গত বছর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ডাদেশ মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।আবারও খুনি বিপ্লবকে দুটি খুনের সাজা আংশিক মাফ করে দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহেরের পুত্র বিপ্লবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপিকর্মী কামাল উদ্দিনকে নিজ বাড়িতে মা-বাবার সামনে পিটিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে, ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিবিরকর্মী এ এস এম মহসিনকে বিপ্লবের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে হত্যা করে। লক্ষ্মীপুরের কামাল হত্যা ও মহসিন হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল।
এখন এই সাজা কমিয়ে ১০ বছর করেছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক আদেশে রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমার কথা জানানো হয়। সংবিবধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি চাইলে যে কাউকে ক্ষমা করতে পারেন। সুতরাং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অপরাধ মার্জনা ও দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা আইনগতভাবে বৈধ। কিন্তু কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় এর ‘অপব্যবহার’ কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ :
‘বাপরে...! আমার মরা পোলার খবর লেইখা আর কি হইবো রে বাপ? আমার পোলারে তো আর ফিরা পামু না। আল্লার কাছে বিচার দিয়া রাখছি। আমি বুড়া (বৃদ্ধ) মানুষের একখান প্রশ্ন আছিলো রাষ্ট্রপতির কাছে। তার স্ত্রীও মারা গেছিলো। আইনে আছে নাকি তিনি চাইলে সবাইকে মাফ কইরা দিতে পারেন। তার স্ত্রীর খুনিদের তিনি কি মাফ কইরা দিবেন? আমার যন্ত্রনাতো কেউ বুঝবো নারে বাপ...’ বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপিকর্মী কামালের বৃদ্ধ বাবা আলাউদ্দিন এ মন্তব্য করেন।
নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা ইসলাম ও তার স্বামীর হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দেওয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রশ্ন রেখে গণমাধ্যমকে বলেছেন, " রাষ্ট্রপতি কি তাঁর স্ত্রী আইভি রহমানের হত্যাকারীদের ক্ষমা করবেন ? "
মহসিনের বাবা আমান উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘স্বজনহারা মানুষের কষ্ট রাষ্ট্রপতি অনুভব করতে পারেন। তবে কেন রাষ্ট্রপতি সাহেব এমন খুনিকে ক্ষমা করলেন?’
স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ কে শুনবে কে দিবে তাদের প্রশ্নের জবাব ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


