somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তানজিনার স্বপ্ন পূরণের গল্প !

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ তানজিনার মন খারাপ । খুব খারাপ !
মানুষ এমন করে কেন?
এমন কেউ করে ?
বছরে একটা মাত্র দিন আসে ? সেই দিনও কি কাজ করতে হয় ? একটু ছুটি নেওয়া যায় না ?
তানজিনা ঠিক করে রেখেছে ও এবার অপুর সাথে কোন কথা বলবে না ! ঐ ফাজিল ছোকরার সাথে কোন কথা নাই !
বলতে বলতে তানজিনার মোবাইলে মেসেস এসে হাজির !
-হেই পাখি ! কি খবর !
তানজিনা লিখলো
-পাখি মরে গেছে !
-ছিঃ এমন কথা কেন বল ?
-তাহলে তুমি আমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছ ? আজকে কেন দেখা করছো না ? সবাই তার মনের মানুষদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমি ঘরের ভিতর শুয়ে আছি !
-কি করবো পাখি ? কাজ করতে হয় তো ! বস তো ছুটি দিল না !
-যাও তুমি তোমার বসের কোলের ভিতর গিয়ে বসে থাক ! আমার সাথে আর কথা বলবা না ! তোমার সাথে আড়ি ! আড়ি ! আড়ি !

তানজিনা জানে অপু ওকে ভালবাসে ! কিন্তু ওর মত করে ভালবাসে না ! এইটা নিয়েই তানজিনার যত অভিযোগ ! কেন বাসে ওর নিজের মত করে !!
তানজিনা একটা ট্রিহাউজের খুব শখ ! ও সারা জীবন এই স্বপ্ন দেখেছে যে ওদের একটা ট্রিহাউজ থাকবে ! সেখানে বিয়ে পর ওরা হানিমুনে যাবে ! একসাথে সময় কাটাবে !


কিন্তু হায় ! অপু সেই সময় কোথায় ?
তানজিনা ওকে বলেছিল একটা ট্রিহাউজের কথা !
শুনে অপু এমন হাসি দিয়ে ছিল যেন তানজিনা খুব ভাল একটা জোকস বলেছে !
তারপর আর কিছু বলেনি কিন্তু মনের ভিতরে সেই ইচ্ছাটা রয়েই গেছে ! কিন্তু কিছু করার নাই মন খারাপ করা ছাড়া !
এমন কেন হয় ? ওকে কেউ বুঝতে চায় না কেন ?
খুব বেশি তো কখনই চাওয়ার নেই ! অবশ্য অপুও ওর কাছে থেকে খুব বেশি কিছু চায় নি কখনও ! ও যা বলেছে সব সময় তাই মেনে নিয়েছে ! কিন্তু চাকরী হওয়ার পর ওকে একদম দিতে পারছে না । তানজিনার মন খারাপ হয় কিন্তু এটা ও মেনে নিয়েছে ! অবশ্য ছুটির দিন গুলোতে অপু ওর সাথেই থাকে !
অপুর সব থেকে পছন্দ রিক্সায় কে করে ঘুর বেড়ানো ! শুক্রবার সকাল বেলায় ও হাজির হয়ে যায় !
সেই দিন তানজিনাকে ওর পছন্দ মত সব কিছু করতে হয় ! আগের দিন বেশ কয়েকবার ফোন করে বলে দেয় হাতে মেহেদি দিতে ! অপু মেহেদি রাঙা হাত খুব পছন্দ ! এই কাজটা তানজিনা খুব মন দিয়েই করে ! আজকেও ও হাতে মেহেদি দিয়েছে খুব যত্ন করে !


কিন্তু গতকাল অপু ফোন করে বলল যে ওর ছুটি নাই ! বস ছুটি দেয় নাই ! তানজিনার এতো কান্না আসছিল ! সব অভিমান গিয়ে পড়লো অপু উপর !
বাচ্চা মেয়ের মত করে বলল
-তুমি আমাকে আর ভালবাসো না !
-এসব কি বল ? বস ছুটি না দিলে আমি কি করবো ?
-যাও ! আমার চেয়ে তোমার কাছে তোমার বসই বড় হল ! বিয়ের আগেই এই ! বিয়ে হলে তো আমাকে আর চিনবাই না ! তোমরা সব ছেলেরা এক রকম !
এই কথা বলেই তানজিনার মনে হল ইস কি বলে ফেললাম !
অপু এখন নিশ্চই মন খারাপ করবে ! তানজিনার সব কথাই ও মেনে নেয় কিন্তু এই কথাটা ওকে কষ্ট দেয় এটা তানজিনা জানে ! এমটু নরম হয়ে বলল
-একটুও আসতে পারবা না ?
-চেষ্টা করবো !
ওর মনটা খারাপ হয়ে যায় অপুর কন্ঠস্বর শুনে ! বোঝাই যাচ্ছে অপুর মন খারাপ হয়েছে ! এমনিতে তো মন খারাপ ছিল আরো বেশি মন খারাপ হয়ে যায় !



-এই কোথায় তুমি ?
-এই তো বাসায় ! শুয়ে আছি !
-শুয়ে আছি ! নিজের বিয়ের দিন কেউ এভাবে শুয়ে থাকে ?
তানজিনা ঠিক বুঝতে পারলো না অপু কি বলতে চাইছে । সকাল থেকে ও শুয়েই ছিল ! কিছু ভাল লাগছিল না ! এখন এই দুপুর বেলা অপু ফোন দিয়ে বলছে এই কথা ?
ওর তো আজকে আসারই কথা ছিল না !
তানজিনা বলল
-কি বলছো তুমি ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না !
-কোন কিছু বুঝতে হবে না ! এখনই নিচে নামো ! আর শুনো হাতে মেয়েদি দিয়েছো তো ?
-হুম !
-গুড ! এখন চট করে নিচে নামো ! আর ঐ লাল রংয়ের চুড়িদার সেলোয়ার কামিজটা পরবা কেমন ! আমি আমার লাল টুকটুকে বউ দেখতে চাই !

তারপরের সব ঘটনা যেন একটা স্বপ্নের মত হয়ে গেল ! তানজিনা যেন একটা ঘোরের ভিতর ছিল । কাজি অফিসে যখন ও খাতার সই করছিল তখনও ওর বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আসলেই আজকে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে !


কাজী অফিস থেকে যখন ওরা বের হল তানজিনা বলল
-এখন ?
অপু একটু রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল
-আছে সুন্দরী !! আরো অনেক কিছু কিছু বাকি আছে !
অপু আগে থেকেই গাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছিল ! ওরা দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো !
গাড়ি ছুটে চলল শহর থেকে দুরে !


-আমরা কোথায় যাচ্ছি ?
-যাচ্ছি ! স্বপ্নের দেশে !
আসলেই তানজিনার কাছে এই সব কিছুই যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে ! আসলেই কি একটা সম্ভব ? সকাল বেলাতেও ওর ধারনাও ছিল না যে এমন কিছু হবে ? কিন্তু এখন ?
অপু ওর সাথেই বসে আছে ?

তানজিনা লক্ষ্য করলো ওদের গাড়িটা গাজিপুরের শালবন ছাড়িয়েও বেশ ভিতরে ঢুকে পরেছে । দিনের আলো তখন প্রায় নিভু নিভু করছে ! তানজিনার চারিদিককার পরিবেশ দেখে একটু গা ছমছম করতে লাগলো ! আসেপাশে কোন মানুষ আছে বলে মনে হয় না !
-অপু কোথায় আসলাম আমরা ?
-কেন ভায় করছে ?
-না ! ভয় করছে না ! কিন্তু এই বনের ভিতরে ....
-সমস্যা কি ? আমরা দুজন আছি ! আর কারো দরকার কাই !
অপু গাড়ি থামালো ! নিজে নেমে চট জলদি ঘুরে এসে তানজিনার জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিল ! বলল
-মাই প্রিন্সেস !
তানজিনার হাতট ধরে নামালো গাড়ি থেকে !
বলল
-কোলে নিবো ? নাকি হেটে যাবা ?
-কোলে নাও !!
অপু যেন এইটার জন্য অপেক্ষা করছিল ! তানজিনা কে কোলে নিয়ে হাটা দিল সামনে দিকে !


-আমরা কোথায় যাচ্ছি বল তো ?
অপু বলল
-আর একটু ! তারপর নিজে দেখতে পাবে !
অবশ্য তানজিনার ভালই লাগছিল অপু কোলে চড়তে ! অপু একজায়গা এসে থামলো ! বলল
-এবার নামো !
-না নামবো না !
অপু কেবল হাসলো ! বলল
-আচ্ছা নেমো না ! এবার সামনের দিকে তাকাও !
তানজিনা সামনের দিকে তাকালো কিন্তু সেখানে কেবল অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না !
-কই ? কিছুই তো নেই !
-এই তো ! এক দুই তিন...।
পুরো বনের ভিতরেই আলো জ্বলে উঠল ! তানজিনা কেবল অবাক হয়ে দেখল সামনে দৃশ্য টা ! কিছু বলতে পারলো না ! কেবল কয়েক ফোটা পানি বের হয়ে এল ওর চোখ দিয়ে !
এই পাগল ছেলেটা ওকে খুশি করার জন্য কি না করেছে !



ও ঠিক যেমন একটা স্বপ্ন দেখেছিল সেই স্বপ্নটা বাস্তবে রূপদান করেছে !
তানজিনা কেবল অপুকে আরো একটু জোরে জড়িয়ে ধরলো ! পৃথিবীর কোন কিছুতেই আর সে অপুকে ছাড়বে না !
কখনও ছেড়ে যাবে !!
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×