somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি, নিশি এবং কিঞ্চিৎ বিপদে পড়ার গল্প !

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-এই খবরদার কিন্তু । একদম খুন করে ফেলবো ।
-মানে কি ? কথায় কথায় এই রকম খুন ফেলবো ? খুন করা কি এতোই সহজ ?
-তুমি কথা ঘুরাবা না । এখন বল আমার গান কই ?
-আরে বাবা আগে কথা বলতে দাও । তুমি যে কথায় কথায় বল যে খুন করে ফেলবো তোমার তো এটেম্ট টু মার্ডার কেসে ফাসি হয়ে যাবে ।
-এই । একদম ফালতু কথা বলবা না । এখন বল আমার গান কই ?
-তোমার গান মানে ? তুমি আবার পিস্তল কিনলে কবে ? আর কিনলেই বা কি ? সেইটার কথা আমিজানবো কিভাবে ?
-দেখো । কথা ঘুরাবা না বলতেছি ।
আমি একটু চুপ করি । নিশির কন্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারছি ও রেগে যাচ্ছে। যাই হোক । এবার একটু ওকে ঠান্ডা করতে হবে ।
আমি বললাম
-আচ্ছা বল ।
-তুমি বলেছিলে যে আমাকে গান মেইল করবা । কিন্তু কর নাই ।
-আমার মনে নাই তো ।
আমার কথা শুনে নিশি খানিকটা অভিমানের সুরে বলল
-তা থাকবে কেন ? এখন তো আমি পুরানো হয়ে গেছি । তাই না ?
আবার সেই কথা ?
এই মেয়েটার সমস্যা কি ? কথায় কথায় বলে যে আমি পুরানো হয়ে গেছি । আমাকে আর ভালবাসো না । আমাকে আর আগের মত ভালবাস না । এটা একটা কথা ?
আমি বললাম
-এই কথাটা কেন বল বারবার ?
-তাহলে তুমি আমাকে গান পাঠাও নাই কেন ? আমার বুঝি শুনতে ইচ্ছা করে না ? আমার বাবুটা কি গান শুনে সেই গান বুঝি আমার শুনতে ইচ্ছা করে না ।
আমি এটু চুপ করি । মন টা কেন জানি ভাল হয়ে যায় মুহুর্তের ভিতরেই । নিশির এই ব্যাপার গুলো আমার খুব ভাল লাগে । আমি কি করি সেইটা ওর কাছে সব থেকে বেশি জরুরী ।
তখন প্রথম দিককার কথা । একদিন রাতে এমনিতেই ওকে বলেছিলাম যে আনলাকি থার্টিন গানটা আমার খুব পছন্দের । পরদিন সারাটা সময় ও নিউমার্কেট এলিফ্যান্ট রোড আর বসুন্ধরার সব দোকান ঘুড়ে বেরিয়েছে এই গান টার খোজে । আমাকে বলে নি । ওর মনে কেবল এই কথাটাই রয়েছে যে গানটা আমার ভাল লেগেছে । এটা ওর শুনতেই হবে । কি আশ্চার্য এই পাগলামী
আমার ভালই লাগে । এখন তার আবদার আমি প্রতিদিন কি গান শুনি সেইটা তাকে মেইল করতে হবে । কোন কথা নাই ।
যেদিন মেইল করবো না সেদিন নাকি আমি তাকে ভালবাসি নাই ।
তাকে মনে রাখি নাই ।
এইটা একটা কথা হল ।

আবার আমি গানের নাম বললে হবে না । সে নিজে নেট থেকে নামাতে পারবে না । আমি তাকে পাঠাবো তাহলেই সে শুনবে । তা না হলে হবে না । কোথায় যাবো আমি ।

-কি হল কথা বল না কেন ? নাকি এখন আমার সাথে কথা বলতেও ভাল লাগে না । তা লাগবে......
-আরে বাবা থামো । থামো । আর বল না ।
-তাহল কেন পাঠাও না কেন গান ।
আমি কিছু বলতে পারি না । আসলে নেটের বিল কয়েক মাস ধরেই বাকি রয়েছে । গত কালকে লাইন কেটে গেছে । কিভাবে পাঠাবো । মোবাইল থেকে মাঝে মাঝে দেখি । হাতে টাকাও নেই যে আবার লাইন নিবো ।
এই কথা আবার বলতেও পারছি না ওকে । আমার হাতে টাকা নাই এটা জনলে আবার ও অস্থির হয়ে যাবে ।
কি দরকার ।
নিশি বলল
-আমি কিন্তু .....
-আমি অন্যভাবে ব্যবস্থা করি ?
-কি ভাবে ?
-ব্লুটুথ দিয়ে ?
-মানে ?
-মানে আমি মনে কর তোমার বাড়ির সামনে আসলাম । তোমার জানলার কাছে তুমি বসলে । তখন গান ট্রান্সপার করা যাবে । কি বল ?
-আমার বাড়ির সামনে আসবা ?
-হুম । সমস্যা কি ? আমি তো তোমার বাড়ির সামনে দিয়েই যাই ।
-কিন্তু এখন তো আসতে আসতে রাত হয়ে যাবে ?
-আরে আমি তো টিউশনিতে এসেছি । সমস্যা নাই । যাওয়ার পথে দিয়ে যাবো । ঠিক আছে ?
-আচ্ছা । আই লাভ ইউ ।

আমি মনে মনে হাসি । কেমন অল্পতে মেয়েটা খুশি হয়ে যায় ।
কিন্তু সমস্যা হল আসলেই কাজটা করা ঠিক হবে । নিশিরা যেই এলাকায় থাকে মোটামুটি ভিআইপি এলাকা । আমাকে যদি কেউ ওদের বাড়ির পাশে এমনি এমনি দাড়িয়ে থাকতে দেখে তাহলে কি মনে করবে ?
কি জানি কি আছে কপালে ?

একবার অবশ্য একটু বিপদে পরতে পরতে পরি নাই । ওর সাথে দেখা করতে গেছি ওদের বাড়ির সামনে । দাড়িয়ে আছি ঠিক ওর জানালার সমানে । ফোন দিতেছি কিন্তু নিশি আর ফোন ধরে না । একবার ভাবলাম ডাক দেই । কাছেই তো । ডাক দিতে যাবো ঠিক তখনই নিশির জানলা দিয়ে এক মাঝ বয়সী মহিলার মুখ বেরিয়ে এল ।
-এ ছেলে কি কর এখানে ?
-কিছু না আন্টি ।
-কিছু না মানে ? সেই কখন থেকে দেখছি এখানে ঘুরঘুর করছো । দাড়াও ।
এই বলে তিনি উচু গলায় কাকে যেন ডাক দিল । তখনই নিশির এসএমএস আমার মোবাইলে । সেখানে লেখা ভাইয়া আসছে । জলদি পালাও ।
আমি জানি না নিশির ভাই এসেছিল কি না আমি আর এক মিনিটও দাড়াই নাই ।
আজকেও যদি এমন কিছু হয় তাহলে তো খবরই আছে ।

নিশিদের ফ্ল্যাট টা দোতলায় । ও যে রুম টাতে থাকে সেটা ঠিক রাস্তার দিকে না । এই জন্য সমস্যাটা হয়েছে । যদি রাস্তার দিকে হত তাহলে কোন সমস্যাই হত না । ওর রুমটা একটা গলির দিকে মুখ করে । আবার গলির ওয়ান ওয়ে । ঐ গলির শেষ মাথায় আবার তিন চারটা বাড়ির মাথা । সেখানে আবার দারোয়ান দাড়িয়ে থাকে সব সময় ।
এই জন্য সমস্যা ।

আমি জানালার কাছে গিয়ে ফোন দিলাম ।
-এসেছো ?
-হুম । জানালা খোল ।
-কেন ?
-তোমাকে একটু দেখি ।
-দেখতে হবে না । ব্লুটুথ অন করছি গান সেন্ড কর ।
আমি গান সেন্ড করতে লাগলাম । হঠাৎ সামনের বাড়ি থেকে কে যেন বেরিয়ে এল । আমি প্রথমে ঠিক চিন্তে পারি নি । মনে করেছি হয়তো বাড়ির ডাড়োয়ান হবে হয়তো । কিন্তু একটু কাছে আসতেই আমার বুকটা ধুক করে উঠল ।
নিশির বাবা ।
নিশিরা আগে সামনের ঐ গলির বাসাটাতেই থাকতো । ঐ বাড়িওয়ালার সাথে ওর বাবার খুব ভাল সম্পর্ক । নিশিই বলেছিল আমাকে । যাই হোক আমি আর একটুও দাড়ালাম না, জোর কদম পা চালিয়ে রওনা দিলাম ।
-এই ছেলে ?
আমি নিশ্চিত আমাকেই ডাকছে । একবার মনে হল না দাড়িয়ে চলে যাই কিন্তু তাতে একটু রিস্ক আছে । যদি তিনি চোর চোর বলে চিৎকার করেন তাহলে আমার তো খবর ই আছে । আমি দাড়িয়ে পড়লাম ।
নিশির বাবা আমার কাছ এসে বলল
-তোমাকে আগেও এখানে দেখেছি । কি করছো এখানে ?
-আমাকে ? কি বলেন ? আমি তো আজকেই এখানে প্রথম এলাম ।
-তাই ।
-জি । আসলে আমার চেহারা খুব কমন তো তাই এমন টা মনে হচ্ছে আপনার ।
নিশির বাবা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল
-হুম । ঠিক । তা এখানে কি করছো ?
-ঐ গাছ টা কে দেখছিলাম ।
-কোন গাছটা ?
-ঐ যে আপনার ফ্ল্যাটের পাশে যে গাছ টা ।
এই কথা বলেই মনে হল হায় হায় কি করলাম । ঐ যে ওনার ফ্ল্যাট এই তো আমার জানার কথা না ।
নিশির বাবা বলল
-আমার ফ্ল্যাট মানে ? তুমি কিভাবে জানলে আমার ফ্ল্যাট ঐ টা ?
-আরে আপনার ফ্ল্যাট তো বলি নাই । বলেছি আপনাদের ফ্ল্যাট । মানে আপনাদের আর কি ?
এবার মনে হল আরো বিপদে পরলাম । আমিই বা কিভাবে জানবো যে উনি এই বাড়ি তে থাকে ?
আমার মনের কথা মনেই রয়ে গেল নিশির বাবা বলল
-আমি যে এই বাড়িতে থাকি এটা তুমি কিভাবে জানলে ?
আসলে ? কি বলবো ?
আমার মাথায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে ?
কি বলবো ?
-কি ব্যাপার কথা বলছো না কেন ?
-আরে এটা তো বোঝাই যায় । আমি এই খাৎাতে দাড়িয়েছিলাম যদি আপনি এই বাড়ির না হন তাহলে তো আমাকে এই কথাটা জিজ্ঞেসই করতে না । তাই না ?
কি জানি কি হল তবে দেখলাম নিশির বাবা একটু যেন বিভ্রান্ত হলেন । আমার কথা ঠিক মত মেনে নিতে পারছেন না আবার ঠিক ফেলেও দিতে পারছেন না ।
আমি বললাম
-আর আঙ্কেল আপনার চেহারার ভিতর একটা খানদানী ভাব আছে । যে কেউ তো আর এই বাড়িতে থাকতে পারে না । তাই বললাম আর কি ।
আমার এই কথায় মনে হল কাজ হল ।
-আচ্ছা ঠিক । যাও এখন । এদিক বেশি ঘোরাঘুরি কর না ।
-জি জি ।
আমি ছাড়া পেয়ে পারলে দৌড় দেই । এখানে থাকা আর নিরাপদ না ।
আর এদিকে আসাও যাবে না খুব একটা ।।
নাহ । কাল পরশুর ভিতর নেট লাইন টা আবার নিতেই হবে । এভাবে আর রিস্ক নেওয়া যায় না !


ফেবু লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:০৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×