somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

রুবাইয়াৎ - ওমর খৈয়াম ও কাজী নজরুল ইসলাম

২২ শে মে, ২০২১ রাত ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :








“ওমর খৈয়াম” এর নাম শুনলেই আমাদের তার লেখা “রুবাইয়াৎ” এর কথা মনে পরে। তবে তিনি আমাদের আসে পাশের কেউ ছিলেন না। তার সাথে আমাদের দুরুত্ব একটু বেশি বলা যায়। কিন্তু তার লেখা কবিতা ও নানা উক্তি আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ ভাবে সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে ওমর খৈয়াম আবেগের অন্য নাম। আমাদের বিদ্রোহী কবি “কাজী নজরুল ইসলাম” রুয়াইয়াৎ এর কিছু অনুবাদ করেছিলেন। এই বিষয়ে একটা মজার তথ্য একটু পরে দিচ্ছি। তবে আমি বইটি পড়ার সময় শুধু নজরুল কে মনে করেছি। হ্যা, আমি নজরুলের লেখার একটু বেশি ভক্ত। সেসব পরের কথা, এখন ফিরে আসা যাক রুবাইয়াৎ প্রসঙ্গে।
.
“ওমর খৈয়াম” পারস্যের কবি, বর্তমানে ইরান। তার লেখা সব কবিতাই চতুষ্পদ কবিতা। এর মানে হচ্ছে চার লাইনের কবিতা। তবে এই চার লাইনে তিনি বর্ননা করেছেন প্রেম দ্রোহ আর বিরহ। সেই সাথে তিনি ভণ্ডামী সংস্কার ও মিথ্যা বিশ্বাসের উপর দিয়েছে কড়া আঘাত। যা হয়ত সেই সময়ে অনেক কঠিন ছিল।

তবুও তিনি লিখেছেন। কারণ প্রচলিত একটা কথা রয়েছে ‘যদি তুমি এক জীবনে হাজার জীবন বাঁচতে চাও, তাহলে পড়ো। আর এক জীবনে হাজার জীবন বাঁচতে চাও, তাহলে লেখো।” তাই তিনি লিখেছেন এবং ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। হয়ত সে কারণেই আজ তাকে নিয়ে অনেক লেখা হয়, গবেষণা হয়।
.
কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও ফিটজেরাল্ড, কান্তি ঘোষ, সৈয়দ মুজতবা আলী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সিকান্দার আবু জাফর, নরেন দেবসহ আরো অনেকে রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম অনুবাদ করেছেন। কথিত আছে, কান্তি ঘোষের রুবাই অনুবাদেই প্রথম এর জোয়ার তৈরি হয়, নরেণ দেব তা আরও জনপ্রিয় করে তোলেন, তদুপরি, কোথায় যেন একটু অভাব থেকেই যাচ্ছিল। সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, ‘ওমরই ওমরের সর্বশ্রেষ্ঠ মল্লিনাথ এবং কাজীর অনুবাদ সকল অনুবাদের কাজী।
.
উপরে একটা মজার তথ্যের কথা বলে ছিলাম, সেটাই এখন দিচ্ছি। সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত ও কাজী নজরুল ইসলাম অনূদিত রুবাইয়াৎ এর ভূমিকা লিখেছিলেন। তিনি বলে ছিলেন যে নজরুল এতটাও ফার্সি জানতেন না। অনেকের ধারণা তিনি ইংরেজ কবি অ্যাডওয়ার্ড ফিটসজেরাল্ডের অনুবাদ থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। আর এখানেই ভুল করেছেন অনেকে।
কারণ নজরুলের শিক্ষা জীবন নিয়ে আমরা সবাই জানি তার ইংরেজি শিক্ষায়ও খুব বেশি নয়।

নজরুলের অনুবাদ করা খৈয়ামের রুবাইয়াৎ একটু খেয়াল করে পড়লেই বুঝবেন যে নজরুল ইংরেজি অনুবাদের ধারে–কাছে দিয়েও যাননি। নজরুলের অনুবাদ সম্পূর্ন রূপেই আলাদা। আমি পড়ার সময় এটা বুঝেছি। তবে নজরুল কিন্তু কোন ভাবে ছন্দ মেলানোর চেষ্টা করেনি। তাই যখন পাঠক পড়বেন তখন একটু অন্যরকম লাগতে পারে। আপনি ভাবতে পারেন এভাবে পড়া যায় নাকি। এখানেই নজরুল যে কাজটি করেছেন তা হচ্ছে মুল অর্থ ঠিক রাখা। যাতে করে ফার্সির সাথে এর পার্থক্য খুব বেশি না থাকে।
.
নজরুলের হাতেই ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াৎ-এর সার্থক অনুবাদ হবে, সেটিই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু নজরুলের নিজস্ব ভাষ্য হলো, ‘ওমর খৈয়ামের ভাবে অনুপ্রাণিত ফিটসজেরাল্ডের কবিতার যাঁরা অনুবাদ করেছেন, তাঁরা সকলেই আমার চেয়ে শক্তিশালী ও বড় কবি। কাজেই তাঁদের মতো মিষ্টি শোনাবে না হয়তো আমার এ অনুবাদ। যদি না শোনায়, সে আমার শক্তির অভাব-সাধনার অভাব, কেননা কাব্য-লোকের গুলিস্তান থেকে সঙ্গীতলোকের রাগিণী-দ্বীপে আমার দীপান্তর হয়ে গেছে। সঙ্গীত-লক্ষ্মী ও কাব্য-লক্ষ্মী দুই বোন বলেই বুঝি ওদের মধ্যেই এত রেষারেষি। একজনকে পেয়ে গেলে আরেক জন বাপের বাড়ি চলে যান। দুই জনকে খুশি করে রাখার শক্তি রবীন্দ্রনাথের মতো লোকেরই আছে। আমার সেই সম্বলও নেই, শক্তিও নেই। কাজেই আমার অক্ষমতার দরুন কেউ যেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ওমরের উপর চটে না যান।
.
নজরুল লিখেছেন, ‘ওমরের কাব্যে শারাব-সাকির ছড়াছড়ি থাকলেও তিনি জীবনে ছিলেন আশ্চর্য রকমের সংযমী। তাঁর কবিতায় যেমন ভাবের প্রগাঢ়তা, অথচ সংযমের আঁটসাঁট বাঁধুনী, তাঁর জীবনও ছিল তেমন।...তিনি মদ্যপ লম্পটের জীবন (ইচ্ছা থাকলেও) যাপন করতে পারেননি। তাছাড়া ও-ভাবে জীবনযাপন করলে গোঁড়ার দল তা লিখে রাখতেও ভুলে যেতেন না। অথচ, তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুও তা লিখে যাননি।
.
রুবাইয়াৎ নিয়ে অনেক কথা হতে পারে। হবেও অনেক কথা, কিন্তু নজরুল যেটা করে গিয়েছেন সেটা অমর। তিনি হয়ত ইতিহাসের পাতায় রুবাইয়াৎ এর ক্ষেত্রে নাম নাও পেতে পারেন। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে তিনিই সেরা। যদিও আমি অন্য কারো অনুবাদ পড়িনি। তবুও একটু না হয় পক্ষপাত দুষ্ট হলাম।

শেষ করি –

‘নগদ যা পাও হাত পেতে নাও
বাকির খাতা শূন্য থাক
দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।’’
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২১ রাত ৮:০৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।
=======================================
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যাঁরা অমর হয়ে আছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন তোফায়েল আহমেদ। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মহান... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×