-এই কথা কেন আসছে ?
-আমার এই অবস্থা দেখে মজা নিতে আসছো ?
-তোমার তাই মনে হচ্ছে ?
-তাই তো উচিত্‍ । আমার অবস্থা দেখে তোমার তো খুশি হওয়া উচিত্‍ । কেন খুশি হচ্ছ না ?
আমি প্রিয়ার মুখটা ঘুরিয়ে আমার দিকে ফেরালাম । দেখি ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে । নিজ হাতে ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম
-তুমি আমার কাছে সব সময় একই আছে । তুমি যাই কর না কেন অথবা অথবা আমাদের মাঝে যাই হোক না তুমি আমার কাছে একই ।
-না তুমি চলে যাও ! তুমি চলে যাও ।
আমি প্রিয়ার পাশে বসেই রইলাম ।

নাস্তার টেবিলে প্রিয়ার মুখটা বিষন্নই দেখলাম । চুপচাপ পাউরুটিতে জেলি মাখাতে লাগল । আমি বললাম
-প্রিয়া তোমার একটা কথা মনে আছে ?
প্রিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-কোনটা !
-যখন আমরা ভার্সিটিতে পড়তাম , আমরা সিলেটে বেড়াতে এসেছিলাম পুরো ডিপার্টমেন্ট থেকে ।
-হ্যা মনে আছে ।
-তখন আমরা ছেলেরা কেবল পাহাড়ে উঠেছিলাম । মেয়েদের নেওয়া হয় নি । তুমি খুব করে যেতে চেয়েছিলে ।
-হ্যা । মনে আছে ।
-আজ আমরা পাহাড়ে উঠবো ।
-দেখো আরিফ আমার আসলে ...
-শোন বেশি কথা বলবা না । থাপ্পর খাবা । যা বলছি শোন ।
প্রিয়া একটু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল । আসলে আমি কখনই প্রিয়ার সাথে এমন করে কোন দিন কথা বলি নি ।
এমন কি যখন ওকে প্রথম বাবুর সাথে কেএফসিতে দেখেছিলাম তখনও না ।
আমি যখন বাবুর সাথে প্রিয়াকে দেখলাম আমার যেন ঠিক বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে ওটা প্রিয়াই ছিল কিনা । পরদিন যখন ওকে জিজ্ঞেস করলাম কেবল মনে মনে দোয়া করছিলাম যেন ব্যাপারটা মিথ্যা হয় । আমি যা দেখেছি হয়তো ভুল দেখেছি । আমি আশা করেছিলাম প্রিয়া হেসে উঠবে আর বলবে তুমি ভুল দেখেছ ।

কিন্তু এমন কিছুই হল না ! প্রিয়া খুব স্বাভাবিক ভাবেই সন স্বীকার করলো !
আমার দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বলল
-তুমি যা দেখেছ ঠিক দেখেছ !
-কে ছেলেটা ?
-ওর নাম বাবু !
আমি কিছু না বলে প্রিয়ার দিকে কেবল তাকিয়ে রইলাম অবাক হয়ে ! এইটাই সেই মেয়ে যাকে আমি একসময় ভালবাসতাম ! যে আমাকে ভালবাসতো !!
প্রিয়া বলল
-দেখো, আরিফ তুমি ভাল ছেলে কিন্তু আমাদের অনেক কিছু ভাবতে হয় । অনেক কিছু দেখে জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় !
আমি চুপ করেই রইলাম । কোন কথা আমার মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল না ! এই মেয়েটা কি বলছে ??
কি বলছে ?
ঐদিনও আমি প্রিয়াকে কিছু বলতে পারি নি । কিছু বলতে যাবো তখনই দেখলাম একটা লাল রংয়ের এলিয়েন এসে দাড়ালো ওদের পাশে । প্রিয়া এলিয়েনের দরজা খুলে উঠে পরলো ভিতরে ।
আমা রকেবল তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিল না ।

ভার্সিটির ছাড়ার পর জবে ঢুকে গেলাম । কিছুদিন পরই শুনলাম প্রিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে । আমি আর ঐদিকটাতে যাই নি । সত্যি বলতে কি যেতে পারি নি । নিজেকে কেন জানি খুব ক্ষুদ্র মনে হয়ে হত । আর প্রিয়ার উপর একটা চাপা অভিমান ছিল সব সময়ের জন্যই ।
দুরে থাকলেও ওদের খবর আমার কাছে চলে আসতোই । তেমনি করে একদিন খবর আসলো যে প্রিয়া ভাল নেই । বাবুর সাথে ওর সম্পর্ক নাকি ভাল যাচ্ছে না ।
তখন মাঝে, মাঝে ইচ্ছা করতো প্রিয়া কে গিয়ে বলি এই হল তোমার অনেক ভেবে চিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত !! কিন্তু বলা হয় নি !

প্রিয়ার অবস্থা দেখলাম বেশ খারাপ । দরদর করে ঘামছে । ছোট্ট খালটার উপর বাশের মাচার সাকো । প্রিয়া ঐ সাকোর উপর বসে পড়লো ।
বলল
-আমি আর যেতে পারবো না । কিছুতেই পারবো না ।
-আরে এই কথা বললে হবে নাকি ? মাত্র তো একটা পাহাড় পার হলাম । আরো তিনটা পার হতে হবে ।
-আমি পারবো না ।
সকাল বেলা প্রিয়া কে নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিয়েছিলাম । একটা পাহাড় কোন মতে পার হতেই প্রিয়ার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে ।
প্রিয়া সাকোর খুব ধরে বসলো । তারপর পা ঝুলিয়ে দিয়ে পানি স্পর্শ করতে লাগলো পা দিয়ে ।
আমি বললাম
-তুমি যে পা পানিতে ঝুলিয়েছো, ওখানে যে জোঁক আছে তা জানো তো ?
-কি?
প্রিয়া চমকে উঠল । তাড়াহুড়া করে পা তুলতে গিয়েই বাধলো বিপত্তি । হুড়মুড় করে খালের পানিতে পড়ে গেল ।
দেখছো কামডা !!
কি আর করা, আমাকেও নামতে হল ।
নেমে দেখি কোমড় পর্যন্ত পানি । কিন্তু প্রিয়া হুড়মুড় করছে পান থেকে ওঠার জন্য !!
-আরিফ জলদি ওঠ ! জলদি ।
আমি ওর হাত দুত চেপে ধরে বললাম
-কোন জোঁকা নাই !
প্রিয়া একটু শান্ত হল ।
-সত্যি বলছো ?
-হুম ! তবে সাপ আর কুমির আছে শুনেছি !
-আরিফ !!
আমি হেসে বললাম
-তোমার ভয় নাই । আমি আছি না ।
এই কোমর পানিতে দুজন একসাথে দাড়িয়ে । ওকে আর একটু কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলাম । বড় আফসোস হল কেউ নেই দেখে !
এই অবস্থার একটা ছবি যদি কেউ তুলে দিত !!



গল্পটা আরমানের জন্য । মূলত এটা ওরই গল্প । কদিন আগে ও গল্পটা লিখেছিল । আমাকে উৎসর্গ করে লেখা গল্প । আমি আবার রিমেক বানালাম, আমার মত করে ।
আরমান গল্পটা অন্য দিকে নিয়ে গিয়েছিল আর আমি নিয়ে আসালাম আর একদিকে । আসলে আমার মনে অবাস্তব চিন্তা বেশি খেলা করে তো তাই এমন টা করলাম ।
জানি না আরমানের কেমন লাগবে !
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম নিয়ে পোস্ট দিলে মানুষের সুদৃষ্টি বা কুদৃষ্টি দ্রুত পড়ে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৫৩

আমি এখন পর্যন্ত ৮৯ টা পোস্ট করেছি। আরও দুই-চারটা হয়তো করেছিলাম কিন্তু এখন সরিয়ে ফেলেছি। আমি নিজের পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে একটা হিসাব নিকাশ করে নীচের তথ্য পেলাম।

সাহিত্য, সঙ্গীত, কাব্য, সিনেমা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:২০



স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার সহ সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া প্রার্থনা।

সামহোয়্যারইন ব্লগ ও সকল ব্লগারবৃন্দের পক্ষে,



ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৫ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমিয় বাণী সমগ্র।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৪৪



পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের বাংলাদেশকে বেহেশতের সঙ্গে তুলনা, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির পরও ফসল উৎপাদনের ওপর প্রভাব না পড়ার দাবি, প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগেও একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অসন্মান করা হয়!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩২



প্রচন্ড ব্যস্ততা এবং আরো কিছু কারনে গত বেশ কয়েকদিন ব্লগে আসা হচ্ছে না। আরো বেশ কয়েকটা দিন আসার মতো অবস্থায়ও নাই আমি। তারপরেও একটা পোষ্ট আর তার কমেন্টগুলোতে চোখ আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভ, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:০২

লোভ, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকি.....

নবারুণ ভট্টাচার্যের একটা কবিতার কয়েকটি লাইনঃ-

“আজ্ঞাবহ দাস, ওরে আজ্ঞাবহ দাস
সারা জীবন বাঁধলি আঁটি,
ছিঁড়লি বালের ঘাস,
আজ্ঞাবহ দাসমহাশয়, আজ্ঞাবহ দাস!
যতই তাকাস আড়ে আড়ে,
হঠাৎ এসে ঢুকবে গাঁড়ে,
বাম্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×