দেশ বাজিকরদের হাতে : বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (০৭/১০/২০১০)।
গত বছর এক সেমিনারে সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমান উপরোক্ত মন্তব্যটি করেন। কিন্তু তিনি বলেননি বাজিকরদের হাতে এই দেশের দায়িত্ব কিভাবে গেল। কারন তিনিও এই বাজীকরদের সহযোগী ছিলেন। স্বাধীনতার পরথেকে এযাবত কালের যত সরকার ক্ষমতায় ছিল বর্তমান সময়ের মত অরাজকতা আর কখনো কি ছিল ? খুন, গুম, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দখলবাজী, টেন্ডারবাজী, দস্যুপনা, জোর জুলুম আতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। বর্তমান সময়ে দেশের সমগ্রীক অবস্থার সাথে তুলনা করতে গেলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে সেই ৭২ থেকে ৭৫ এর আমলে। তখনকার এনালগ যুগে খবরের কাগজে যে সব খবর ছাপা হয়েছিল এখন তার চাইতেও ভয়াবহ অবস্থা বলে মনে হয়। তাই আমদের নাগরিক বুদ্বিজীবিরা সরকারের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চায়।তারা আর স্বভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি পাচ্ছেন না এবং ইচ্ছা থাকলেও সাহস নেই বলে মনে হয়। তাই তাদের এই আহাজরি। কিন্তু যাদের কাছে তাদের এই আবদার তাদেরকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে দিন বদলের আওয়াজ তুলে সাধারন জন গনকে বিভ্রান্ত করে এই বুদ্বিজীবিরা এবং কিছু মিডিয়া। বিভিন্ন সভা সেমিনারে যত বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছে তা ছিল এ দেশের শান্তিপৃয় ধার্মিক সংক্ষাগরিষ্ট মুসলিম জন গনের বিরুদ্বে , পক্ষান্তরে নাস্তিকতা ও কমিউনিজমের আড়ালে চরম পন্থি ডাকাতদের সমর্থন যুগিয়েছেন। যার ফলে এখন বিভিন্ন যায়গায় পাওয়া যায় জবাই করা মস্তক বিচ্ছিন্ন বা হাত পা বিচ্ছিন্ন অজ্ঞাত মানুষের লাশ। স্বধীনতার পর ( ১৯৭২-৭৫ ব্যতিত ) এত অপমৃত্যু এত অজ্ঞাত মানুষের লাশ এদেশের মানুষকে আর কখনোকি দেখতে হয়েছিল ? এইসব বুদ্বিজীবি সুশিলরা চরমপন্থি গডফাদারদের সাথে নিয়ে স্বধীনতা যুদ্বে যারা জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশ গ্রহন করে এই দেশকে স্বাধীন করেছে তাদেরকেও স্বাধীনতা বিরোধী বলতে দ্বিধা করেনা। এসকল বুদ্বিজীবি ও সুশীলরা 'যে আওয়ামী লীগ নিজেকে বরাবর মুক্তিযুদ্ধের চ্যাম্পিয়ন ও গণতন্ত্রের সিপাহশালার দাবি করে ' মুক্তিযুদ্ধ কালীন এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের অবস্থান ও অপকর্ম সম্পর্কে তরুন সমাজ তেমন জানতনা বলে তাদেরকে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে জু্য়ারিদের হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দিতে প্ররোচিত করেছিল।
বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তববাদী দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় পূর্ববর্তী জোট সরকারের সময় সন্ত্রাস দমনে র্যাব গঠন করে সমাজ জীবনে যতটুকু স্বস্তি এনেছিল কিন্তু দূর্নিতি দমনে ব্যার্থতায় সাধারন মানুষের মনে একটা অনাস্হা তৈরী হচ্ছিল। সেই অনাস্হার সুযোগকে কাজে লাগায় এসব সুশীল ও কিছু মিডিয়া এবং ততকালিন অবৈধ তত্বাবধায়ক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সুবিধা জনক অবস্হানে থাকা আওয়ামী লীগ । যাই হোক, যে প্রচার প্ররোচনাই হোক বর্তমান সরকারী দলকে যে বিপুল আশা নিয়ে মানুষ ক্ষমতায় এনেছিল তারা এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে তাদের প্রত্যাশার সাথে এদের উদ্দেশ্যের কত বিশাল ব্যবধান। যারা বিপুল উতসাহে দিন বদলের শ্লোগানে বিভ্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগের কোন সংগঠিত কর্মীবাহিনীর কোন রকম ততপরতার ধার না ধেরেই তাদেরকে ভোট দিয়েছিল তারা এখন নিজেদের হাত কামড়াচ্ছে। এখন এই সুশীলেরা নিজেদের অপকর্ম ও ভুলের দায়ভার থেকে রক্ষা পেতে পূনরায় অপপ্রচার শুরু করেছেন। যেমন :
সেদিন তাদের একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, "ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দেশে ওসমানী রাজত্ব চাচ্ছে। আর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া চাচ্ছেন গোলাম আজমীয় শাসন। এ অবস্থা আমরা মেনে নিতে পারি না। খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট। অথচ তিনি সম্পর্ক রাখেন স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে। তিনি হচ্ছেন মৌলবাদের ‘মা’। আর সন্ত্রাসের মা হয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।"
তারা বিবেকের তাড়নার কথা বলে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলনের নামে “ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী-জনতা” সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে সাধারন মানুষ ও তাদের পছন্দের সরকার কে ছবক দিচ্ছেন । তারা বলেন এ আন্দোলন কোন দল, গোষ্ঠী বা পেশার বিরুদ্ধে নয়। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। কিন্তু তাদের কাছে যদি জানতে চাই আপনাদের ডানে বায়ে যে সকল চরমপন্থী ঘাতক ও ঘাতকদের গডফাদার রয়েছে তাদেরকে নিয়ে কিভাবে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা আশা করেন ? যেখানে সরকার নিজ দলিয় মেয়র লোকমানের মতো নেতাদের স্বভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ , উল্টো ঘাতকদের প্রশ্রয় দেয় সেখানে আপনাদের এই ততপরতা সরকারের অপকর্ম ও ব্যার্থতাকে আড়াল করতে জনগনের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য নয়তো ? পারবেন কি লোকমানের ঘাতকদের দ্রুত সময়ে গ্রেফতার করে সুষ্ঠ বিচারে বাধ্য করতে ? যে ভাবে পূর্ববর্তি সরকারের সময় তারেক জিয়া ও সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা বিবৃতিতে ঝড় বইয়ে দিতেন এখন কি পারবেন এই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নিতি ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ? পারবেন কি 'আই টি' সেক্টর সহ বিভিন্ন পর্যায়ে 'জয়ের' লুটপাট নিয়ে কথা বলতে ? দেশের স্বধীনতা সর্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে ? পারবেন কি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নিতির সমালোচনা করায় বিরোধী দলের নেতা কর্মিদের উপর যেভাবে জুলুম, অত্যাচার , মামলা , হামলা ও নিপিড়ন নেমে এসেছে তার প্রতিবাদ করতে ? জানি পারবেন না। কারন আপনাদের সেই সৎ সাহস নাই।
মানুষ এখন আর আপনাদের প্রতি আস্হা রাখেনা। মানুষ জানে এইসব সুশীলেরা চোখে চশমা এঁটে বাস্তবতাকে এড়িয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে মেতে থাকে এবং অন্যদের উপর সেই তত্ত্ব চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কমিশনের লোভে। তাই কেউ সুশীলদের কথা বললে মনে হয় ব্লগার "মশিউর মামা"র যুগোপযোগী মন্তব্য।
ব্লগার "মশিউর মামা"র যুগোপযোগী মন্তব্যটি ছিলো : "নিজের বিবেক-বুদ্ধি বিচির সাথে বাইন্ধা যেদিকে বাতাস বয় সেদিকে লিঙ্গ নাড়ানোর নাম সুশীলতা |"
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


