somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হঠাৎ ভাবনাঃ অন্য কিছু বললে কী হত!

১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত সপ্তাহে বাংলামোটর সিগন্যাল জ্যামে বসে আছি। এমটিবির হেডকোয়ার্টারের সামনে। আমার চারপাশে সব মোটরসাইকেলের ভিড়ের মাঝে আমি একাই সাইকেল নিয়ে বসে আছি। যারা সাইকেল চালায় তারা খুব একটা জ্যামে আটকায় না। জ্যাম বাঁধলে সাইকেল ফুটপাতের উপর দিয়ে সাইকেল নিয়ে চলে যায়। আমি এই কাজটা করি না বললেই চলে। জ্যামে পড়লে আটকে বসে থাকি। আমার কোথাও যাওয়ার এত তাড়া থাকে না কোনোদিনই। আর যেখানে যাওয়ার জন্য আমি বের হই নির্ধারিত সময় নিয়েই বের হই। তাই চুপচাপ বসে থাকি জ্যামে। আশেপাশে গাড়িঘোড়া দেখি, মানুষজন দেখি, তাদের চোখের বিরক্তি দেখি। মাঝে মাঝে ফোন বের করে ব্রাউজ করি।

এমন করে যখন আমি, যখন সময় পার করছিলাম তখন হঠাৎ করেই আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ভাইভার কথা মনে পড়লো। ঠিক কেন আমার এই কথা মনে পড়লো আমি জানি না। আশেপাশে কোনো পোস্টার ছিল বলে মনে পড়ছে না। তবুও আমার সেই দিনের কথা মনে হলো। আমাদের ভাইভার তারিখটা এখন আমার মনে নেই আর। আমি যথারীতি সকাল দশটার কিছু পরে গিয়ে হাজির হয়েছি। সমাজবিজ্ঞান অনুষদে আস্তে ধীরে ভাইভা নেওয়া হচ্ছে। দারোয়ান এসে জানালো যে যাদের মেরিট পজিশন একশ তাদের এখন ভাইভা হবে আর যাদের একশর পরে তাদের ভাইভা শুরু হবে দুইটার পরে। আমার পজিশন ছিল ১০৫। তার মানে আমারটা হবে পরে। ভার্সিটির এদিক-অদিক ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। সময় যেন কাটে না।

এক সময় সময় হলো। আমি ভাইভা রুমে ঢুকলাম। সেই সময় ভাইভা বলতে স্যারদের সামনে কোনো সাবজেক্টে পড়তে চাই সেটা বলতে হতো। আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি নিয়ে পড়ার। মেরিট পজিশন ১০৫ ছিল তাই আশা ছিল যে ইংরেজি পাব। কিন্তু ইংরেজি পেলাম না। যে স্যার সেখানে ছিলেন তিনি বললেন ইংরেজির সিট ভর্তি হয়ে গেছে। এটা বাদ দিয়ে আর যেকোনো সাবজেক্ট চাও নিতে পারো।

আমি তখন কী সাবজেক্ট নেব সেটা আর ভাবতে পারলাম না। তারপর আপন মনেই বলে উঠলাম অর্থনীতি। সেদিন আসলে আমি কেন ঠিক অর্থনীতি বলেছিলাম আমি নিজেই জানি না। আমার কোনো ধারণা ছিল না।

বাংলামোটরে বসে আমার ভাবনাটা অবশ্য এটা না। ভাবনাটা ছিল এর পরে। আমার মনে হলো আমি সেদিন অর্থনীতি বলেছিলাম বলেই আজকে আমার পুরো একটা সার্কেল তৈরি হয়েছে আলাদা। আমার বর্তমানে পরিচিত অর্ধেক মানুষ এখন আমার জীবনে রয়েছে কেবলমাত্র সেদিন আমি বেখেয়ালে অর্থনীতি বলেছিলাম বলেই। যদি সেদিন আমি আইন বলতাম কিংবা ম্যানেজমেন্ট বলতাম, আমার জীবনের বর্তমান মানুষগুলোর অর্ধেকের বেশির সাথে আমার পরিচয় হতো না। হয়তো অন্য কোনো একটা সার্কেল তৈরি হতো তবে এই মানুষদের সাথে আমার কোনো পরিচয় হতো না।

আমার এক ক্লাসমেট আমার প্রথম টিউশনি জোগাড় করে দিয়েছিল। সেই টিউশনি শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তবে এখন তাদের সাথে আমার যোগাযোগ হয় নিয়মিত। এই যে একটু আগে, এই লেখা শুরুর আগে আন্টি ফোন দিয়েছিল। দাওয়াত দিল। আমি যদি ঢাকাতে কোনো বড় রকমের বিপদে পড়ি আমি জানি সবার আগে এই পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসবে। এই যে এত কাছের মানুষ হয়ে ওঠা, সেদিন যদি আমি বেখেয়ালে অর্থনীতি না বলতাম তাহলে তাদের সাথে আমার কোনো পরিচয়ই হতো না।

আপনিও একবার চিন্তা করে দেখেন। আপনি জীবনে এমন কিছু কাজ করেছেন, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার পরে আপনার পুরো একটা সার্কেল তৈরি হয়েছে। যদি সেটা বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজ করতেন তাহলে এই পুরো সার্কেলের কারো সাথে আপনার কোনো দিন যোগাযোগই হতো না। চিনতেনই না।


ছবি সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

"নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন — নীরবতা হোক আপনার শক্তির সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।"
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার একার না। আপনি যদি বারবার বোঝান, কিন্তু কেউ বুঝতে না চায় — তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×