somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ পার্কে বসা মেয়েটি !

২৪ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটি আমার দিকে কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে রইলো । চোখে কিছুটা অবাক হওয়ার চিহ্ন । এই দেশে মেয়েরা অপরিচিত ছেলেদের কাছ থেকে ব্যড কমান্ট স হজ মানে নেয় কিন্তু ফুল নেওয়া ক্ষেত্রে একটু অস্বস্থি বোধ করে !
মেয়েটি আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিল ! চেহেরা মোটামুটি ভদ্রই বলা চলে আমার । অন্তত প্রথম দর্শনেই কেউ অন্তত আমাকে ইভটিজার বলবে না !

আমি মেয়েটির দিকে ফুলটা ধরেই রইলাম ! মেয়েটি কে বললাম
-ফুল নিতে সমস্যা ?
-কেন নিবো ? আপনাকে কে কি আমি চিনি ?
-না চিনলে ফুল নেওয়া যাবে না ? কিছু খেতে দিলে হয়তো না নেওয়া স্বাভাবিক ছিল। অজ্ঞান পার্টির লোক মনে করতেন ! যদি কিছু মিশিয়ে দেই । ফুলে নিশ্চই এই সমস্যা নাই ?
-বলা যায় ? যদি আপনি ক্লোফরম জাতীয় কিছু মিশিয়ে দেন !

আমি খানিকটা হতাশ হলাম । কি করে ভাই । একটা ছেলে একটা মেয়েকে ফুল দিতে পারে না ? স্বাভাবিক ভাবে একটা মেয়েকে একটা ছেলের ভাল লাগতে পারে না ? অবশ্য আমি মেয়েটিকে ফুল দিলাম অন্য কারনে !

ক্যাম্পাস থেকে একটু আগেই বের হতে হয়েছে । বাসায় গিয়ে আবার টিউশনীতে আসাটা একটু কষ্ট কর হয়ে যায় । তাই ঠিক করলাম এই একটা ঘন্টা পার্কেই কাটিয়ে দেব !
রুপসী বাংলার ঠিক পিছনের পার্কটাতে ঢুকতে যাবো তখনই একটা সাইনবোর্র চোখে পড়লো গেটের কাছে ।
স্কুল/ কলেজের পোষাক পরে অপত্তিকর অবস্থান নিষেধ !
তার মানে কি ? স্কুল কলেজ ড্রেস বাদে অন্য সকল ড্রেসে আপত্তিকর অবস্থানে কোন বাধা নেই ?
আমি আপত্তি কর অবস্থান দেখতে পার্কের ভিতরে ঢুকলাম, কিন্তু আমাকে খানিকটা হতাশই হতে হল । সবাই খুব অআপত্তিকর ভাবেই বসে আছে । একটু খানি ঘুরে ফিরে যখন বসতে যাবো একটা পিচ্চি মেয়ে আমার দিকে একটা ফুল এগিয়ে বলল
-স্যার, একটা নেন স্যার । সারা দিনে একটাও বিক্রি হয় নাই !
চেহারা দেখে আসলেই মনে হল যেন ফুলের বাজারের অবস্থা ভাল না ! আমি পিচ্চি মেয়েকে বললাম
-আমি ফুল দিয়ে কি করবো ? দেওয়ার কেউ নাই !
-নেন স্যার একটা !
-আরে কি করবো নিয়ে ! নষ্ট হবে !
-ঐ আফা মনিরে দিয়া দিয়েন !
বলেই পিচ্চি মেয়েটা আমাকে হাতের ইশারায় সামনে বসা একটা মেয়েকে দেখালো !
মেয়েটা আমার দিকে পেছন ফিরে বসে আসছে সামনের বেঞ্চে । চেহারা দেখা যাচ্ছে না । কেবল পেছনে লম্বা চুল দেখতে পাচ্ছি !
মেয়েটা নিশ্চই কারো জন্য অপেক্ষা করছে । যাক একটু সময় কাটানো যাক !
আমি পিচ্ছির কাছ থেকে একটা বেশ বড় সাইজের গোলাপ কিনে মেয়েটার দিকে হাটা দিলাম !

আমি ফুলটা মেয়ের পাশে রেখে বললাম
-একটু বসবো আপনার পাশে ?
মেয়েটা কিছু বলল না । অবশ্য বললেও আমি কেন শুনবো ? এই টা পাবলিক পার্ক ! আমি বসতেই পারি !
আমি বসতে বসতে বললাম
-কার জন্য অপেক্ষা করছেন ? আপানর বয়ফ্রেন্ড ?
-জি !
-এতো দেরি করছে কেন ?
-জ্যামে আটকে আছে ?
-ও আচ্ছা ফোনে কথা হয়েছে ?
-হুম !
-আচ্ছা আপনার মনে হয় নি আমি এতো মেয়ে কে রেখে কেন আপনাকেই ফুলটা দিতে এলাম !

মেয়েটি এতোক্ষন সোজা তাকিয়ে ছিল এখন আমার দিকে তাকালো !
-আপনি আমাকে কেন বিরক্ত করছেন ?
-বিরক্ত ? আমি আপনার সাথে একটু কথা লার চেষ্টা করছি ! বিশ্বাস করেন লাইন মারার চেষ্টাও করছি না !
-আমার তো তাই মনে হচ্ছে !
-মেয়েরা এমনিতেই একটু কম বোঝে !
-কি বললেন আপনি ? কি বললেন ?
-আমি ? আমি কিছু বল নি তো ! কিছু বলি নি ! আসলে ঐ মেয়েটা কে দেখছেন না !
আমি হাত দিয়ে ফুল বিক্রেতা মেয়েকে দেখালাম ।
মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-কি হয়েছে ঐ মেয়েটার !
-আসলে ঐ মেয়েটার মায়ের খুব শরীর খারাপ ! ঔষধ কিনতে হবে ! এই জন্য ফুল বিক্রি করছে । আমার কাছে আসলে আমি ওকে সাহায্য করতে চাইলাম । বললাম যে ফুল লাগবে না এমনি তুমি টাকা নাও ! সে বলল যে না ! এমনি এমনি সে টাকা নিবে না ! আমি বললাম আরে ফুল নিয়ে আমি কি করবো ! নষ্ট হবে তো !
মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-কেন আপনার ফুল দেওয়ার কেউ নাই !
-কেউ থাকলে কি আপনার সাথে টাংকি মারার চেষ্টা করি ?
-মানে কি ?
-কোন মানে নাই । জাষ্ট জোকিং ! আমি মেয়েটার কাছ থেকে ফুল কিনলাম !
তারপরই দেখলাম আপনি বসে আছেন । আমার কাছেও মনে হল আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ডের জন্যই অপেক্ষা করছেন ! এখন আমার ফুল তো কাজে লাগবে না। কেবলই নষ্ট হবে ! তাই ভাবলাম আপনাকে উপহার দেই । আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ড কে দিতে পারবেন ! ভাল না ?

মেয়েটি কিছু বলতে যাবে তখনই মেয়েটির ফোন বেজে উঠল !
মেয়েটি ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে গেল ! আমি আবারও আপত্তিকর অবস্থান দেখার জন্য আশেপাশে তাকাতে শুরু করলাম ।
ঐ তো দেখা যাচ্ছে ।
একটা ছেলে আর মেয়ে বসে আছে কোনার দিকের একটা বেঞ্চে ! মেয়েটা যেন ছেলেটার শরীরটাকেই পার্কের বেঞ্চ মনে করেছে । যেভাবে হেলান দিয়ে বসেছে ! আর ছেলেটাও !! আমি আর একটু ভাল করে দেখতে লাগলাম !

-কি দেখছেন ?
-জি ?
মেয়েটি ততক্ষনে কথা বলা শেষ করে ফেলেছে ।
-আসলে চারিপাশে পরিবেশ দেখছি !
-তাই ?
-হুম ! তা আপনার বয়ফ্রেন্ড কত দুর ?
-এখনও বনশ্রী !
-ওরে বাবা ! আজকে আর দেখা হয়েছে ! তার চেয়ে বরং এক কাজ করেন আমার সাথে আজকে আড্ডা দেন । কি বলেন !
-বলুন !
-আপনার নাম জানা হয় নি !
-নামটা না হয় নাই জানা হোক ! আমরা এমনি কথা বলি !
-তা অবশ্য ঠিক । নাম জানার দরকার কি ? আচ্ছা এখন কি আপনি ফুলটি নিবেন ?
মেয়েটি নিজেই হাত বাড়িয়ে ফুল নিল ! তারপর বলল
-তা আপনি যখন মেয়েটিকে সাহায্যই করতে চাইলেন একটা ফুল কেন কিনলেন ? সব গুলো কিনলে ভাল হত না ?
-উহু ! আমি তো চেয়েছিলাম কিন্তু মেয়েটিই তো আমার কাছে বিক্রি করলো না !
-কেন ? কেন বিক্রি করলো না ?
-আরে বলবেন না ! মেয়েটি যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান এবং বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন ! আমি যখন কিনতে চাইলাম তখন মেয়েটি বলল আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে আপনার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল না ! সব গুলো ফুল কেনা আপনার জন্য ঠিক হবে না
দেখলাম মেয়েটিও আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন ! কিছু যেন একটা খুজতেছে । তারপর বলল
-আসলেই মেয়েটি ধারনা ঠিক ! আপনার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল মনে হচ্ছে না ।
-হুম ! ঠিকই বলেছেন । মেয়েটি বলল যে তার উপকার করার জন্য যেন আবার আমার ক্ষতি না হয় । তাই আমার কাছে একটার বেশি ফুল বিক্রি করতে রাজিই হল না !
-হুম ! বুঝলাম ! বড় মানবিক গুনাবলি সম্পন্ন ফুল বিক্রেতা দেখতেছি !
-নয়তো আর বলছি !
এর পর মেয়েটি বেশ কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
-চাপা তো ভালই মারতে পারেন দেখছি !
-মানে কি ? চাপা ?
-আপনি ঠিকই জানেন ! মেয়েটি কিন্তু আামর কাছেও এসেছিল ফুল বিক্ড়ি করতে ! আমাকে তো কিছু বলল না !
-বলেনি ! সেটা আমি কিভাবে বলবো ? আপনি বিরক্ত হচ্ছেন ?
-দেখেন প্রথমে আমি যথেষ্ঠ বিরক্ত হয়েছিলাম কিন্তু সময় কাটছে ভালই ! চালিয়ে যান । বসে বসে বিরক্ত হওয়ার চেয়ে আপনার চাপাবাজি শুনি !
-হাহাহাহা !
-হাসির কি হল ?
তাই তো হাসির কি হল ? আমি কেনই বা হাসলাম !
এই ভাবেই আস্তে আস্তে কথাচলতে থাকেন মেয়েটার সাথে !

একটা সময় মেয়েটার ফোন বেজে উঠলো ! মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে মেয়েটার মুখ কিছুটা উজ্জল হয়ে উঠলো । নিশ্চই মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড চলে এসেছে !
তার মানে আমাকে এখন উঠতে হবে !
মেয়েটি ফোন রিসিভ করল !
-হ্যালো !
নিরবতা !
-হ্যা ! এই দিকে ! আমি একদম গেটের কাছে ই আছি !
নিরবতা
-আচ্ছা ! আচ্ছা ঠিক আছে !

মেয়েটি ফোন রাখতেই আমি বললাম
-চলে এসেছে ?
-হুম !
-ওকে আমার যাওয়ার সময় হয়েছে !
-হুম !
আমি উঠে গেলাম ! একটু দুরে গেছি তখনই মেয়েটা আমাকে ডাক দিল !
-এই যে শুনছেন !
আমি ঘুরে দাড়িয়ে বললাম
-জি ?
-গোলাপ ফুলের জন্য ধন্যবাদ ! আর আপনার সাথে সময় ভাল কাটলো !
এই বলে মেয়েটা হাসলো ! আমিও হাসলাম !

আমি আবার ঘুরে হাটা দিলাম ! টিউশনীর সময় হয়ে এসেছে ! রওনা দেওয়া দরকার !



Click This Link
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৫

শাল বাইম এর বদলে কুঁইচা......

বাইম মাছ খুব সুস্বাদু একটি মাছ। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাইম মাছ পাওয়া যায়। একটা তারা বাইম/গুছি বাইম ইংরেজিতে বলে Star Baim। অন্যটার নাম শাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক সালমান রুশদির উপর আক্রমন

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০২

লেখক ও সাহিত্যিক সালমান রুশদির উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে উগ্রবাদী 'ধর্মীয়' মনোভাবের কারনে এই আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে।



সালমান রুশদি মূলত খ্যাতি অর্জন করেন 'মিডনাইটস চিলড্রেন' নামক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরও একটি বিচার হবে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৫


(ছবিতে কপি রাইট আছে।)


দুনিয়ায় বিচার শেষ বিচার নয়।
আরও একটি বিচার হবে।
সেটাই হলো শেষ বিচার।
এই বিচারে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
যারা দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ
নামক কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মডুদের কাছে অনুরোধ এবং ব্লগারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দরখাস্ত

লিখেছেন কিশোর মাইনু, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২২

স্কুলকলেজে থাকতে মারাত্বক বই পড়ুয়া ছিলাম। বাতিঘর নামের এক লাইব্রেরীতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম। নতুন কোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম। এক পর্যায়ে গিয়ে বাতিঘরের গার্ড পর্যন্ত যখন বাতিঘর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মবিশ্বাস

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০



মৃত্যু এবং ধর্ম থেকে মানুষ দূরে থাকতে চায়। ধর্ম হলো আয়না। মানুষ আত্মদর্শন করতে চায় না। অন্যের সকল দোষ পরখ করে খুঁটিয়ে দেখে, নিজেকে নির্দোষ ভাবে। অন্যের খাটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×