somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভ জন্মদিন জলপরী সুমি !! :):)

১৩ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-হ্যালো !
-ফোন দিয়েছো কেন ? তোমাকে না ফোন করতে মানা করেছি !
-আরে এগারো দিন পরে ফোন দিয়েছি !
-এগারো দিন পরে !
সুমি যেন আকাশ থেকে পড়লো ! গলার স্বর আর একটু বাড়িয়ে বলল
-এগারো দিন আগে তোমাকে ফোন করতে মানা করেছি তুমি ঠিক সেই দিন বিকেলেই আমাকে ফোন দিয়েছ !
-আরে বাবা ! তুমি কি বলেছিলে ? তুমি বলেছিলে কাল থেকে আর যেন আমি ফোন না দেই ! আমি তো তাই বিকেল বেলা ফোন দিয়েছি !
-তাই না ? তার একদিন পর কে ফোন দিয়েছিল !!
সুমি অপেক্ষা করে সুমন কি বলে শোনার জন্য ! সুমন কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
-আরে আমি তো তার পর দিন তোমাকে ফোন দিয়েছিলাম তোমার ক্লাস মেইট হিসাবে ! মনে নেই ! আমি কিন্তু একবারও তোমাকে আই লাভ ইউ বলি নি ! বল বলেছি আই লাভ ইউ ?
সুমি চুপ করে থাকে !
সুমন আবার বলল
-দেখো যদি আমি তোমাকে প্রোপোজ না করতাম তাহলে কি তোমাকে ফোন করতাম না ? তাই না ? মনে কর আমি আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিলাম না কোন কালে ! সেই হিসাবে আমাদের ভিতর কোন ঝগরাও হয় নি ! ফোন না দেওয়ার কোন কথা হয় নি ! ঠিক কি না বল ?
সুমি মেজাজ টা একটু গরম হল ! এর সাথে তর্ক করে লাভ নাই ! সুমি বলল
-আচ্ছা ঠিক আছে ! আজকে কেন ফোন দিয়েছো ?
-আসলে ...
সুমন একটু ইস্ততঃ করে !
-দেখ আমার কথা বলতে ভাল লাগছে না ! কি জন্য ফোন দিয়েছো বল ! তা না হলে ফোন রেখে দিবো !
-আচ্ছা ! আচ্ছা ! ফোন রেখো না ! আমি বলতে চাই যে আমটা কি আজকের মত যুদ্ধ বিরতি দিতে পারি ? মনে কর শান্তু চুক্তি করলাম !
সুমি সুমনের কথা ঠিক বুঝতে পারলো না !
-মানে কি ?
-মানে হল এখন তো আমাদের প্রেম যুদ্ধ চলছে ! কেউ কারো মুখ দেখছে না ! তো আমি বলছিলাম যদি এই আজকের দিনের জন্য এই যুদ্ধ বিরতি দিতে ! আমরা কয়েক ঘন্টার জন্য কি শান্তি চুক্তি করতে পারি না ?
-কেন ?
-নাম মানে বিশেষ বিশেষ কারনে যুদ্ধ বিরতি হতে পারে না ? শুনো আজ সন্ধ্যার সময়, বড় পুকুরটার পাড়ে আসবা কেমন ? আমি অপেক্ষা করবো !
-জি না ! আমার কোন ইচ্ছাই নাই আসার !
-না না ! আমি জানি তুমি আসবা ! টাটা !!
সুমিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সুমন ফোনটা রেখে দিল !

সুমির মেজাজা টা আবার খারাপ হল ! এই ফাজিল ছেলেটা সব সময় এমন টা করে ! নিজের কিছু একটা হলেই সেটা ওকে বলেই ফোন রেখে দিবে ! সুমির কোন মতামত নিবে না ! সব সময় একটা ডোমেনিটিং ভাব ! সুমির সাথে এই জন্য সুমনের সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছিল না কয়েকদিন ! সুমি তাই সুমন কে পরিস্কার করেই বলেছিল কয়েকদিনের জন্য ওদের একটু আলাদা থাকা দরকার । কোন ফোন কল না আবার কোন যোগাযোগ না ! তাহলে নিজের আমরা এক অপরের গুরুত্ব বুঝতে পারবো ! তাই এই কদিন সুমি চেষ্টা করেছে সুমনের সাথে যোগাযোগ না করতে ! কিন্তু ঠিকই ফোন করছে ! সুমি তাই ঝাড়ি দিয়েছে বেশ কয়েকবার ! কিন্তু সুমনকে থামানো যায় নি !
তবে দুজনের এই এগারো দিনে একটা বারও দেখা হয় নি !
কিন্তু আজকে হতে চলেছে !
সুমি মনে মনে ভাবলো যে সে যাবে না বড় পুকুরের পাশে । কিন্তু না গিয়ে থাকতেও পারলো না ! দিনের আলো একটু কমে এলেই সুমি বড় পুকুরে হাজির !
ওর জন্য একটা বড় বিশ্ময় অপেক্ষা করছিল বড় পুকুর পাড়ে ! পুরো পুকুরে মধ্যে আলো নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে !
প্রথমে একটু আশ্চর্য হয়ে গেল ! কেবল পুকুরই না পুকুরের পাড় আশে পাশের এলাকায় সব জায়গায় এই আলো জ্বলতেছে ! আর একটু কাছে গিয়ে সুমি দেখলো আলো গুলো আসলে মোমের আলো ! ছোট ছোট বাটিতে মোম রেখে পানি ভাষিয়ে দেওয়া হয়েছে । পানিতে ওগুলো দোল খাচ্ছে আর মনে হচ্ছে আলো গুলো নড়ছে ! আর ঠিক মাঝ খানে কিছু মোম স্থির হয়ে রয়েছে ! কিছু একটা লেখার চেষ্টা করা হয়েছে ! আর একটু কাছে গিয়েই সুমি বুঝতে পারলো সেখানে লেখা Happy Birthday Jolpori Sumi !
সুমন ওকে আদর করে জলপরী ডাকে !
সুমি কেবল কিছুক্ষন চুপ করেই কিছুক্ষন তাকিয়েই রইলো চরপাশে ! সুমনের মনে ছিল ?
সুমির মনে হয় পাগলটা মনে রেখেছে ! আর কত কিছু না করেছে ! একটা অন্য রকম ভাল লাগার অনুভুতি হচ্ছে ওর মনের ভিতর ! এমন পাগলামো মানুষ করে ! এমন পাগলের কাছে থেকে কি দুরে থাকা যায় ?
কই ?
সুমি খুজতে থাকে সুমন কে ? কিন্তু কোথাও দেখা যায় না ! একবার নাম ধরে ডাকেও । কিন্তু সুমনের কোন দেখা নাই !
সুমি ফোন দেয় ওকে !
-কই তুমি ?
-স্ট্যাম্প কিনতে এসেছি !
-মানে ?
-না মানে শান্তি চুক্তি সাক্ষরিত হবে না !
-তুমি পাঁচ মিনিটের ভিতরে যদি এখানে না আসো তাহলে আমি কিন্তু চলে যাবো !
-ফুহ !!
-মানে ?
-মানে হল তুমি ওখান থেকে যেতেই পারবে না ! আমি জানি !
কথা সত্য ! সুমি এই জায়গা ছেড়ে কিছুতেই যাবে না !
সুমি এবার খানিকটা নরম কন্ঠে বলল
-আচ্ছা যাবো না ! তুমি আসো প্লিজ !
-আগে বল তুমি আর কোন দিন আমার সাথে এমন করবে না !
-কেমন ?
-এই যে আজ এগারোটা দিন তোমার সাথে দেখা হয় নি ! আমি কিভাবে থাকি বল !
সুমির মনটা আবার ভাল লাগার অনুভুতিতে ভরে গেল ! বলল
-আচ্ছা ! আমার বাবুটাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না ! এবার আসো প্লিজ !
-এই দেখ ! বাঁ দিকে !
সুমি বাঁ দিকে তাকালো ! সুমন দাড়িয়ে আছে ! মোমের আলোতে ওর চেহারায় কেমন একটা আনন্দ দেখা যাচ্ছে ! সুমন ওর কাছে আসলো !
ওর হাতে একটা ছোট্ট কেক ! তার উপরও একটা মোম জ্বলছে !
-আই লাভ ইউ !
সুমি বুক বেকিয়ে বলল
-হয়েছে আর ঢং করতে হবে না ! এমন ড্রামা করতে পারো না তুমি !
ওরা পাশের বেদিতে বসে একসাথে ! সুমির কেন জানি নিজেকে খুব বেশি ভাগ্যবান মেয়ে মনে হয় ! এমন এককজন ভালবাসার মানুষ পেয়েছে !!



আজকে সত্যি সুমির জন্ম দিন ! জলপরী সুমি ! আমার বন্ধু ! জানি না ওর এমন একজন সুমন আছে কিনা তবে ওর জন্মদিনে দোয়া করি যেন এমন একজন ভালবাসার মানুষ যেন ও পায় !!

শুভ জন্মদিন সুমি !


ফেবু লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:৫৮
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরায়েলের রাফা দখলের প্রতিবাদে চোখের জলে ভেজা একটি গান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৭



আমার এই গানটা তাঁদের নিয়ে যাদেরকে দূর্ভিক্ষ ছাড়া কোন শত্রুই পরাস্ত করতে পারবে না। তাঁর হবেন রাসুল (সাঁ)-এর শ্রেষ্ঠ উম্মতদের দলভুক্ত। ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশে তাঁরা থাকবেন।........তাঁদেরকে নিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:১১



০. হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

১. ইদানীং নতুন কিছু হিপোক্রেট দেখতে পাচ্ছি, যাদের কুরবানী নিয়ে অনেক সমস্যা, কিন্তু গোস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়াল জেনারেশন প্রতিবাদ করতে জানে না!

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩



শেখকে যেদিন হত্যা করলো মিলিটারী, আমি তখন প্রবাসে, পড়ালেখা করছি; প্রবাসে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদটা পেয়েছিলাম; সাথে ছিলো অন্য মৃতদের লিষ্ট। আমার মনে এলো, তাজউদ্দিন সাহেব বেঁচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব:

লিখেছেন মোহাম্মদ আলী আকন্দ, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২

৩১ মে ২০২৪ প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য তিন পর্বে বাস্তবায়ন যোগ্য একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধাপগুলি যথাক্রমে --

প্রথম পর্ব:
প্রথম পর্বটি ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুত্র যখন ছাগল!

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ১০:৪৪

ঈদ উপলক্ষে ফেসবুক আমাদের জন্য উপহার দিয়েছে নতুন নাটক "পুত্র যখন ছাগল!"

ঘটনার শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক ছেলে পনেরো লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কিনে বাপকে উপহার দিয়েছে।
এর আগে বাপকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×