somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউঃ থ্রি এ.এম. (Nick Pirog)

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্পটা পড়ার সব থেকে মজার লাইণটা ছিল আই এম হেনরি বিনস এন্ড আই হ্যাভ হেনরি বিনস ! এই হেনরি বিনস এমন একটা রোগ যেটা কিনা এই পৃথিবীতে তিনজন মানুষের আছে এবং এই নাম করন টা করা হয়েছে হেনরি বিনস লোকটার নাম থেকেই । ব্যাপারটা এরকম যে এমন একটা রোগ কেবল আমারই আছে এবং আমার নাম থেকেই নাম করনটা করা হয়েছে । তাহলে কেমন হবে ব্যাপার । তখন হয়তো আমি লিখবো আমি অপু তানভীর এবং আমি অপু তানভীরে ভুগছি ।

যাইহোক, আমাদের এই থ্রি এএম গল্পটা এই হেনরি বিনস নামক লোকটা কে নিয়ে । লোকটা অদ্ভুদ এলটা রোগ আছে । এমন রোগ এই পৃথিবীতে মাত্র তিনজন লোকের আছে । এবং এই রোগে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তিটির নাম হেনরি বিনস । এই রোগে মানুষস পুরো ২৪ ঘন্টার দিনের ভেতরে মাত্র ১ ঘন্টা জেগে থাকে । এবং বাকি ২৩ ঘন্টা কাটিয়ে দেয় ঘুমিয়ে । আমরা স্বাভাবিক মানুষেরা যেমন ৮ ঘন্টার মত ঘুমিয়ে মোটামুটি ১৫/১৬ ঘন্টা জেগে থাকি এবং জীবনের অন্যান্য কাজ করি কিন্তু হেনরি বিনস দিনে মাত্র একটা ঘন্টা জেগে থাকে । এই এককটা ঘন্টার ভেতরেই তাকে জীবনের সব কাজ করতে হয় । খাওয়া দাওয়া গোছল করা, জগিং থেকে শুরু করে বাকি সব কাজ করে এবং গেম অব থ্রোর্নসও সে দেখে । এবং এই কাজ গুলো তাকে করতে হয় রাট তিনটা থেকে চারটার ভেতরের সময়ে । কারন এই এ সময়টাতেই কেবল সে জেগে থাকে । চারটা বাজার সাথে সাথেই সে কাইত !

এমন ভাবেই তার জীবন চলে আসছিলো এতো দিন । কিন্তু ঘটনা বদলে যায় যখন একদিন ঘুমানোর আগে সে শুনতে পায় রাস্তার ওপাশের বাসা থেকে একটা মেয়ের চিৎকার । ঠিক তার কিছু মুহুর্ত পরেই দেখতে পায় একজন লোক সেই বাসা থেকে বের হয়ে আসছে । এবং সেই বের হওয়া মানুষটা আর কেউ নন, স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ।

আর কিছু করার ছিল না তার কারন ঠিক সেই সময়ে চারটা বেজে যায় এবং সে কোমায় চলে যায় । ঘুম থেকে ওঠে পরদিন তিনটার সময় । উঠেই প্রথমে ইন্টানেটে খোজা করে কোন মার্ডার হয়েছে কিনা তার বাসার আসে পাশে । কিন্তু এমন কোন চোখে পড়ে না ।
যথারীতি জগিং করতে গিয়ে কৌতুহল দমাতে না পেরে সেই বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং মৃতদেহ আবিস্কার করে । ধরে নেয় যে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই প্রেসিডেন্ট খুন করেছে এই মেয়েকে । কিন্তু অন্য কোথায় খোজ করেও মেয়েটার কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায় না । কেবল মেয়েটার মোবাইল ফোন আর পোষা বিড়াল পায় সে । এদিক দিয়ে তার লক্ষ্য থাকে না কখন তার ঘুমানোর সময় এগিয়ে চলেছে । তাকে এখন এই বাসা থেকে বের হয়ে যেতে হবে নয়তো যে কেউ তাকে আবিস্কার করে ফেলতে পারে মৃতদেহের সাথে কিন্তু হেটে কিংবা দৌড়ে তার বাসায় যাওয়ার মত সময় তার হাতে নেই । তাহলে এখন সে কি করবে ?

এভাবে কাহিনী এগোতে থাকে । প্রতিদিন ঐ সময়ের ভেতরে জেগে উঠে হেনরি বিনস হত্যা কান্ডের ব্যাপারে খোজ নিতে থাকে । এক সময়ে নিজে নামে অনুসন্ধাতে । এবং আস্তে আস্তে জড়িয়ে পড়তে থাকে ঘটনার ভেতরে । তাকে হত্যা করার জন্য মানুষ পাঠানো হয় এবং একটা সময় স্বয়ং প্রেসিডেন্ট সাহেব তার সাথে দেখা করে । সব কিছু স্বীকার করে বলে যে সে খুন টা করে নি । কিন্তু হেনরি বিনস আবিস্কার করে প্রেসিডেন্ট মিথ্যা বলছে । তাহলে খুনটা কে করেছে প্রেসিডেন্ট নিজে নাকি অন্য কেউ ! এভাবে একের পর এক ঘটনা মিলাতে মিলাতে শেষে গিয়ে হাজির হয় আসল খুনি কে !

সবটা বলে দিলে হয়তো মজাটা নষ্ট হয়ে যাবে । তাই বলছি না । বইটার সব থেকে ভাল লেগেছে এই চমৎকার একটা ক্রিয়েটিভিটিটা । কিভাবে একটা মানুষ মাত্র এক ঘন্টায় জেগে থেকে তার জীবনটা পার করে দিচ্ছে সেই সাথে সব কাজ কর্ম করছে । কেমন করে সময় হিসাবে এগিয়ে চলে তার জীবন । ঠিক কখন তাকে ঘুমানোর জন্য এগিয়ে যেতে হবে বিছানার দিকে ।

বইটার অন্যান্য মজার ঠিকের একটি হল বিড়ার সাথে হেনরি বিনসের কথোপকথন । যেমন
“I guess we'll have to get you a Taser too.”
"Meow."
“No, I'm not getting you a knife.”
"Meow."
“We'll discuss this when I get back.”

তার উপর বইটাকে ঠিক উপন্যাস বলা যাবে না, বলা যেতে পারে বড় গল্প । মাত্র ১০২ পেইজের একটা বড় গল্প । ইংরেজি ভাষা খুবই সাবলীল এবং সহজ । পড়তে কোন কষ্টই হয় নি । একবার শুরু করে আর না শেষ করে উঠি নি । কিন্তু একেবারে শেষে গিয়ে আরেকটু টুইষ্ট থাকলে ভাল লাগতো তবে এটাও অনেক অনেক বেশি চমৎকার লেগেছে ।

আর দেরি না করে আজই পড়ে ফেলুন । বাতিঘর থেকে এটার অনুবাদ বেড়িয়েছে । সেটাও পড়তে পারেন আবার মুল ইংরেজিটাও পড়তে পারেন ।



হেনরি বিনস সিরিজের আরও চার বই সম্ভবত আছে । এই বইটা পড়ার পরে লেখকের অন্যান্য বই গুলোরও পড়ার আগ্রহবোধ করছি !
হ্যাপি রিডিং !
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×