এ কে এম রিপন আনসারী
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম- এ খবরটা যারাই দেখেছে সবাই আত্কে উঠে প্রশ্ন করে এরাকি মানুষ? কোন সভ্য দেশে কি এরকম ঘটনা ঘটতে পারে ?
গাজীপুর: গাজীপুর পৌর এলাকার একটি কবরস্থানে লাশ ও কঙ্কাল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধীরাশ্রম এলাকার গজারীচালা নামের কবরস্থান থেকে দুর্বৃত্তরা কবর খুঁড়ে ২৩টি লাশ চুরি করে নিয়ে গেছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, চুরি হয়ে যাওয়ার লাশের কবরগুলো ঘিরে ভীড় করছে কয়েকশ’ মানুষ।
এদের মধ্যে গজারীচালা কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ আব্দুল আলী, গাজীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ জাকির হোসেন, গাছা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলহাজ পাঞ্জর আলী ও স্থানীয় সমাজসেবক আক্তারুজ্জামান বাবুল বাংলানিউজকে জানান, বেলা ১টার দিকে পথচারীদের খবরের ভিত্তিতে এবং কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সদস্য ওমর আলীর মেবাইল ফোন পেয়ে তারা কবরস্থানে আসেন।
তারা বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ২৩টি কবর খোঁড়া পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২টি কবরে লাশ নেই। কে বা কারা রাতের অন্ধকারে লাশগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে।
উমর আলী (৫৩) বাংলানিউজকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে অনেকগুলো কবর খোঁড়া দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে কবরস্থানে গিয়ে দেখি ২৩টি কবরে কোনো লাশ ও কঙ্কাল নেই।
তার ধারণা, কঙ্কাল চুরির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা দলবদ্ধভাবে রাতের অন্ধকারে এ কাজ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনা এর আগে কখনো দেখিনি, শুনিওনি কখনো। তবে আজিমপুর কবরস্থানের মতো কংকাল চুরি করতে সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের মন্তব্য।
এদিকে, যাদের লাশ চুরি হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
গজারীচালা কবরস্থানে ভাইয়ের কবরের পাশে বসা জাহের আলী (৫০) বাংলানিউজকে জানান, ৬ মাস আগে তার ভাই আহাম্মদ আলী মারা গেছেন এবং ওই কবরে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু এখন দেখেন কবর খোঁড়া, লাশ নেই।
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্বামীর কবরের পাশে থাকা আয়েশা আক্তার (৭০)।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এক বছর আগে তার স্বামী জামালউদ্দিন মারা গেছেন এবং তাকে এই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু কবরটি খুঁড়ে চোরেরা কঙ্কাল নিয়ে গেছে।
মৃত আঃ আলীর নাতি সাইফুল ইসলামের (১৯) অভিযোগ, তার দাদাকে এক বছর আগে ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু তার কবরেও কোনো লাশ বা কঙ্কাল নেই।
মাজেদা বেগম (৩৫) জানান, দেড় বছর আগে তার শাশুড়ি আয়েশা খাতুনকে ওই কবরস্থানের যে কবরে দাফন করা হয়েছিল সেখানে কোনো লাশ বা কঙ্কাল পাওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া ওই কবরস্থানে দাফন করা সালমা বেগমের কবরে লাশ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার মেয়ে মরিয়ম।
শাশুড়ি এয়ারুন্নেছার লাশ না পাওয়া বিষয়ে একই তথ্য জানান রোকসানা।
এছাড়া চাচা খালেক ও মামা ইব্রাহিমের লাশ না পেয়ে বিস্মিত মিজানুর রহমান ও কাউন্সিলর জাকির। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা।
অপরদিকে, চঞ্চলের অভিযোগ, কবরে তার মামা সেকান্দর আলীর লাশ নেই। একই অভিযোগ আঞ্জুমান আরার। তার স্বামী সুলতান মিয়া ও দুলাভাই গোলাম সাঈদের কবর লাশশূন্য। এছাড়া চাচা হুসেন আলীর কবরেও লাশ নেই বলে জানান নবীন মিয়া।
এ অবস্থায় সময় যতো যাচ্ছিল গজারীচালা কবরস্থানে ততোই বাড়ছিল দাফন করা লাশের আত্মীয়স্বজনের ভীড়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের কাছে কবরস্থানের নিরাপত্তা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
বিকেল সোয়া ৩টায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার আঃ বাতেন বাংলানিউজকে জানান, এই মাত্র সাংবাদ পেলাম। ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পৌনে ৫টায় জয়দেবপুর থানার ওসি (অপারেশন) কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ঘটনা তদন্তে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম ঘটনাস্থলে গেছেন। ফিরে এলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
স্থানীয় কাউন্সিলর জাকির হোসেন জানান, দুপুর ২টার পরপরই ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
জানুয়ারি ৩১, ২০১২
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


