somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

জীবনের ব্যাকরন এর সাথে কঙ্কাবতীর কথাঃ বুক রিভিউ

০৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




জীবনের কাছে আমাদের কতটুকু পাওনা আছে । আমরা এক জীবনে কত কিছুই চাই । আমাদের চারদিকে কতজন থাকিয়ে দেখছি । কখনও কি ভেবে দেখেছি আমাদের চারপাশে কি হচ্ছে । কার কি সমস্যা । কে কষ্টে আছে । কে অসহায় । কে অপরাধী । নাকি আমরা সবাই অপরাধী । হয়ত আমরা সবাই ঠিক আবার সবাই ভুল ।

কবিরা সাধারনত তাদের মনের কথা গুলো ছন্দের মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে । আবার তারা এত সুন্দর ভাবে উপমা ব্যবহার করে যে মাঝে মাঝে মনে হয় কিভাবে তারা পারে । তাদের প্রতিবাদের ভাষাও দারুন । তবে মজার বিষয় হচ্ছে তারা উপমা ব্যবহার করে সুন্দর ভাবে প্রতিবাদ করতে পারে । অনেকটা সাপ মরে লাঠিও ভাঙ্গে না । তবে আমি তাদের হিংসা করি অনেক । কারন অনেক সাহিতিক্য আছেন যারা পাতার পর পাতা লিখে বুঝতে পারেন না । অপর দিকে কবিরা এক কবিতা লিখে সব কিছু বুঝিয়ে ফেলেন ।

" জীবনের ব্যাকরন " বইটি কবিতার বই । যদিও আমি কবিতা এত ভাল বুঝি না । আমার দৌড় ওই নজরুল, রবি ঠাকুর, জীবনানন্দ, জসীম উদ্দিন, রুদ্র পর্যন্ত । তবুও এবার আমি এম রহমান লতিফের " জীবনের ব্যাকরন " বইটি কিনেছি । বইটি পড়তে সময় লাগার কারন হচ্ছে কবিতা বুঝার চেষ্টা করা । বইটির সব গুলো কবিতাই জীবনের কথা বলে । আমাদের প্রতিদিনের কোন না কোন অংশ কবিতার মাঝে জড়িয়ে আছে ।

বইটিতে প্রায় ৭১টির মত কবিতা আছে । তবে আমার মনে হয় কবি আরও সময় নিয়ে বইটি প্রকাশ করতে পারতেন অথবা প্রকাশের আগে দেখে নিতে পারতেন । কারন অনেক জায়গাতে কিছু লেখা সম্ভবত ভুল ছাপা হয়েছে । তাছাড়া কিছু লাইন আমার কাছে মনে হয়েছে আরও ভাল হতে পারত । তাছাড়া যদিও কিছু কিছু কবিতায় ছন্দ ছিল, কিন্তু সেটা কবিতার শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেননি ।

দেহ তত্ত্বের গীতি দুটি ভাল হয়েছে । যেহেতু এদুটি গান বা জারি টাইপের তাই এগুলো শেষে দিলে ভাল হতো । লতিফা গুলো ছোট তবে কেন জানি খাপ ছাড়া মনে হয়েছে । তবে কবির জীবন বোধে আমি মুগ্ধ । তার কবিতার মাঝে বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে । অবশ্যই বলব কবি বাস্তবতা কে গুরুত্ব দিয়েই কবিতা গুলো লিখেছেন ।

সব শেষে, কবির প্রতি রইল অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসা ।

বইঃ জীবনের ব্যাকরন
লেখকঃ এম রহমান লতিফ
প্রকাশনীঃ পায়রা প্রকাশ






মেয়েদের জীবন বড়ই অদ্ভুত । তারা হয়ত নিজেরাও জানে না তাদের জীবনটা আসলে কি রকম । তবে মেয়েদের জন্ম থেকে মৃত্যু একটা লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যায় । তারা প্রতিনিয়ত লড়াই করে । লড়াই করেই তাদের বেচে থাকতে হয় ।

লড়াই করা তাদের রক্তে মিশে আছে । জীবনের প্রতিটি ক্ষনে তারা যুদ্ধের ময়দানে উত্তীর্ন হয় । তবে তারা হেরে যায় না । জিততে না পারলেও কখনও তাদের হার হয় না । ক্লান্তি নেই তাদের । এ যেন এক অবিরাম ছুটে চলা এক লাগামহীন ঘোড়া । যার কোন গন্তব্য নেই । নেই কোন উদ্দেশ্য । যে শুধু ছুটে চলে । তবে সেও একদিন খুজে পায় গন্তব্য । তার আশ্রয়স্থল ।

"কঙ্কাবতীর কথা" তেমন এক মেয়ের জীবন কথা । যার ছোট বেলা থেকেই শুরু হয় যুদ্ধের ময়দান । যে নিজেও পরে যায় অথই সমুদ্রে শুধু হাতরে বেড়ায় । যারা বাবা তার কৈশোর শুরু হবার আগেই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় । যার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে সৎ বাবার বাসায় চলে যায় । সেও যায় মায়ের সাথে তার সৎ বাবার বাসায় । কিন্তু সেখানেও তার জায়গা হয় না । খুবই অনাদরে বড় হয় সে । তার সকল কিছুই যেন হারিয়ে যায় । সে নিজের মত ই সাজিয়ে নেয় তার জগৎ । তার ভাল লাগা নাচ, গান, কবিতা ।

শান্তিনিকেতন থেকে হৃদয়ের কুঠোরিতে বন্ধন । তারপর হেটে চলা । কিন্তু সেটাও তার জন্য বয়ে নিয়ে আসে অভিশাপ । শেষ পর্যন্ত তার কি হয় সেটাই । সে ছুটে চলে অজানার উদ্দেশ্য ।

তবে আমার মনে হয় লেখক এখানে অনেক দেখিয়ে ফেলেছেন । তবে এটা সত্য কিনা জানি না । এক জীবনে এত কিছু সহ্য করা সম্ভব না । তারপরও গল্পের জন্য মেনে নিলাম । তবে কাহিনীর ক্ষেত্রে বলি হঠাত করেই কেন জানি একটু নেমে গিয়েছে । আবার হঠাত করে উচ্চতায় পৌছে গিয়েছে । তবে লেখকের লেখা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই । তবে কাহিনী অসম্পূর্ন মনে হয়েছে । আরও কিছু যোগ করা যেতো ।

তবে আমি পাঠক হিসেবে বলব উপন্যাসের ক্ষেত্রে বেশি কষ্টের হয়ে গিয়েছে । আমি এতো কষ্টের উপন্যাস আমার সহ্য হয় না । তবুও বলব দারুন একটা উপন্যাস ।

বইঃ কঙ্কাবতীর কথা
লেখকঃ শায়মা হক
প্রকাশনীঃ এক রঙা এক ঘুড়ি


(বিঃদ্রঃ সম্পূর্ন ব্যক্তিগত মতামত । প্লিজ দয়া করে কেউ রাগ করবেন না । শায়মা আপু সরি । লতিফ ভাই সরি ।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৪০
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×