somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মীরার প্রেমে পড়ার গল্প !!

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিপটা কপালের মাঝখানে হল কিনা কে জানে ! মীরা আয়নার আর একটু কাছে ঝুকে গেল । একবার মনে হচ্ছে টিপটা ডান দিকে বেশি সরে আছে আর একবার মনে হল যে না ঠিক আছে ।
-কি করছিস মা ?
মীরা একটু চমকে উঠল । একটু অপ্রস্তুতও হল ওর মাকে আসতে দেখে । মীরার মা একটু যেন অবাক হয়েছে এই সাত সকালে মীরাকে সাজতে দেখে । অবশ্য সময়টা ব্যাপার না মীরা যে আয়নার সামনে সময় কাটাচ্ছে এটা মীরার মায়ের কাছে একটু নতুন লাগল ।
মীরার পরনের শাড়ির দিকে তাকিয়েও তিনি খানিকটা অবাক হলেন । মীরা অফিস যাওয়ার সময় কখনও শাড়ি পরে না । তাহলে আজকে ? মীরার মা বলল
-তোকে সুন্দর লাগছে রে । অফিস যাবি ?
মীরা বলল
-না মা । একজনের বাড়ি যাবো আগে ।
মীরার মার খুব ইচ্ছা হল জানতে কার বাড়ি যাবে কিন্তু জিজ্ঞাস করলেন না । মেয়েকে তিনি যথেষ্ঠ ভয় পান । মীরা বলল
-মা দেখতো টিপটা মাঝ খানে হয়েছে কি না ?
-হয়েছে ।
মীরা আরও কিছুক্ষন আয়নায় তাকিয়ে রইল নিজের দিকে ।
অপু যদি তাকে এই অবস্থায় দেখে নিশ্চই মন খারাপ করে থাকতে পারবে না । অপুর নামটা মনে হতেই মীরার নিজের কাছেই খারাপ লাগল । বেচারার সাথে ঐ দিন একটু বেশি খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছিল । আসলে মীরার যখন মাথা গরম হয়ে যায় তখন আশে পাশের কিছুই ওর চোখে পরে না । এই জন্য অফিসের প্রত্যেকটা এমপ্লোয়ীই মীরাকে খুব ভয় করে চলে । একে তো মীরা বসের মেয়ে তার উপর এমডি পদে আছে । সমীহ করে চলাটাই স্বাভাবিক ।
কিন্তু অপু ছিল একদম ব্যতীক্রম । অপুকে যে দিন মীরা প্রথম নোটিস করে তখন সবে মাত্র অপু মীরাদের কোম্পানীতে জয়েন করেছে । ঐ মীরা ওর দুজন এম্প্লয়ীকে বকাবকি করছিল ওর কেবিনে । এমন সময় অপু কেবিনে এসে হাজির ।
অপুকে দেখে একটু যেন বিরক্ত হল মীরা । ছেলেটা এর আগেও বেশ কয়েকবার ওর কেবিনে এসেছে । কোন বারই ঠিক অনুমুতি নিয়ে ঢোকে না । আজও ঢোকে নি । কেবিনের ভিতর ঢুকেই অপু মীরার দিকে তাকিয়ে বলল
-এসির রিমোর্টটা একটু দেখি !
মীরা বলল
-মানে ?
ছোট ছেলেমেয়েদের বোঝানোর জন্য মানুষ যেমন মুখ করে অপু তেমন মুখ করে বলল
-আরে বাবা এসির রিমোর্ট ।
তারপর ডেস্কটার এক কোনে পরে থাকা রিমোর্ট দেখে বলল
-আরে এই তো ।
বলতে বলতেই রিমোর্টটা তুলে নিয়ে এসির জোর বাড়াতে লাগল । মীরা কঠিন গলায় বলল
-আপনি কি করছেন ?
অপু কঠিন মুখকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না নিয়ে বলল
-দেখছেন না এসির জোর বাড়াচ্ছি । ঘরের তাপমাত্রা কমাচ্ছি ।
-কেন করছেন জানতে পারি ?
অপু একটু হেসে বলল
-অবশ্যই জানতে পারেন । আসলে আপনি যখন রেগে যান না মনে হয় যেন আগ্নেগিরির অগ্নিত্‍পাত হচ্ছে । চারিদিককার তাপমাত্রা বেড়ে যায় । তাই দ্রুত ঠান্ডা করার ব্যবস্থা । আমার কি মনে হয় জানেন গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য আপনার রাগ কিন্তু অনেকাংশে দায়ী !
মীরা প্রথমে কিছুক্ষন অপুর দিকে অবাক তাকিয়ে রইল । কেউ যে ওর সাথে এমন কথা বলতে পারে এটা ওর ধারনার ভিতরেই ছিল না । মীরা যে দুজনকে বকছিল তাদের অপু চলে যেতে বলল । প্রথমে একটু দ্বিধা করলেও দুজন কেবিন থেকে বের হয়ে গেল । দুজন বের হতেই অপু বলল
-মিস মীরা এতো রাগারাগির কি আছেন বলুন ? ওরা তো আর রোবট না ! মানুষ ! মানুষ তো ভুল করবেই । তাই না ?
তারপর এসির রিমোর্টটা মীরার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
-ঘর খুব ঠান্ডা হয়ে গেছে । আমার রীতি মত শীত করছে । আপনার মাথা যদি ঠান্ডা হয় তাহলে এসিটা একটু কমিয়ে দিয়েন ।
মীরা কেবল হাত বাড়িয়ে এসির রিমোর্ট টা নিল । একটা কথা বলল না ।

মীরার সাজগোজ শেষ হয়েছে । এখন ওকে বাইরে যেতে হবে । নাস্তার টেবিলে মীরার বাবার সাথে দেখা হয়ে গেল । মীরার বাবাও মেয়ে কে দেখে একটু যেন অবাক হলেন । বললেন
-তোকে আজ অন্য রকম লাগছে ।
মীরা কেবল একটু হাসলো ।
-আয় নাস্তা কর ।
-না বাবা আজ নাস্তা করবো না ।
পেছন থেকে মীরার মা বলে উঠলেন
-সে কি নাস্তা করবি না কেন ?
মীরা মা কে বলল
-মা তোমাকে বললাম না একজনের বাসায় যাবো । নাস্তা ওখানে করবো !
মীরার মা আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না । মীরা যাবার সময় ওর বাবার দিকে তাকিয়ে বলল
-বাবা আজকে অফিসে আসতে একটু দেরি হবে ।
-আচ্ছা মা ! সমস্যা নাই ।
মীরার একটু লজ্জা লজ্জা বাবার সামনে দাড়িয়ে থাকতে । অপুর রিজাইনের বিষয়টা মীরার বাবা খুব ভাল করেই জানেন । উনি নিশ্চই আঁচ করতে পারছেন যে মীরা এই সকাল বেলা কার বাড়ি যাচ্ছে ।
মীরা নিচে নেমে এল । মীরাকে নামতে দেখে ওদের ড্রাইভার দৌড়ে এল । মীরা ড্রাইভারকে দেখে বলল
-আজ গাড়ী লাগবে না । আমাকে একটা রিক্সা ডেকে দাও ।
ড্রাভারও খানিকটা অবাক হল । তারপর ছুটে বাইরে চলে গেল ।

দুদিন পরই অপু আবারও এসে হাজির ওর সামনে । ঐ দিন মিরা ওদের একাউন্টেন্ট কে বকছিল । হঠাত্‍ লক্ষ্য করছে কোথা থেকে যেন বাতাস আসছে । ঠিক মাথায় লাগছে । মীরার প্রথমে মনে হল এসির নিচে দাড়িয়ে আছে এই জন্য হয়তো বাতাস লাগছে ।
কিন্তু পরক্ষনেই মনে হল একটু আগে বিদুত্‍ চলে গেছে । আই পি এসে কেবল লাইট গুলো জ্বলছে এসি গুলো বন্ধ । তাহলে বাতাস আসছে কোথা থেকে ?
মীরা বাম দিকে তাকিয়ে দেখে অপু দাড়িয়ে আছে । হাতে ছোট্ট একটা টেবিল ফ্যান । বাতাস ওখান থেকেই আসছে । মীরা কিছুক্ষন কঠিন চোখে তাকিয়ে রইল । কিছু বলতে গিয়েও বলল না । ছেলেটার সাহস দেখে অবাক হচ্ছে । একাউন্টেন্ট কে আর বকা হল না ।
মীরা সোজা কেবিনে ফিরে এল । কেবিনে এসে রাগে ফুসতে লাগল । গত দিনের পরই মীরা ঠিক করে রেখেছিল অপু খুব বড়সড় আকারে একটা ঝাড়ি মারবে কিন্তু কি এক অদ্ভুদ কারনে অপু সামনে আসলে মীরা কিছু বলতে পারে না । তখন কারনটা না জানলেও এখন মীরা কারনটা খুব ভাল করে জানে ।

-আপা কই যাইবেন ?
রিক্সায়ালার কথা শুনে মীরা যেন বাস্তবে ফিয়ে এল ।
-এইতো সামনে ব্লক সি এর মাথায় যান ।
অপুর বাসাটা ব্লক সি এর মাথায় । মীরাদের বাড়ির ঠিক চার ব্লক আগে । এই বাড়ি চেনা নিয়েও একটা কাহিনী রয়েছে । এক দিন অফিস থেকে বের হতেই অপু ওর সামনে এসে দাড়াল ।
-বাসায় যাবেন না এখন ?
মীরা মুখ শুকনো করে বলল
-জি ।
-কিভাবে যাবেন ?
মীরা খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলল
-সাথে গাড়ী আছে । গাড়ীতে করে যাবো ।
-একটা সমস্যা হয়ে গেল যে । আপনার ড্রাইভার কে দেখলাম গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেল ।
-মানে ?
-মানে জানি না । ফোন দিয়ে দেখেন !
মীরা ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে দেখল গাড়ি সত্যি সত্যি ঘন্টা খানেক আগে বেরিয়ে গেছে । ড্রাইভাই বলল যে অপুই নাকি ড্রাইভার কে চলে যেতে বলেছে ।
মীরার খুব মেজাজ খারাপ হল ড্রাইভারের উপর । খুব জোরে একটা ধমক দিয়ে বলল গাড়ি নিয়ে আসতে ।
মীরা আরো কিছু বলতে যাবে এই সময়ে অপু প্রায় জোর করেই ওর হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে নিল । ড্রাইভার এখনও লাইনেই আছে । ড্রাইভার কে বলল আসার দরকার নাই । আমি দেখছি ।
মোবাইলটা মীরাকে ফেরত্‍ দিতে দিতে অপু বলল
-আচ্ছা আপনার এতো মিষ্টি একটা চেহারা আপনি মানুষকে এভাবে ধমক দেন কিভাবে বলুন । আমার তো বিশ্বাসই হয় না । আর আপনি ঐ বেচারাকে ধমক কেন দিলেন ? ওর কি কোন দোষ আছে ?
-আমার কাছে না ও চলে যাবে কেন ?
-আরে আমি বলেছি না ? বকলে আমাকে বকা দেন ।
মীরা চুপ করে রইল । অপু আবার বলল
-আর এখন রাস্তায় যা জ্যাম । ওর আসতে আসতে রাত আটটা বেজে যাবে । তার চেয়ে চলুন রিক্সায় করে যাই । সর্টকার্ট রাস্তা আছে তাড়াতাড়ি পৌছানো যাবে ।
-আপনি চলে যান । আমার যাওয়া নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ।
অপু এবার একটু হাসলো ! অপুর হাসির ভিতর কি ছিল মীরা বলতে পারবে না কিন্তু মীরার লক্ষ্য করলো যে ওর রাগ কমতে শুরু করেছে । অপু বলল
-তা বললে তো হবে না । আমার জন্য যেহেতু আপনার গাড়ি চলে গেছে এটা আমার দায়িত্বের ভিতরে পরে আপনাকে বাসায় পৌছে দেওয়া !
মীরা অপু সাথে রিক্সায় উঠল । সত্যি বলতে কি মীরার খুব একটা খারাপ কিন্তু লাগে নি !
অপু কথা বলেই যাচ্ছিল । ছেলেটা এতো কথা বলতে পারে ।
ঠিক অপু ওদের বাসার সামনে এসে নেমে পড়ল । নামার পর রিক্সায়ালা কে বলল
-মামা ! রিক্সা ভাড়া এই ম্যাডাম দিবে ! ইনি হল আমার বস ! ঠিক মত নিয়ে যাবেন । আর চার ব্লক পিছনে ইনার বাসা !
রিক্সা চলতে শুরু করলো। মীরা অনেক বার ভাবলো যে পিছন ফিরে তাকাবে না । কিন্তু নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না কিছুতেই । রিক্সা পিছন দিয়ে তাকিয়েই ফেলল ।
তকিয়ে দেখে অপু ওর দিকেই তাকিয়ে আছে । হাসি মুখে । তারপর ওর দিকে হাত নাড়লো !
মীরা সঙ্গে সঙেই মুখ ঘুরিয়ে ফেলল । নিজের মনে নিজেই কেই খানকক্ষন বকাবকী করল ।
বার বার মন কে শাসন করে বলল কেন তাকালে তুমি ছেলেটার দিকে ?
কোন দরকার ছিল না !!
মীরা তখন না জানলেও এখ জানে যে কিছুটা তো দরকার ছিলই !

রিক্সা থেমে গেছে ! অপুদের বাড়ির সামনে চলে এসেছে । এই পর্যন্তই মীরা চেনে । ঠিক মত জানেও না অপু কোন তলায় থাকে ! দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে হয়তো ।
দারয়ান কে বলতে জানা গেল । অপুদের বাসা তিন তলার ! দরোয়ান বলল থ্রী এ তে অপুরা থাকে !
মীরা লিফটে উঠে ৩ নাম্বর বোটামটা টিপ দিল । এতো ক্ষন ঠিক ই ছিল কিন্তু এখন মনে র ভিতর কেমন জানি লাগছে !
আচ্ছা অপু কি ওর উপর এখনও রাগ করে থাকবে ?
থাকতে পারে ?
ঐদিন মীরা অপুর সাথে যেমন আচরন করেছে বেচারার মুখটা এটুকুটু হয়ে গেছি । সব সময় হাসি খুশি থাকা ছেলেটা এমন মন খারাপ করে ওর কেবিন থেকে বের হল !

অপুর সাথে রিক্সায় চড়ার পর থেকেই মীরার মনের ভিতর কেমন একটা অনুভুতি হচ্ছিল ! বিশেষ করে ছেলেটার গায়ের গন্ধটা ও খুব ভাল করে অনুভব করতে পারছিল । তারপর ওর ফিরে তাকানোটা !!
এক প্রকার মন ভাল নিয়েই অফিসে হাজির হয় । কিন্তু অফিসে ঢুকে মীরার কানে বেশ কিছু কথা আসে । সব গুলোই অপু আর মীরাকে কেন্দ্র করে । অফিসের অনেকেই নাকি অপর সাথে মীরাকে রিক্সায় চড়তে দেখেছে । মীরা গম্ভীর হয়ে বসে রইলো কিছুক্ষন !
মীরা অনুভব করলো ওর রাগ বাড়তেছে । ঠিক সেই সময় অপু এসে হাজির । আজ আবার খালি হাতে আসে নাই । এক ডালি চকলেট নিয়ে এসেছে !
অপুর হাতের চকলেটের ডালিটা দেখে মীরার কেন জানি রাগটা আরো একটি বেড়ে গেল ! অপু অবশ্য এসবের কিছুই জানে না । হাসি মুখে এসে মীরার টেবিলের উপরে চকলেটের ডালিটা রাখলো ! বলল
-মিস মীরা ! আপনার জন্য !
ঠিক এটাই যেন বাকি ছিল । মীরার ভিতরে যেন বোমা ফাটলো !
-আপনি অফিসটা কে কি পেয়েছেন ! ফ্লাটিং করার জায়গা ! আপনাকে এতোদিন কিছু বলি নি বলে মাথায় উঠেছেন ! এই সব মেয়ে পটানো কাজ আপনি ফারদার আমার সামনে করবেন না । এরপর যদি দেখি সোজা ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব ! আর এই চকলেট কেন এনেছেন ?
এই কথা বলতে বলতে মীরা চলেটের ডালিটা ছুড়ে ফেলে দিল !
ফেলে দিয়েই মীরার মনে হল যেন একটু বেশিই হয়ে গেল । মীরা বাইরে তাকিয়ে দেখে সবাই খানিকটা অবাক হয়েই মীরার কান্ড দেখছে । মীরা এবার অপুর দিকে তাকিয়ে দেখলো অপুর মুখটা কেমন মলিন হয়ে গেছে । যেখানে সব !
অপু আসতে আসতে পড়ে থাকা চকলেট গুলো কুড়ালো ! তারপর কেবিন ছেড়ে চলে গেল ।
ঐদিন বিকেল বেলাই অপু রিজাইন করে চলে যায় !!

পরদিন মীরা যখন অফিসে আসলো সবার মুখই কেমন থম থমে ছিল । সত্যি কথা বলতে কি মীরার নিজেই কি যেন মিস করছিল । কোন কাজেই যেন মন বসছিল না । তারপর মীরার পিএ যখন ওকে বলল
-ম্যাম একটা কথা বলবো আপনকে ?
-বল !
পিএ কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
-অপু স্যার আপনাকে আসলেই অনেক পছন্দ করে ! আপনার কালকের ও আচরনে তিনি ......
মীরা কিছু বলতে গিয়েও যেন বলল না । মীরার নিজেও কাল থেকে কেবল ঐ একই কথা মনে হচ্ছে !! অপু কে ছাড়া কেমন সব কিছু ফাকা ফাকা লাগছে !!

মীরা দুবার কলিংবেল বাজিয়েছে । তিন বার বাজাতে যাবে ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল । মাঝ বয়সী এক মহিলা । মীরাকে দেখে বলল
-কাকে চাই ?
মীরা একটু ইতস্তত করে বলল
-এটা অপু দের বাসা না ?
-হ্যা ! তুমি কে ?
মীরা এখন কি বলবে ?
আসলেই তো ও কে ? ও অপুর কি হয় ?
মীরা বলল
-আমি মীরা ! অপু কি আছে ? ওর সাথে একটু দেখা করা যাবে ?
-এসো ভিতরে ! কি নাম বললে মীরা ?
মীরা ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল
-জি মীরা !
-অপু বস ?
মীরা একটু মাথা নিচ করে বলল
-ছিলাম । ও গত পরশুদিন আমাদের অফিস থেকে রিজাইন করেছে !
মাঝবয়সী মহিলা বলল
-আমি জানি ! এসো আমার সাথে !
মহিলা ওকে রান্না ঘরের দিকে নিয়ে গেল । তারপর বলল
-আমি অপুর মা হই ! অপু এখনও ঘুমাচ্ছে ! আসলে কাজ কর্ম নি তো তাই বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে ! আসো তোমার কিছুক্ষন গল্প করি ! ও উঠলে তারপর না হয় একসাথে নাস্তা করা যাবে !

দুদিন ধরে অপু ঘুম খুব ভাল হচ্ছে । চাকরি নেই তাড়াতাড়ি ওঠার কোন ঝামেলা নাই ! ঘুম ভাঙ্গার পরেও কিছুক্ষন চুপ করে শুয়েই রইলো !
সকাল বেলা এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস ! একবার একটু ডাক দিলেই অপু মা চা নিয়ে আসবে । অপু মনে মনে ভাবলো যে এখনই চা খাবে নাকি আরো একটু ঘুমাবে !
নাহ !
এখনই চা খাওয়া যাক !!
-মা !! চা দাও তো !!
জোরে একবার চিৎকার দিয়ে বলল !
তারপর আবার খানিকটা শুয়ে পড়লো !!
-এই নিন চা !
অপুর মনে হল মনে হয় স্বপ্ন দেখছে ! মীরা ওর সামনে দাড়ানো চা নিয়ে !!
মীরার দিকে কিছুক্ষন চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো ! মীরা আজ শাড়ি পরেছে । আগে কোন দিনই মীরাকে ও শাড়ি পরা অবস্থায় দেখেনি !!
অপু মোটামুটি সিওর হয়ে গেল যে ও স্বপ্নই দেখছে ! এটা তো হতেই পারে না ! আসলে মীরাকে নিয়ে ইদানিং এতো ভাবছে যে সব খানে কেবল এই, এই মেয়েটাকেই দেখছে !
-কি হল চা নিন !
এই মেয়ে দেখি স্বপ্নের ভিতর এসেও ঝাড়ি মাড়ে !!
অপু আস্তে করে চায়ের কাপটা নিল । চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দেখল চিনি কম হয়েছে !
মীরা বলল
-কি এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন ? চায়ে চিনি কম হয়েছে ?
-হুম !
-অভ্যাস করেন ! আমার হাতের চা খেতে হলে চিনি কমই খেতে হবে !
অপু আরো খানিকটা কনফিউজড হয়ে গেল । সত্যি মীরা নাকি ?
কিন্তু তা কি করে হয় ?
কেমন করে হয় ?
অপু মীরাকে ডাক দিল !
-মীরা !
-হুম !!
-সত্যিই তুমি ? নাকি স্বপ্ন দেখছি !!
মীরা কি যেন ভাবলো ! তারপর অপু আর একটু কাছে এসে ওর হাত ধরলো !! অপুর চোখে সাথে চোখে মিলিয়ে বলল
-তোমার কি মনে হয় ?
অপু বলল
-যদি স্বপ্ন দেখি তাহলে এই স্বপন যেন কখনই না ভাঙ্গে !
-আর যদি বাস্তব হয় ?
অপু কোন কথা না বলে কেবল তাকিয়েই রইলো !
মীরা বলল
-জলদি রেডি হও ! নাস্তা কর ! তারপর অফিস চল ! ঠিক ! আজ তোমার অফিসে খবর নেব !
অপু আসেলই কিছু বুঝতে পারছে না ! অবশ্য অপু আর কিছু বুঝতে চায়ও না ! মীরা ওর সামনে রয়েছে ! ওর আর কিছু বিঝার দরকারও নাই !!
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×